তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে গত মাসে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ ‘তলপতি’ বিজয়। নিট পরীক্ষা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার কর্নাটকের উডুপি জেলায় শ্রী মুকাম্বিকা মন্দিরে গিয়েছিলেন বিজয়। সেখানে মুকাম্বিকা দেবীর আরাধনা করেন এবং দেবীর উদ্দেশে একটি রুপোর তলোয়ার উপহার দেন।
কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টিত হয়ে কর্নাটকে পৌঁছন বিজয়। তাঁর পরনে ছিল প্যান্ট-শার্ট। পুজোর সময়ে গায়ে জড়িয়ে নেন লাল উত্তরীয়। পুজোর সময়েও তাঁকে ঘিরে ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিজয়ের অভিনয়ের অনুরাগী অসংখ্য। তাই মন্দিরের বাইরে তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু অনুরাগী।
মন্দিরে পা রাখতেই মন্দির কর্তৃপক্ষের সদস্যেরা তাঁকে সাদরে স্বাগত জানান। তবে মন্দিরে ২৫ মিনিটের বেশি থাকেননি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। রুপোর তলোয়ারের সঙ্গে একটি সিল্কের শাড়ি ও ফুল দেন তিনি মুকাম্বিকা দেবীকে। মন্দির থেকে বেরোনোর আগে ফের হাতজোড় করে প্রার্থনা করেন এবং প্রসাদ খান। হাতে বেঁধে নেন একটি মাঙ্গলিক মণিবন্ধনী সূত্র। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও বিজয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার। মুকাম্বিকা দেবীর ছবি খোদাই করা একটি রুপোর থালা উপহার দেওয়া হয় বিজয়কে।
জানা গিয়েছে, বিজয়ের দেওয়া রুপোর তরোয়াল বিশেষ ভাবে রাখা হবে মন্দিরে। ১৯৭৭ সালে তামিলনাড়ুর পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামাচন্দ্রন এই মন্দিরে উপহার দিয়েছিলেন একটি সোনার তলোয়ার। সেটিও নিজের চোখে দেখেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরটি কর্নাটকে হলেও, এর সঙ্গে নাকি তামিলনাড়ুর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎপর্যপূর্ণ আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বরাবরের। তামিলনাড়ুর রাজনীতি, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের মানুষ নাকি প্রায়ই এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন।
এই তরোয়াল উপহার দিয়েছেন বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
মন্দির দর্শনের শেষে বিজয়কে কোল্লুর থেকে ম্যাঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে যেতে দেখা যায়। রাস্তার পাশে থাকা মানুষদের মধ্যেও তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিজয়ের শপথগ্রহণের এক মাস হয়ে গিয়েছে। তাই মুকাম্বিকা মন্দিরে বিজয়ের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তামিল ছবির অন্যতম বড় তারকা থেকে রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক পদে পৌঁছনো— এই সফর নিয়ে তাঁর অনুরাগীরা এখনও উচ্ছ্বসিত। এই যাত্রাপথ নিয়ে তাঁদের কৌতূহলের শেষ নেই।
আরও পড়ুন:
এ দিকে, বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘জন নায়গন’ এখনও ছাড়পত্র পায়নি। ছবিটি প্রথমে ২০২৬ সালের পোঙ্গল উৎসবে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় ছবির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ১৯ জুন মুক্তির কথা আলোচনা করা হলেও, এখনও চূড়ান্ত হয়নি কিছু। ছবিতে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, প্রকাশ রাজ, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রিয়ামণি-সহ আরও অনেকে।