এক জনের শখ প্রতি দিন এক কিলোমিটার হাঁটা। আর এক জনের টিফিনে চাই তেঁতুলের টক, চুনো মাছ ভাজা এবং পান্তাভাত। অন্য জনের প্রিয় লিকার চা। তবে ভাতের পাতে টক আর দিনে ১০টার বেশি দোক্তা পান ছাড়া তাঁর চলে না!
শখ বা অভ্যাসে তিন জন আলাদা হলেও তিন জনের মধ্যে মিল রয়েছে কিছু। তিন জনেরই বয়স ১১২ বছর। তিন জনই মহিলা। তিন জনের উচ্চতাই প্রায় চার ফুট। তিন জনই পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তবে আলাদা আলাদা জায়গার। ইতিমধ্যেই বাড়িতে বসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিন জনই। তবে প্রথম দফার ভোটের আগে এই তিন জনকে নিয়ে মশগুল পশ্চিম মেদিনীপুর।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ভোটার রয়েছেন ৩২৯ জন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স এই তিন মহিলারই। তাঁদের মধ্যে উষারানি মাল নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা। অন্য দু’জন ভুয়ান্তি মান্না এবং সর্বাণী মিশ্রের বাড়ি যথাক্রমে দাঁতন এবং পিংলায়।
৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের জন্য বাড়ি বাড়ি ভোটগ্রহণ শুরু হয় ১৪ এপ্রিল। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে সেই প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই বাড়িতে বসে ভোট দিয়েছেন উষারানিরা। এই উষারানি নারায়ণগড় বিধানসভার ৫৪ নম্বর বুথের ভোটার। ছয় পুত্রসন্তান তাঁর। তবে বছর সাতেক আগে বড় পুত্রকে হারিয়েছেন। ৪০ বছর আগে মারা যান স্বামীও। ছেলে, বৌমা, নাতি নাতনি এবং তাঁদের ছেলেমেয়ে নিয়ে বর্তমানে তাঁর সংসার ৩৫ জনের। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও এখনও সুস্থই রয়েছেন তিনি। তাঁর খাবারের মেনুতে থাকে মাছ, ডিম। তবে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। উষার কথায়, ‘‘প্রতি দিন সকাল বা বিকেলে পাড়ায় হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াই। আগে ভোট দিতে যেতাম, এখন আর পারি না।’’
বয়স হলেও কাউকে চিনতে সমস্যা নেই উষারানির। দাঁত এখনও শক্ত রয়েছে। তাঁর বড় নাতি, পেশায় গৃহশিক্ষক সুশান্ত বলেন, ‘‘ঠাকুমা এখনও নিজের কাজ নিজেই করেন। স্নান থেকে শুরু করে খাওয়া নিজের হাতেই করেন। আগে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতাম, এখন তো বাড়িতে বসেই ভোট দেন।’’
আরও পড়ুন:
দাঁতনের বন্ধুচকের ভুয়ান্তি কানে একটু কম শোনেন, তবে কথা এখনও স্পষ্ট, দৃষ্টিশক্তি এখনও প্রখর। লাঠির উপর ভর করে চলাফেরা করেন। তাঁর বয়স ১০০ বছর হওয়ার পর অন্নপ্রাশন করেছিল পরিবার। দাঁত পড়ে গিয়েছে। তিন মেয়ের মধ্যে এক জনকে হারিয়েছেন ভুয়ান্তি। তাঁর এক ছেলেও রয়েছে। তাঁর সংসারেই থাকেন ভুয়ান্তি। বার্ধক্যজনিত তেমন কোনও রোগ বাসা বাঁধেনি তাঁর শরীরে। গ্রামবাসীরা বাড়িতে এসে প্রতি দিনই এক বার করে দেখা করে যান তাঁর সঙ্গে। নিজের হাতেই খান। তবে খাবার পাতে মাছ চাই-ই চাই।
পিংলার পিণ্ডরুই গ্রামে বাড়ি সর্বাণীর। কানে কম শোনেন, চোখেও একটু কম দেখেন। বয়সের ভারে হাটতে পারেন না, দাঁত পড়ে গিয়েছে। তবে টক, পান্তাভাত সবচেয়ে প্রিয়। তা ছাড়া সারা দিনে লিকার চা চাই তাঁর। দোক্তা পানও চাই সর্বাণীর। তিন ছেলে, চার মেয়ের মধ্যে এক ছেলে-মেয়ে মারা গিয়েছেন। ছোট ছেলে লক্ষ্মীকান্তের সঙ্গে থাকেন তিনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত