ছোট্ট মফস্সল শহর, আর তার আরও ছোট্ট একটা পাড়া। কিছু পুরনো বাড়িঘর। দুটো-তিনটে পুকুর। একটা ক্লাব। কয়েকটা ম্রিয়মাণ দোকানপাট। এবং কিছু এলোমেলো মানুষজন। আর তাদের সবার জন্য একটা খেলার মাঠ। অরুণাচল সঙ্ঘের মাঠ। আমাদের বাড়ির সামনেই ইট-পাতা রাস্তা। আর সেটা টপকালেই সেই মাঠ। আমাদের ভাড়াবাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই মাঠের খেলা দেখা যেত। কোন খেলা? আরে আমাদের তো একটাই খেলা ছিল তখন। সব খেলার সেরা, ফুটবল!
আমাদের বাড়ি ছিল ফুটবলের বাড়ি। জেঠু-বাবা-কাকা সবাই কলকাতা মাঠে খেলেছে। এমনকি আমার ঠাকুরদা আর তার বাবাও ফুটবল খেলেছে। তাই বড় হয়ে ওঠার সেই সময়ে আমারও সবটাই ছিল ফুটবল ঘিরে। শুনেছি, বাবা আমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাকে বলত, “ভদ্রলোকের ছেলে, লেখাপড়া তো হবেই। কিন্তু ওর কি ফুটবল-টা হবে?”
বাবার শেষ জীবন কেটেছিল নিথর ডিমেনশিয়ার মধ্যে। কথা বলতে পারত না। নিজে থেকে কিছু করতেও পারত না। তাও টিভিতে খেলা চালিয়ে দিলে সেই দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত। চোখের কোল দিয়ে দিয়ে মাঝে মাঝে জল গড়িয়ে পড়ত। কেন? কিছু কি মনে পড়ত বাবার? ফুটবল কি কোনও স্মৃতি নিয়ে আসত?
ফুটবলের প্রথম স্মৃতি বলতেই আমার ১৯৮২ সালের কথা মনে পড়ে। তার বছর পাঁচেক আগে পেলে খেলে গিয়েছেন কলকাতায়। মানুষজন তখন ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নিয়ে পাগল হয়ে থাকত। মহামেডান ক্লাবকে বয়স্করা বলতেন ‘মহাস্পোর্টিং’। রেডিয়োতে বিকেলে কমেন্টারি নয়, ‘রিলে’ শোনা যেত। শোনা যেত নতুন উঠে আসা এক জন প্লেয়ারের নাম— কৃশানু দে!
আমাদের রোজকারের ডাল-ভাত, জুতো ফ্যাক্টরির সাইরেন, নিভু-নিভু দোকানের সারি আর সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনযুদ্ধের মধ্যে একমাত্র অবলম্বন আর শ্বাসবায়ু ছিল ফুটবল।
এমন একটা অবস্থায় ১৯৮২ সাল পড়তে না-পড়তে হইহই পড়ে গেল। কারণ নেহরু গোল্ড কাপ হবে কলকাতায়! ইডেন গার্ডেনসে হবে সেই সব খেলা। আর টিভিতেও নাকি দেখানো হবে!
বাঙালির কাছে তখন রেডিয়োই ছিল সব। টিভি তখনও মধ্যবিত্তের বিলাসিতা।
তাও আমাদের নানা অভাবের মধ্যে ঐশ্বর্য বলতে ছিল কাঠের বড় বাক্সের মতো সাদা কালো, ‘সোনোডাইন’ টিভি। পিকচার টিউবের সামনে নীলচে কাচের একটা কভার দেওয়া দেওয়া থাকত। কাঠের একটা শাটারও ছিল। কিন্তু সেটা ছিল ভাঙা।
তখন খুব কম বাড়িতেই টিভি ছিল। বাড়ির মাথায় লাগানো অ্যান্টেনা ছিল প্রেস্টিজের ব্যাপার। প্রথমে ছিল তিন দাঁতের অ্যান্টেনা। পরে এল পাঁচ দাঁতের। বলছি বটে তিন দাঁত, কিন্তু আসলে মাঝের অংশটা জেমস ক্লিপের মতো বাঁকানো থাকত। সেখানে একটা ছোট্ট বাক্স থাকত প্লাস্টিকের। তা থেকে তার নেমে আসত টিভি অবধি। পাড়ার কাকদের সেই প্লাস্টিকের বাক্স নিয়ে কী যে কৌতূহল থাকত! মাঝে মাঝেই ঠুকরে খুলে দিত সেটা। সঙ্গে অ্যান্টেনা ঘুরিয়েও দিত। ছবি ঝিরঝির করত। তখন এক জনকে উঠে আবার অ্যান্টেনা ঠিক করতে হত। আর নীচ থেকে চিৎকার করে নির্দেশ দেওয়া হত, “হ্যাঁ হ্যাঁ, আর একটু ঘোরা। আরে বেশি ঘুরে গেল! অন্য দিকে… হ্যাঁ… এ বার ঠিক আছে। নেমে আয়।”
নামে আমাদের হলেও আসলে টিভিটা ছিল পাড়ার সবার। সেখানে মহাসমারোহে দেখা হয়েছিল সেই নেহরু গোল্ড কাপ। উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই প্রথম টুর্নামেন্টটা। আর সেই টিমের রডরিক্স, রুসো, র্যামোস আর এঞ্জো ফ্রান্সেসকোলির নাম আমাদের মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল।
আমার বয়স তখনও ছয় হয়নি। কিন্তু আজও সেই স্মৃতি রয়ে গিয়েছে। মনে আছে ফাইনালের দিন জটিলকাকা বলেছিল, “এ আর এমন কী? সামনে এ বার ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল আসছে!”
স্মরণীয়: ১৯৮৬-তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তে দিয়েগো মারাদোনা। ছবি: গেটি ইমেজেস।
ওয়ার্ল্ড কাপ? মানে বিশ্বকাপ! ওরে বাবা, সে যে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরের জিনিস! সে আসুক, তাতে আমাদের কী?
জটিলকাকা বলেছিল, “আরে বোকা ছেলে, সারা পৃথিবী চার বছর ধরে এই একটা টুর্নামেন্টের জন্যই তো ওয়েট করে থাকে! কিছুই জানিস না! বল তো, এ বার কে চ্যাম্পিয়ান হবে?”
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কে?”
জটিলকাকা কাঁধ নাচিয়ে, তরুণকুমারের মতো হেসে বলেছিল, “জানিস না? বেজিল!”
শুধু জটিলকাকাই নয়, অনেক মানুষই ব্রাজিলকে বলত ‘বেজিল’। আর অধিকাংশ মানুষজন সাপোর্টও করত ব্রাজিলকে। তখনও ছোটখাটো শক্তপোক্ত চেহারার, ঝাঁকড়া চুলের এক জন ফুটবলারকে আমরা সেভাবে জানতামই না। শুধু খবরকাগজের নানা লেখার ফাঁকে কদাচিৎ কখনও বেরোত তাঁর নাম। দিয়েগো মারাদোনা!
জটিলকাকা ছিল আজীবনের ব্রাজিলের সাপোর্টার। জটিলকাকা সেভাবে কাজকর্ম করতে পারত না। একটা পায়ে কী যেন সমস্যা ছিল। আর মাথাটাও সব সময় স্বাভাবিক থাকত না। অনেকেই ‘পাগলা-জটিল’ নামে ডাকত। তখনও মানুষের মধ্যে ‘এভাবে বলতে নেই’-এর বোধ তৈরি হয়নি।
মনে আছে, এক বার ইউরো কাপের আগে জটিলকাকাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কী গো, কে জিতবে এ বারের ইউরো?”
জটিলকাকা চক্রবর্তী চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে চা আর লেড়ো বিস্কুট খেতে খেতে অম্লানবদনে বলেছিল, “কেন? বেজিল।”
জটিলকাকার কাছে ফুটবল মানে ছিল মোহনবাগান আর ব্রাজিল! আমরা ‘উডেন’ বাঙাল পরিবার। ইস্টবেঙ্গলের কট্টর সাপোর্টার। তাই আমার দুই কাকার সঙ্গে জটিলকাকার খুব জোর তর্ক লাগত। আর কিছু পরেই জটিলকাকা অভিশাপের ভঙ্গিতে হাত তুলে বলত, “দেখিস, এক দিন তোরা আমাদের কাছে শুধু হারবি আর হারবি!”
হ্যাঁ, জটিলকাকার ছিল রেগে গিয়ে অভিশাপ দেওয়ার বাতিক। বিরাশি সালের ওয়ার্ল্ড কাপে জটিলকাকা অভিশাপ দিয়েছিল ইটালিকে! তারা যে ‘বেজিল’-কে হারানোর মতো ‘পাপ’ করেছিল!
জটিলকাকা বলেছিল, “দেখিস, এক সময় ইটালি আর ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে পারবে না! জিকো আর সক্রেটিসের চোখের জল বৃথা যাবে না!”
এখন মনে হয়, জটিলকাকা কি মফস্সলের নস্ত্রাদামুস ছিল? আমরাই চিনতে পারিনি?
সেই ’৮২ সালে জুন মাস পড়তেই হইহই করে চলে এসেছিল বিশ্বকাপ। কিন্তু সবটাই ছিল আমাদের খবরকাগজ-বাহিত উত্তেজনা। কারণ এখনকার মতো সেই বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলা তো আমরা সরাসরি দেখতে পেতাম না। মনে আছে, সে বার চারটে ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়েছিল। দুটো সেমি ফাইনাল, থার্ড পজ়িশনের ম্যাচ আর ফাইনাল।
মায়ের কাছে শুনেছিলাম, দূরদর্শনে ১৯৭৮-এর বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটুকুই নাকি দেখিয়েছিল শুধু। বছর দুয়েকের আমি নাকি বাবার কোলে বসে, বাড়িভর্তি লোকের সঙ্গে গোটা ম্যাচ দেখেছিলাম।
মারিয়ো কেম্পেসকে দেখে আমার ঠাম্মা নাকি বলেছিল, “ছ্যামড়াটারে তো দেখতে ভাল! ওই জিতবো ঠিক, দেখিস!”
মিলে গেছিল ঠাম্মার কথা! ’৭৮-এর বিশ্বকাপ ছিল মারিয়ো কেম্পেসের বিশ্বকাপ। জিতেছিল আর্জেন্টিনা। লম্বা চুলের সুপুরুষ সেই আর্জেন্টাইন প্লেয়ার ছিল তখনকার হার্টথ্রব!
’৮২-র বিশ্বকাপ নিয়ে কী যে উত্তেজনা ছিল আমাদের! চারটে ম্যাচ দেখাবে! ভাবা যায়! মনে আছে, সন্ধেবেলা আর রাত করে দেখানো হত সেই ম্যাচগুলো। আর তখন সবার সব কাজ যেমন বন্ধ হয়ে যেত, তেমন বন্ধ হয়ে যেত দোকানপাট।
সামান্য যে-ক’টা বাড়িতে টিভি ছিল, সেখানে পাড়া-বেপাড়ার লোকজন লাইন দিয়ে বসে পড়ত!
’৭৮-এর বিশ্বকাপ যদি হয় কেম্পেস-এর, তা হলে ’৮২-র বিশ্বকাপ ছিল রোসি-র! ইটালির পাওলো রোসি-র কথা আমরা জানতাম না তার আগে। কিন্তু সেই স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে একা রোসিই গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ইটালির দিকে। সেকেন্ড রাউন্ড গ্রুপ স্টেজের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রসি। সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে করেছিলেন দুটো গোল, আর ফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে করেছিলেন একটা। মোট ছ’টা গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছিলেন তিনি!
যদিও জিকো, সক্রেটিস, প্লাতিনি, তিগানা, জিরেস, রুমেনিগের নাম আমাদের মুখে মুখে ফিরত, তাও পাওলো রোসিই ছিলেন আসল হিরো।
জয়ন্তীদি বলেছিল, “রোসিকে একদম পিন্টুদার মতো দেখতে, না?”
মাধবজেঠুর মেয়ে ছিল জয়ন্তীদি। বাংলা অনার্স নিয়ে পড়ত মুরলীধর কলেজে। ফুটবল ভালবাসত খুব। আমাদের বাড়িতে আসত খেলা দেখতে। পিন্টুদাও আসত ক্লাবের ছেলেদের সঙ্গে। পিন্টুদা ভাল ফুটবল খেলত। বেণুবীণা ক্লাবের স্ট্রাইকার পজ়িশনে খেলত পিন্টুদা। আর ওদের ছিল একটা ইলেকট্রিক্যাল গুডসের দোকান। আমাদের বাড়ির লাইট ওদের দোকান থেকেই কেনা হত। সঙ্গে ওরা ফ্যান-ট্যান সারাইয়ের কাজও করত।
’৮২ সালের ইটালি আর পোল্যান্ডের ম্যাচটাতে আমাদের বাড়ির ফিউজ় আচমকা উড়ে গিয়েছিল। ব্যস, খেলা দেখা বন্ধ। আমরা সদলে চলে গিয়েছিলাম দোতলায় আমাদের বাড়িওয়ালার ওখানে। ওদের তো কারেন্ট আছে। যায়নি শুধু পিন্টুদা। নীচে, আমাদের বাড়ির ওই বড় পোর্সেলিনের ফিউজ় সারাচ্ছিল ও। আর ওকে সঙ্গ দিচ্ছিল জয়ন্তীদি।
সে সময় ভেবেছিলাম, জয়ন্তীদিও ইলেকট্রিকের কাজ জানে! কে জানে, জানতেও পারে! ছোট্ট আমি অত বুঝি নাকি! জয়ন্তীদি নিশ্চয়ই পিন্টুদার হেল্পার! না হলে অত ঝুঁকে পড়ে আবছা অন্ধকারে পিন্টুদার সঙ্গে মাথায় মাথা লাগিয়ে কী করছে?
’৮২ থেকে ’৮৬ বিশ্বকাপে আসতে আসতে জয়ন্তীদি পিন্টুদার হেল্পারের চেয়ে অনেক বেশি কিছু হয়ে উঠেছিল। আর সেই নিয়ে দুই বাড়ির মধ্যে শুরু হয়েছিল তীব্র লড়াই!
১৯৮৬-র বিশ্বকাপে দূরদর্শনে আরও বেশি খেলা দেখানো হয়েছিল। তাই উত্তেজনা ছিল প্রবল! পাড়ায় পাড়ায় ব্রাজিলের ফ্ল্যাগ টাঙানো হয়েছিল। তখন নব্বই শতাংশ মানুষই সাপোর্ট করত ব্রাজিলকে। শুধু জয়দা ছিল পশ্চিম জার্মানির সাপোর্টার! হ্যাঁ, পশ্চিম জার্মানি। কারণ তখনও বার্লিন ওয়াল বিদ্যমান! রাশিয়া নয়, বিশ্বকাপে খেলতে যেত ইউএসএসআর!
জয়দা হল জয়ন্তীদির দাদা। ভাল চেহারা ছিল জয়দার। নিজে ফুটবল খেললেও, পাড়ার ফার্স্ট টিমে কখনও চান্স পেত না। আসলে পায়ের চেয়ে জয়দার মুখ চলত বেশি। এলাকায় ‘ঢপবাজ’ হিসেবে ওর নাম ছিল বেশ।
সেই ’৭৭-এ পেলে এসেছিলেন যখন, অনেকের মতো জয়দাও গিয়েছিল খেলা দেখতে। কাকভেজা হয়ে ফিরে এসে জয়দা নাকি বলেছিল, “পেলে তো আমাকে বললেন, তোমার মতো ফিজ়িক থাকলে আমি আরও গোল দিতাম!”
’৮৬-র বিশ্বকাপের আগে জয়দা আমায় বলল, “আরে ভেবেছিলাম ব্রিসবেন যাব, কিন্তু ওয়ার্ল্ড কাপ পড়ে গেল, তাই যাওয়া ক্যানসেল করলাম! আচ্ছা, তোর কী মনে হয় রাজা, এ বার কে জিতবে?”
আমাকে আর এর উত্তর দিতে হয়নি, কারণ পাশেই বসেছিল জটিলকাকা। জয়দা যে পশ্চিম জার্মানির সাপোর্টার সেটা জানত।
জটিলকাকা বলেছিল, “জানিস না? বেজিল! আর তুই ব্রেসব্রিজ গেছিস কোনও দিন, যে ব্রিসবেন যাবি? সারাক্ষণ মিথ্যে কথা! মিথ্যুক কোথাকার!”
জটিলকাকা, পিন্টুদা আর জয়দা, সবাই ছিল মোহনবাগানের সাপোর্টার। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় তারা প্রতিপক্ষ হয়ে উঠত।
আসলে চার বছর আমরা ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান হলেও ওয়ার্ল্ড কাপ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কিন্তু ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইটালি, স্পেন ইত্যাদি দলে ভাগ হয়ে যেতাম। পিন্টুদা ছিল জয়দার বন্ধু আর আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। তাই বিশ্বকাপ এলেই জটিলকাকা, জয়দা আর পিন্টুদার উপর ‘খিট’ খেয়ে থাকত।
আমাদের বাড়িতে পিন্টুদা প্রায় প্রতিটি ম্যাচ দেখতে আসত। আমরা এক সঙ্গে বসেই কোয়ার্টার ফাইনালে জিকোর পেনাল্টি মিস দেখেছি। ব্রাজিলের হার দেখেছি। দেখেছি মারাদোনার হাত দিয়ে করা গোল আর তার পরে মারাদোনার পা দিয়ে করা আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল!
এ-সবের মধ্যে পিন্টুদা কিন্তু একটু ম্রিয়মাণ হয়ে থাকত। কারণ আসছে শ্রাবণে যে জয়ন্তীদির বিয়ে ঠিক হয়েছে! ছেলে ভিলাই স্টিল প্লান্টে কাজ করে। ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ের পরে জয়ন্তীদি ভিলাই চলে যাবে।
আমি তত দিনে পেকে উঠছি। আস্তে আস্তে প্রেম-প্রীতির মতো কষ্টদায়ক আর গোলমেলে ব্যাপারগুলো নিয়ে আবছা আগ্রহ তৈরি হতে শুরু করেছে। ফলে পিন্টুদার ওই বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে থাকাটা আমি কিছুটা হলেও বুঝতাম। তাও পিন্টুদাকে উৎসাহ দিতে বলেছিলাম, “তুমি ফাইনালের দিন তাড়াতাড়ি চলে এসো কিন্তু। ওয়েস্ট জার্মানিকে হারাতেই হবে!”
আমি চিরকাল জার্মানির বিরুদ্ধে। জার্মানি শুনলেই কেন যেন আমার হিটলারের নামটাই মনে আসে প্রথমে। ছোটবেলাতেও সামান্য যে ক’টা গল্প শুনেছিলাম হিটলারকে নিয়ে, তাতে প্রবল একটা বিদ্বেষ তৈরি হয়েছিল তার উপর। সেটা থেকেই পশ্চিম জার্মানি নিয়েও আমার একটা বিরক্তি ছিল। আর ফুটবলেও সেটা প্রতিফলিত হয়েছিল।
কিন্তু ফাইনালে পিন্টুদা আর আমাদের বাড়িতে খেলা দেখতে আসেনি। আমরা অবাক হয়েছিলাম। পিন্টুদা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার, সেখানে খেলা দেখতে এল না!
কিন্তু নিমেষেই খেলার স্রোতে ভেসে গিয়েছিলাম আমরা। হোসে লুই ব্রাউন আর ভালদানোর দেওয়া গোলে আর্জেন্টিনা ২-০’তে এগিয়ে গেলেও, পরে পশ্চিম জার্মানি আবার দুটো গোল শোধ করে দেয়। আমি পশ্চিম জার্মানিকে পছন্দ না করলেও তারা টিম হিসেবে দারুণ। শেষ অবধি লড়াই করে। তেমন সেদিনও রুমেনিগে আর রুডি ভোলার দুটো গোল করে ম্যাচের সমতা ফিরিয়ে আনেন। চার দিকে কী হয়-কী হয় ভাব!
সারা পৃথিবীর মতো আমাদের ওই ছোট্ট পাড়াও কাঁপছিল উত্তেজনায়! এ বার কী হবে? ফুটবল-ঈশ্বরের বরপুত্র যে এই ম্যাচে খেলতেই পারছেন না! লোথার ম্যাথিউস যে মারাদোনাকে একদম কড়া মার্কিংয়ে রেখেছেন! কোয়ার্টার ফাইনাল আর সেমিফাইনালের সেই মারাদোনা কই? পশ্চিম জার্মানির কোচ বেকেনবাউয়ার মারাদোনার পিছনে যে পুলিশম্যান লাগিয়েছেন! আদ্যন্ত ব্রাজিল আমি সেই রাতে কিন্তু আর্জেন্টিনাকে সাপোর্ট করেছিলাম। পশ্চিম জার্মানি জিতে যাবে? এ হয় নাকি?
হয় না। কারণ মারাদোনা ছিলেন যে। সারা ম্যাচ ম্যাথিউস মারাদোনাকে বন্দি করে রাখলেও মারাদোনা একটামাত্র সুযোগ পেয়েছিলেন। মাঝমাঠে তাঁকে তিন জন জার্মান প্লেয়ার ঘিরে থাকলেও তিনি তাঁদের মধ্যে থেকে নিঁখুত পাস বাড়িয়েছিলেন ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা বুরুচাগাকে! বলটা ধরে অনেকটা টেনে নিয়ে গিয়ে এক জন ডিফেন্ডারকে পাশে নিয়েও বুরুচাগা গোল দিতে ভুল করেননি!
মনে আছে, সেই রাতে অনেক বাজি ফেটেছিল। লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল। আমাদের অরুণাচল ক্লাবের সামনে ইট সাজিয়ে লেখা হয়েছিল ‘মারাদোনা’!
কিন্তু গোলমাল বাধে পরের দিন সকালে। জয়দার বাড়িতে বিশাল হইচই! কী? না, গতকাল সবাই যখন ফাইনাল খেলা দেখতে মত্ত, তখন জয়ন্তীদি নিঃশব্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পিন্টুদার সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে! মানে ওদিকে বুরুচাগা গোল দিয়েছে, এদিকে পিন্টুদা!
দুই বাড়ির মধ্যে ঝগড়া হাতাহাতির দিকে পৌঁছল। জয়ন্তীদির বাবা বলল, “আমি ওই মেয়েকে ত্যাজ্য-কন্যা করলাম! ওর মুখ আর দেখব না!”
জয়দা সারা দিন সিরিয়াস মুখ করে ঘুরলেও সন্ধেবেলা আমার দাদুর দোকানে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “দু’বছর আগে নেহরু গোল্ড কাপে যখন বুরুচাগা এসেছিল না এখানে, ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। ওকে বলেছিলাম তোমার স্পিড বাড়াও, দেখবে এক দিন ফল পাবে। দেখলি, পেল তো?”
জটিলকাকা একটা গালি দিয়ে বলেছিল, “বুরুচাগা! তুই! ওকে বিলার্দো শেখায়নি, তুই শিখিয়েছিস? শালা, বোন পালিয়েছে! এদিকে তুই ঢপ মেরে বেড়াচ্ছিস! তোর ওয়েস্ট জার্মানি তো ডাবল হারল রে গাধা!”
ছিয়াশি থেকে নব্বই আসতে আসতে জীবন বদলে গেল আমূল। অরুণাচল মাঠ প্লট করে বিক্রি হয়ে গেল। তাতে বাড়ি উঠল অনেক। জটিলকাকা বন্ধ লেভেল ক্রসিংয়ের তলা দিয়ে গলে লাইন পার করতে গিয়ে কাটা পড়ল ট্রেনে। পিন্টুদাদের সেই দোকান বন্ধ হয়ে গেলেও জয়ন্তীদির বাড়ির সবাই মেনে নিল পিন্টুদাকে। আর প্রায় সব বাড়িতে টিভি এসে যাওয়ায় সেই সবাই মিলে এক সঙ্গে বসে খেলা দেখাও বন্ধই হয়ে গেল একেবারে। এবং আমরাও মফফ্সলের পাট চুকিয়ে চলে এলাম কলকাতায়।
‘ইটালিয়া নাইন্টি’! নব্বইয়ের বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা বেড়েছিল আরও। কলকাতার নানা পাড়া সেজে উঠেছিল বিভিন্ন দেশের ফ্ল্যাগে। ব্রাজিলের সাপোর্টার হিসেবে আমি ভেবেছিলাম, এ বার কি ব্রাজিল জিতবে? সেই কবে সত্তর সালে শেষ জিতেছে বিশ্বকাপ। তখন আমি জন্মাইনি। তার পর তো আর জেতেনি! আমি কি দেখতে পাব না ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়?
তত দিনে আমাদের বাড়িতে রঙিন টেলিভিশন চলে এসেছে। আমাদের বৃদ্ধ ‘সোনোডাইন’ রিটায়ার করেছে। ঝলমলে রঙে আমি আর বাবা বসে সেই বিশ্বকাপ দেখেছিলাম। মাত্র আমরা দু’জন দেখেছিলাম! প্রযুক্তির প্রসার মানুষকে একা করতে শুরু করে দিয়েছিল।
না, ব্রাজিল সে বারও পারেনি। আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গিয়েছিল। আর্জেন্টিনাও ফাইনালে হেরে গিয়েছিল পশ্চিম জার্মানির কাছে। ক্লান্ত, পরাজিত মারাদোনার মুখ দেখে কষ্ট হয়েছিল আমার। হ্যাঁ, আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার, কিন্তু আমি যে মারাদোনারও সাপোর্টার! যে অমন খেলে তাকে ভাল না বেসে কি পারা যায়? তাই মারাদোনার হার যেন কতকটা আমার নিজেরও হার বলে মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম, পরের বছর? পরের বার কি মারাদোনা আবার পারবেন?
টমদা বলেছিল, “আরামসে পারবে! নাইন্টি ফোরে আবার দেখবি আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে।”
টমদা মানে তমোনাশ রায়। আমাদের পাড়ার উকিলবাড়ির ছেলে। টমদা নিজেও তখন সদ্য ওকালতি পাশ করে নিজেদের ফার্মে জয়েন করেছে। বিশাল বড়লোক ছিল ওরা। ওদের চারতলা বিশাল বাড়িতে আমি অনেক বার গিয়েছি। ওদের ছাদে ফুটবলও খেলেছি।
টমদার ওকালতির চেয়ে ওই ফুটবলেই মন ছিল বেশি। ইস্টবেঙ্গলের সাপোর্টার টমদা সব ম্যাচে মাঠে যেত। নিজেও টুকটাক খেলত। টমদা প্রেমে পড়েছিল রিনাদির। রিনাদির মাসতুতো দাদা কলকাতা মাঠে খেলত। সেকেন্ড ডিভিশনে। রিনাদি নিজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ত। খুব গম্ভীর আর রাগীছিল মেয়েটা। আমাকে মাঝে মাঝে অঙ্ক দেখিয়ে দিত। আর ভুল করলেই খুব বকত। আর একদম অকারণে বলত, “টমের সঙ্গে মিশলে কিচ্ছু অঙ্ক শিখতে পারবি না।”
রিনাদি ছিল অপূর্ব সুন্দরী। টমদার সঙ্গে আরও বহু ফ্যান ছিল রিনাদির। কিন্তু কেউই টমদার মতো অত ‘সিনসিয়ার’ ছিল না। আমার মনে আছে, নব্বইয়ের বিশ্বকাপের ফাইনালের দিন রিনাদির বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। শিশুমঙ্গলের পাশের একটা নার্সিং হোমে রিনাদির বাবাকে ভর্তি করা হয়। টমদা খেলা ফেলে রেখে সারা রাত সেই নার্সিং হোমে রিনাদি আর ওর মায়ের সঙ্গে বসে ছিল।
আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলছে আর টমদা দেখছে না! পরের দিন জিজ্ঞাসা করায় টমদা বলেছিল, “রিনার জন্য আমি সব ছাড়তে পারি!”
’৯৪-এর বিশ্বকাপ আসতে আসতে আমরা আমাদের নিজেদের বাড়িতে উঠে এসেছিলাম। আর টমদার জন্য রিনাদির মনও নরম হয়ে গিয়েছিল একদম। তত দিনে টমদার কাজকম্ম ভালই জমে উঠেছে। রিনাদিও চাকরি পেয়েছে। অসুস্থ বাবা শয্যাশায়ী থাকায় রিনাদির উপরেই ওদের গোটা সংসার তখন। কিন্তু তাও রিনাদির মতো মেয়েও অনেক হাসিখুশি হয়েছে। প্রেমের ক্ষমতা যে অসীম!
আমরা ভেবেছিলাম, এ বার ওদের বিয়ে হবে। দুই বাড়ির মধ্যে কথা প্রায় পাকা। শুনেছিলাম, সামনের বছর ফেব্রুয়ারিতে একটা দিন মোটামুটি ঠিকও হয়েছে।
আমি এক দিন ইয়ার্কি মেরে রিনাদিকে বলেছিলাম, “আমাকে মিশতে বারণ করে এখন নিজেই বিয়ে করছ! বাঃ!”
রিনাদি ছদ্ম-গাম্ভীর্যে বলেছিল, “তোর মেশা বারণ। আমার তো নয়।”
দুটো বিশ্বকাপের মাঝের চার বছরে মানুষ কতই না পাল্টে যেতে পারে!
আমার সারা জীবনের আশা মিটিয়ে ব্রাজিল জিতেছিল ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপ। বেবেতো, রোমারিয়ো, তাফারেল, ব্রাঙ্কোর ব্রাজিল প্রচুর খেটেখুটে জিতেছিল সে বার। আমার স্কুলের দুই বন্ধু সৈকত আর প্রতীক এসেছিল আমাদের বাড়িতে খেলা দেখা দেখতে। টাইব্রেকারে রবের্তো বাজ্জিয়োর পেনাল্টি মিস আজ ইতিহাস! মারাদোনা, জিকো, প্লাতিনি, বাজ্জিয়ো, মেসি সবাই বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করেছেন। এ যেন বিশ্বকাপের এক অলিখিত অভিশাপ!
ব্রাজিলের জয় দেখতে দেখতে আমার কিন্তু মনে পড়েছিল জটিলকাকার কথা! যেন শুনতে পাচ্ছিলাম ওর গলা, “কী রে রাজা, দেখলি তো বেজিল পারল কি না!”
কষ্ট হয়েছিল ভেবে যে, জটিলকাকা ব্রাজিলের জয় দেখে যেতে পারল না।
টমদা সে বার বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছিল আমেরিকায়। সেখানে ওর বাবার বন্ধুর বাড়ি। গোটা টুর্নামেন্ট কাটিয়ে ফিরেছিল টমদা। অন্য এক টমদা!
আটানব্বইয়ের বিশ্বকাপ আসতে আসতে জীবন পাল্টে গিয়েছিল আরও। টিভিতে আরও উন্নত ট্রান্সমিশন। আরও বিজ্ঞাপনের ঝলসানি। বিশ্বকাপ নিয়ে আরও, আরও মাতামাতি। সব মিলিয়ে আমাদের মতো ফুটবল ভালবাসে যারা, তাদের জন্য সোনায় সোহাগা!
কিন্তু জীবন পাল্টেছিল আর এক দিকেও। টমদার সঙ্গে তত দিনে আর সে ভাবে দেখাসাক্ষাৎ হয় না আমার। কারণ টমদা যে বস্টনে থাকে।
সে বার বিশ্বকাপের আগে টমদা কলকাতায় ফিরেছিল। সঙ্গে ঋতুদি আর ওদের ছেলে জিকো।
না, রিনাদিকে বিয়ে করেনি টমদা। ’৯৪-এর বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে বাবার সেই বন্ধুর মেয়ে ঋতুপর্ণা বসুর প্রেমে পড়েছিল টমদা। হৃদয় পাল্টেছিল দফতর! আমাদের সবাইকে অবাক করে দু’বছর পরে সেই ঋতুদিকে বিয়ে করেছিল টমদা! আর রিনাদি ফিরে গিয়েছিল নিজের রাগী আর গম্ভীর জীবনে।
আমি কোনও দিনই কারও কাছে কৈফিয়ত চাই না। টমদার কাছেও তাই জানতে চাইনি কী হল হঠাৎ।
কিন্তু টমদা হয়তো আমার মুখ দেখে আন্দাজ করেছিল কিছু। তাই নিজেই বলেছিল, “বিশ্বকাপটা না-এলে আমি বুঝতে পারতাম না আমি ঠিক কী চাই! সত্যি, চার বছরে জীবন কত পাল্টে যায়!”
পাল্টে যায়, জীবন পাল্টে যায়! অরুণাচল মাঠ বিক্রি হয়ে যায়। অ্যান্টেনা পরিত্যক্ত হয় কেব্লের চাপে। রিনাদি আর বিয়ে করে না সারা জীবন। মনের মানুষ মিলিয়ে যায় হাওয়ায়। একটা বিশ্বকাপ থেকে অন্য বিশ্বকাপে যেতে যেতে কখনও হারিয়ে যায় ঠাম্মা, কখনও দাদু, কখনও মা! আবার কখনও হারিয়ে যায় সেজকাকা, পিসেমশাই, বড় জেঠু! আর এ বার বিশ্বকাপের কিছু আগে বাবাও চলে গেল!
বিশ্বকাপ ঝলমল করেছে যত, আমার ঘরের টিভির পর্দা বড় হয়েছে যত, তত যেন একা হয়েছি আমি। আমরা! এখন জোর করে আনন্দ করতে হয় আমাদের! যত না আনন্দ হয়, তার চেয়ে বেশি দেখাতে হয় যেন!
আসলে আজও বিশ্বকাপ এলে আমার মনে পড়ে আমাদের মফস্সলের সেই এক মুঠো বাড়িটির কথা। মনে পড়ে আমাদের শাটার-ভাঙা সাদা-কালো টিভি। জেমস ক্লিপের মতো প্যাঁচ খাওয়া অ্যান্টেনা। মনে পড়ে পিন্টুদা, জয়দা, জয়ন্তীদির কথা। মনে পড়ে জটিলকাকার হাসি। সেই সময়ে আমাদের প্রায় কিছুই ছিল না, কিন্তু আসলে সব কিছু ছিল! তখন বিশ্বকাপ ছিল এক পারিবারিক উৎসব। ফুটবল ছিল আমাদের মধ্যেকার অদৃশ্য বন্ধন! পরাস্ত মানুষের ঘুরে দাঁড়াবার জায়গা।
এখন একলা ঘরে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে বসে দেখি, মেসি অনায়াসে ছিঁড়ে ফেলছেন বিপক্ষের ডিফেন্স! রোনাল্ডো শট নিচ্ছেন আগুনের মতো! নেইমার দেখাচ্ছেন ড্রিবলিং-এর ম্যাজিক। মুগ্ধতা আর ভাল-লাগার মাঝেও হঠাৎ কেমন যেন অদ্ভুত এক কষ্ট হয়। চোখে জল আসে।
মনে হয়, সব থেকেও কী যেন আর নেই!
মনে হয়, সবার সঙ্গে ভাগ করতে না পারলে এ আনন্দ কিসের আনন্দ!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)