Advertisement

নবান্ন অভিযান

তৃণমূলের কার্যালয়ে ক্যারম খেলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা! তিন জনকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে ক্যারম খেলছেন। অভিযোগ, তৃণমূলের কার্যালয়ে গিয়ে ক্যারম খেলছিলেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৬
সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে ক্যারম খেলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।

সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে ক্যারম খেলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ক্যারম খেলছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা! এমনটাই অভিযোগ উঠেছে বীরভূমে। অভিযোগ, ক্যারম খেলার সময় তাঁদের পরনে ছিল বাহিনীর পোশাক। সঙ্গে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ছিলেন। সিউড়ির এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, একটি ক্যারমের বোর্ডের সামনে বেশ কয়েক জন জড়ো হয়েছেন। পাশে চেয়ারে বসে আছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত এক জওয়ান। এ ছাড়া, বোর্ড ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে স্থানীয় পাঁচ জন যুবককে। তাঁদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরও দু’জন জওয়ান। তাঁদের মধ্যে এক জন ক্যারমের ঘুঁটিতে টোকাও মেরেছেন। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক দানা বাঁধে। অভিযোগ, যেখানে ক্যারম খেলা হচ্ছিল, সেটি সিউড়ি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় এবং যাঁরা সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা দলের স্থানীয় কর্মী। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বলবৎ রয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্বে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কোনও দলের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন কী ভাবে? ক্যারমই বা খেলেন কী ভাবে? প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে এ বিষয়ে। কমিশন সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করার পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করে কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বে আর তাঁরা থাকতে পারবেন না।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার উপর বার বার জোর দিচ্ছে কমিশন। প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা টহল দিচ্ছে। এর আগে মুর্শিদাবাদের নিমতিতায় স্থানীয় তৃণমূল নেতার ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ায় সাত জন বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তার পর বীরভূমের তিন জনও বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
central forces Election Commission TMC Birbhum Suri
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy