তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ক্যারম খেলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা! এমনটাই অভিযোগ উঠেছে বীরভূমে। অভিযোগ, ক্যারম খেলার সময় তাঁদের পরনে ছিল বাহিনীর পোশাক। সঙ্গে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ছিলেন। সিউড়ির এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, একটি ক্যারমের বোর্ডের সামনে বেশ কয়েক জন জড়ো হয়েছেন। পাশে চেয়ারে বসে আছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত এক জওয়ান। এ ছাড়া, বোর্ড ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে স্থানীয় পাঁচ জন যুবককে। তাঁদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরও দু’জন জওয়ান। তাঁদের মধ্যে এক জন ক্যারমের ঘুঁটিতে টোকাও মেরেছেন। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক দানা বাঁধে। অভিযোগ, যেখানে ক্যারম খেলা হচ্ছিল, সেটি সিউড়ি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় এবং যাঁরা সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা দলের স্থানীয় কর্মী। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বলবৎ রয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কোনও দলের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন কী ভাবে? ক্যারমই বা খেলেন কী ভাবে? প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে এ বিষয়ে। কমিশন সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করার পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করে কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বে আর তাঁরা থাকতে পারবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার উপর বার বার জোর দিচ্ছে কমিশন। প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা টহল দিচ্ছে। এর আগে মুর্শিদাবাদের নিমতিতায় স্থানীয় তৃণমূল নেতার ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ায় সাত জন বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তার পর বীরভূমের তিন জনও বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল টিএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত