E-Paper

দেখা হবে

এগারোটা থেকে ভিজ়িটিং আওয়ার্স। অ্যাক্সিডেন্টের দু’দিন বাদে নন্দা ফোন করেছিল মনোতোষকে। ফোন অনেকক্ষণ বেজে যাওয়ার পর কেউ ধরল না দেখে একটু সময় বাদে আবার ফোন করল নন্দা।

বিপুল দাস

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:৫৫
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

পূর্বানুবৃত্তি: নিউ গ্রাহাম টি এস্টেটে থাকতে থাকতেই রামপ্রিয় ডাক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর নেপালি রাঁধুনি মনমায়ার। স্ত্রী চন্দ্রাকে নিয়ে অতৃপ্তি ছিল রামপ্রিয় ডাক্তারের মনে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে প্রাণোচ্ছল মনমায়া। বাড়ি যাওয়া কমিয়ে দেন রামপ্রিয় ডাক্তার। টান ছিল না স্ত্রীর দিক থেকেও। কোনও অনুষ্ঠান বা প্রয়োজন থাকলে তবেই যেতেন। চন্দ্রা কোনও দিন তাঁকে রাতে থেকে যেতে বলেননি। বরং ছেলে শিবু কখনও কখনও গল্প শুনতে চেয়ে তাঁকে থেকে যেতে বলত। নেপালি রাঁধুনির সঙ্গে সান্যাল ডাক্তারের সম্পর্কের কথা অঞ্চলের সবাই জেনে গিয়েছিল। খবর পৌঁছেছিল তাঁর বাড়ি পলাশগুড়িতেও। তখন চন্দ্রার বাতিকগ্রস্ততা চরম পর্যায়ে। সব জানতে পেরে চন্দ্রা খুব নোংরা ভাষায় অভিশাপ দিয়েছিল ডাক্তারবাবুকে।


সেই আশ্চর্য রাতে যেন আর নিজের মধ্যে ছিলেন না রামপ্রিয় ডাক্তার। পরে অনেকেই বলেছিল, কুয়াশামাখা সেই রাতে হাতি চলে যাওয়ার পর, তারা ডাক্তারবাবুর বাংলো থেকে অদ্ভুত গর্জন শুনেছিল। কখনও মনে হচ্ছিল হাতির ডাক, কখনও বাঘের ডাক।

নার্সিং-হোমের কেবিনে মনোতোষের মাথার কাছে বসে ছিল নন্দা। কড়া ইঞ্জেকশনে হাত আর পায়ের ক্ষতগুলো অনেকটাই শুকিয়ে এসেছে। মাথার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট এসেছে। ব্লাড-ক্লট যতটুকু আছে, ওষুধেই মিলিয়ে যাবে। অপারেশনের দরকার নেই। যদি দরকার মনে হয়, পরে একটা এমআরআই করা যেতে পারে। পাঁজরের কোনও হাড় ভাঙেনি, ভারী একটা জ্যাকেট পরে থাকায় অনেকটা বাঁচোয়া। নইলে বুকের চামড়া মাংস-সহ খাবলা খাবলা উঠে যেত। হাড়ে চিড় ধরতে পারত।

সেদিনের অ্যাক্সিডেন্টের কথা যখনই মনে পড়ছে, মনোতোষের ডান পায়ের থাই থেকে একটা শিরশিরে অনুভূতি নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সিস্টার বলেছে, ওখান থেকে অজস্র ছোট ছোট পাথরের কুচি খুঁটে খুঁটে বার করা হয়েছে। সে যদিও ওটি-তে ছিল না, কিন্তু মেট্রনের কাছে শুনেছে। মনোতোষ যে এখনও বেঁচে আছে, এটা নাকি লটারিতে ফার্স্ট প্রাইজ় পাওয়ার মতো ব্যাপার। সমস্ত শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল।

এক সেকেন্ডের জন্য গাড়িটা দেখতে পেয়েছিল মনোতোষ। একেবারে যখন তার স্কুটারের প্রায় সামনাসামনি এসে গেছে, হয়তো প্রতিবর্ত ক্রিয়াতেই সামান্য পাশে সরে গিয়েছিল। নইলে মুখোমুখি হয়ে তাদের দু’জন ওখানেই শেষ হয়ে যেত। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে মনোতোষ জানে, তীব্র গতিতে চলা দুটো বস্তুর মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রচণ্ড অভিঘাত তৈরি হয়। একটা উড়ন্ত পাখির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে একটা বিরাট প্লেনও ভেঙে পড়তে পারে। সাদা একটা এসইউভি মুহূর্তের জন্য দেখেছিল সে। আর কিছু দেখতে পায়নি। নিপু মণ্ডল শূন্যে উড়ে গিয়ে পথের পাশে নালায় পড়েছিল। নরম মাটির উপর। সে ভেবেছিল, স্যর নিশ্চয় মরে গেছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল স্যরের জামাকাপড়। মাথা থেকে হেলমেট খুলে একটু দূরে পড়েছিল। হাঁচোড়পাঁচোড় করে নালা থেকে উঠে এসেছিল নিপু। শিলিগুড়িতে ফোন করেছিল। স্কুলের হেডস্যরকে। ইস! গাড়ির নম্বরটা দেখা হয়নি। থানায় ডায়েরি করতে হলেও, ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও বিমা কোম্পানি সেই গাড়ির নম্বর চাইতে পারে। আর কাকে খবর দেবে, বুঝতে পারেনি নৃপেন। শিলিগুড়িতে মনোতোষ স্যর একা থাকেন মজুমদার কলোনিতে— এটুকুই সে জানে। লোকজন তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়েছিল। হেডস্যর তার মারুতি নিয়ে এসেছিলেন। স্টেডিয়ামের পাশের নার্সিং হোমে তাকে ভর্তি করা হল।

এগারোটা থেকে ভিজ়িটিং আওয়ার্স। অ্যাক্সিডেন্টের দু’দিন বাদে নন্দা ফোন করেছিল মনোতোষকে। ফোন অনেকক্ষণ বেজে যাওয়ার পর কেউ ধরল না দেখে একটু সময় বাদে আবার ফোন করল নন্দা। এখন সন্ধেবেলা, স্কুলে থাকার কথা নয় মনোতোষের। ফোন বাড়িতে রেখে বেরিয়েছে হয়তো। বাথরুমেও যেতে পারে। আসলে তার শাশুড়ির ব্যাপারে কথা বলার দরকার ছিল। তার নিজের ছেলের মায়ের ব্যাপারে কোনও হুঁশ নেই। অথচ বাড়িতে এই মহিলাকে নিয়ে কেউ আর থাকতে পারছে না। অনেক আগেই ডাক্তার দেখানো উচিত ছিল। কেউ গা করেনি। কে করবে? তাঁর নিজের স্বামী আর কোনও দিন এ বাড়িতে ফিরে আসবে না, নন্দা জানে। এ রকম বৌ নিয়ে ঘর করা ওই রকম আধুনিক চিন্তাভাবনার মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। বিয়ের সময় তার শ্বশুরকে দেখেছিল নন্দা। তার পর বোধহয় বার তিনেক। বয়স হয়েছে, তাও কী আশ্চর্য সুন্দর মানুষটার চেহারা। বিয়ের আগেই শিবু তার বাবার কথা খোলাখুলি সব বলেছিল। রোমান্টিক লোকটাকে দেখার জন্য খুব কৌতূহল ছিল নন্দার। রোমান্টিক নায়কের মতোই চেহারা। আহা, এখনও অল্পবয়সিরাও প্রেমে পড়ে যাবে।

নন্দা প্রণাম করলে শ্বশুরমশাই তার চিবুক ধরে একটি কথা শুধু বলেছিলেন, “গান জানো তুমি?”

মাথা নেড়েছিল নন্দা।

“বেশ, একদিন শুনিয়ো। পুরনো দিনের গান।”

সেই স্পর্শটুকু খুব ভাল লেগেছিল নন্দার। ইস! লোকটা আরও অনেক কমবয়সি হল না কেন। এর সঙ্গে নিশ্চিন্তে পালিয়ে যাওয়া যায়। তার শাশুড়ি-মায়ের সঙ্গে একেবারেই মিসম্যাচড হয়েছে। অবশ্য তারই বা কী এমন ম্যাচিং হয়েছে! শিবুর উচিত ছিল একটা মেছোপেতনিকে বিয়ে করা।

পলাশগুড়ির বাড়িতে অনেক ঘর। লোকজনের আনাগোনাও বেশি। এদের জমিজমা আছে। ধান ওঠে ভালই। সিজ়নের শাক-তরকারি, আনাজপাতি। সে সব কাজের লোক অহরহই আসা-যাওয়া করে। মন্দিরেও বাইরের লোক আসে। যাকে বলে ধানিপানি গেরস্ত। দূরসম্পর্কের আত্মীয় আছে একঘর। এ বাড়িতে থেকেই মনোতোষ হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করেছে। একটা ঘর বন্ধ থাকে। তার শ্বশুরমশাইয়ের ঘর ছিল। তালাবন্ধ থাকে সব সময়।

একদিন কথা নেই, বার্তা নেই, আচমকা ঠাকুরঘর থেকে বেরিয়ে এলেন ওর শাশুড়ি-মা। শরীরে জামাকাপড়ের ঠিক নেই। কেমন যেন পাগল-পাগল উদ্‌ভ্রান্তের মতো চেহারা। কোথা থেকে একটা পুরনো চাবি এনে দরজার তালা খুললেন। ভিতরে ঢুকে রামপ্রিয় সান্যালের যত বই ছিল আলমারিতে, সব ছুড়ে ছুড়ে বাইরে ফেলে দিলেন। তার সামনে কেউ যেতে পারছিল না। লজ্জায় সবাই সরে পড়ছিল। অশ্রাব্য নোংরা গালাগালির তুফান ছুটছিল তাঁর মুখে। নন্দা এক বার চেষ্টা করেছিল বইগুলো সরিয়ে আনতে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল সব অ্যাস্ট্রনমির বই। কিছু ইংরেজি, কিছু বাংলা। ‘আ টেক্সট বুক অব অ্যাস্ট্রনমি’, ‘কসমস’, ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব স্পেস’, ‘টু ইনফিনিটি অ্যান্ড বিয়ন্ড’। নন্দা বুঝতে পারছিল, খুবই দামি বই এগুলো। নন্দা জানত না তার শ্বশুরমশাইয়ের এ-সব বই পড়ার অভ্যাস আছে। আলমারিতে যত্নে সাজিয়ে রেখেছিলেন, এগুলো তিনি নিশ্চয় পড়তেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্য নিয়েও তার আগ্রহ ছিল—অবাক হয়ে ভাবল নন্দা। দামি বইগুলো নষ্ট হতে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছিল তার। কিন্তু সামনে যেতেই এমন কুৎসিত খারাপ কথা তিনি বলতে শুরু করলেন যে, নন্দা পালিয়ে বাঁচল। তার পর ভয়ঙ্কর আক্রোশে বইগুলো কুটিকুটি করে ছেঁড়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পেপারব্যাকগুলো ছিঁড়তে পারলেও হার্ড বাউন্ডগুলো চেষ্টা করেও ছিঁড়তে পারছিলেন না। রাগ যেন আরও বেড়ে যাচ্ছিল। সেই সঙ্গে নোংরা কথার স্রোত। শেষে ঘর থেকে এক বোতল কেরোসিন তেল এনে সমস্ত বইয়ে ছড়িয়ে দিয়ে দেশলাইকাঠি জ্বালিয়ে দিলেন। দাউদাউ করে মহাকাশের রহস্য নীল ধোঁয়া হয়ে মহাকাশের দিকে ভেসে গেল। কয়েক জন বাইরের লোকও ছিল। তারা পরে হাসাহাসি করেছিল যে, কিছু নতুন কথা আজ তারা শিখেছে। ডাক্তারবাবুর বৌ পুরো পাগল। নইলে নিজের স্বামীর নামে কেউ ওই কথা বলতে পারে! লম্পট, লুচ্চা, হারামি তো সাধারণ কথা। তারাও কোনও দিন শোনেনি, এমন অসভ্য কথাও সবার সামনে কী ভাবে বললেন! অনেক আগেই ডাক্তার দেখানো উচিত ছিল।

এ-সব করেও তাঁর মাথা ঠান্ডা হচ্ছিল না। তখন সেই মহিলা ঘরে ঢুকে কিছু পুরনো রেকর্ড কোথা থেকে খুঁজেপেতে বার করে আনলেন। তার পর প্রবল ঘৃণায় সেগুলো আকাশের দিকে ছুড়ে দিতে লাগলেন। সুদর্শন চক্রের মতো সেগুলো সাঁই সাঁই করে উড়ে যেতে লাগল।

ভাল এক জন সাইকিয়াট্রিস্টের খোঁজ নেওয়ার জন্য মনোতোষের সঙ্গে কথা বলা দরকার। শিবু নেই, অফিসের কাজে এক সপ্তাহ আগে দার্জিলিং গেছে। থাকলেও তাকে দিয়ে কিছু হত না। শুনেই বলত, ‘আমি কিছু জানি না, যা করার তুমি করো।’

তাই করবে এক দিন নন্দা।

প্রথম বার মনোতোষের ফোন বেজে গেলেও কেউ ধরেনি। দ্বিতীয় বার ফোনে এক জন মহিলার গলা শুনে নন্দা অবাক হয়ে গেল। মন্টুর ঘরে মহিলা এল কোথা থেকে! বুকটা কেন যেন একটু কেঁপে উঠল। কার গলা, কে এসেছে মন্টুর ঘরে!

“হ্যালো, আপনি কে বলছেন? আমি একটু মনোতোষ লাহিড়ির সঙ্গে কথা বলতে চাই। উনি কি কাছাকাছি আছেন? থাকলে ফোনটা একটু দিন না।”

“ও, উনি তো বেডে আছেন। শিলিগুড়ির সিনহা নার্সিং হোমে। ওঁর সিরিয়াস অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল। এখন আউট অব ডেঞ্জার।”

হাত কেঁপে উঠল নন্দার। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আর সে কিছুই জানে না। পলাশগুড়িতে মন্টুর পুরনো বন্ধুরা রয়েছে। তাদের কেউ নিশ্চয়ই জানে। নন্দাকে এক বার কেউ জানাল না! কী ভাবে, কোথায় অ্যাক্সিডেন্ট করল!... মনোতোষের উপর ভীষণ রাগ হচ্ছিল তার। একা থাকে, তার কি উচিত ছিল না কারও কাছে নন্দার নম্বর দিয়ে রাখা!

“কোন ফ্লোরে, কত নম্বর বেড, আপনাদের ভিজ়িটিং আওয়ার ক’টা থেকে?”

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলল নন্দা। আজ, এখনই তার দৌড়ে যেতে ইচ্ছে করছে। তার চোখে জল এসেছে, বুঝতে পারল। গলা ধরে এসেছে।

“থার্ড ফ্লোর, ম্যাম। বেড নাম্বার তিনশো তিন। ভিজ়িটিং আওয়ার্স ইজ় ফ্রম ইলেভেন এএম টু টুয়েলভ। সন্ধ্যায় সাতটা থেকে আটটা।”

“ওকে। থ্যাঙ্ক ইউ।”

ফোন বন্ধ করে শাড়ি ছেড়ে দ্রুত সালোয়ার-কামিজ পরে নিল। সামান্য প্রসাধন সেরে একটা হুডি-দেওয়া জ্যাকেট পরল। শাল নিল সঙ্গে। ব্যাগে কিছু টাকা আর ডেবিট কার্ড নিয়ে অটো ধরল বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য। রাগ হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে উজবুকটার জন্য।

জানালা দিয়ে স্টেডিয়ামের মাঠে খেলা দেখছিল মনোতোষ। সাদা শার্ট-প্যান্ট, সবার মাথায় সাদা টুপি। দর্শক খুব সামান্য। লোকাল ক্লাবের খেলা বোধহয়। খেলা দেখতে দেখতে তার বকুলডাঙা ক্লাবের কথা মনে পড়ছিল। আজ স্কুল থেকে দু’জন ছাত্র এসেছিল স্যরকে দেখতে। কয়েক জন তো রোজই আসছে। ডাক্তার, নার্সদের সঙ্গে কথা বলে তার শরীরের খবর নিচ্ছে। মনোতোষ জানে, ওরা কয়েক দিন আসবে। তার পর সবাই যে যার নিজের জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। একটু আগে সিস্টার এসে একটা ইঞ্জেকশন দিয়েছে। জ্বর, শুগার মেপেছে, ইউরিন ঠিকঠাক হচ্ছে কি না খোঁজ নিয়েছে। পায়ের কাছে ঝোলানো চার্টে লিখেছে। সকালে এক বার, রাতে শোয়ার সময় এই মেয়েটাই তার ক্ষতস্থানগুলোয় মলম লাগিয়ে দেয়। খুব হাসিখুশি মেয়েটা, জিনা তামাং।

মনোতোষ প্রথমে শুনে জিজ্ঞেস করেছিল, “জিনাত আমন?”

হেসে ফেলেছিল মেয়েটা। আলাদা আলাদা করে উচ্চারণ করেছিল— জিনা তামাং। কী নিখুঁত মেয়েটার দাঁতের সারি! গালদুটো পাকা আপেলের মতো লাল। তার শরীর থেকে কম্বল সরে গেলে আবার ঠিক করে ঢেকে দেয়। অন্য স্যরদের কথা শুনে, ছাত্রদের দেখে বুঝতে পেরেছে, পেশেন্ট এক জন টিচার। তার দাদাও কালিম্পংয়ের একটা স্কুলের টিচার। জ্ঞান তামাং। তার যমজ ছেলে। সুরজ আর মনীশ। ভয়ানক দুরন্ত। তাদের মা দুটোকে সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। ছুটিতে জিনা দাদার ছেলেদের জন্য জন্য হংকং মার্কেট থেকে টয় নিয়ে যায়। ফুফুকে ওরা খুব ভালবাসে। এই তিন-চার দিনেই বাড়ির সব গল্প করা হয়ে গেছে তার। মনোতোষকে প্রথমে আঙ্কল-আঙ্কল বলত, এখন স্যর বলে।

জিনার ধমক শুনে খেলা দেখা ছেড়ে বাধ্য ছেলের মতো আবার নিজের বেডে এসে শুয়েছে মনোতোষ। জিনাই ধরে ধরে এনে সাবধানে শুইয়ে দিয়েছে। দরজা খোলার শব্দ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল মনোতোষ। দেখল, দরজার সামনে নন্দা দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। সম্ভবত তাকেই খুঁজছে। তার পর দেওয়ালের পাশের বেডে তাকে দেখতে পেল। এ ঘরে চারটে মাত্র বেড, খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। নন্দার মুখে যেন আষাঢ়ের মেঘ ঘনিয়ে আছে। এখনই ঝরে পড়ল বলে। সাবধানে হাত তুলল মনোতোষ। আস্তে আস্তে তার বেডের পাশে এসে দাঁড়াল নন্দা। বিছানার পাশে রাখা টুলটা চোখের ইশারায় দেখাল মনোতোষ।

ক্রমশ

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Novel Novel

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy