Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে তৃণমূলের ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কমিশনের’! ফের হাই কোর্টে আইনজীবী কল্যাণ

শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৩
TMC in Calcutta High Court

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সমস্যা সৃষ্টিকারী (ট্রাবল মেকার)-দের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়ে আবার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পরেও তালিকা প্রকাশ করে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার, শেষ দফা ভোটের আগের দিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করতে অনুমতি দেয়। তার পরেই শুনানি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারির নিরিখে সবার প্রথমে পূর্ব বর্ধমান জেলা। ওই জেলায় ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৪৬ জনকে। নদিয়ায় গ্রেফতারির সংখ্যা ৩২। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছে যথাক্রমে ৪৯ জন এবং ৩১৯ জনকে।

তবে প্রথম দফা ভোটের আগে এই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্ট জানিয়েছিল গোলমাল সৃষ্টি করতে পারে (ট্রাবল মেকার) বলে দাগিয়ে দিয়ে ঢালাও গ্রেফতারি চলবে না। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে গেলেও তা আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে। একই সঙ্গে জানিয়েছিল, কমিশন যদি ঢালাও গ্রেফতারি সংক্রান্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তার উপরেও স্থগিতাদেশ জারি হচ্ছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। অন্য আইন থাকলে তার অধীনে কাজ করতে হবে। যদি আইন কোনও কাজ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করতে বলে, তবে সেটাই মানতে হবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য ছিল, “শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিক ভাবে ভুল। নাগরিকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইন অনুযায়ীই সীমিত করা যায়। কেউ যদি অপরাধ করে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে হলেও নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে।” আদালত এ-ও জানায়, এ ক্ষেত্রে কমিশন এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে, তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। ওই সময় তৃণমূলের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৯ মিনিট আগে
TMC Calcutta High Court Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy