Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মাওবাদীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র ছিল’! জয়পুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘সাফল্য’ তুলে ধরলেন অভিষেক

এর পরেই জয়পুরের তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর হয়ে ভোট চান অভিষেক। তিনি জানান, কোনও পারিবারিক সাহায্য ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় অর্জুন ছাত্র ও যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসে জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪৩
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

এক সময় মাওবাদীদের ‘বিচরণক্ষেত্র’ ছিল জয়পুর। এখন সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আর তা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য। শুক্রবার পুরুলিয়ার জয়পুরে গিয়ে এই কথাই বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তিনি ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর দিকেও আঙুল তুললেন। দাবি করলেন, প্রার্থীর বাবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পুত্রের টিকিটের জন্য। জয়পুরের সভায় তৃণমূলনেত্রীর ‘প্রতিজ্ঞা’-র কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক।

শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক জয়পুরের সভায় বলেন, ‘‘এক সময় এটা মাওবাদীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র ছিল, যেখানে তারা আতঙ্ক ছড়াত। থানাগুলি পর্যন্ত তালাবন্ধ থাকত। আজ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মানুষ মধ্যরাতেও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারে। এবং এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য।’’

এর পরেই জয়পুরের তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর হয়ে ভোট চান অভিষেক। তিনি জানান, কোনও পারিবারিক সাহায্য ছাড়াই নিজের প্রচেষ্টায় অর্জুন ছাত্র ও যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসে জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছেন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোক হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন তাঁর বাবা অজিত মাহাতো। তাঁর কথায়, ‘‘এই বিধানসভা কেন্দ্রে যিনি বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী, তিনি এখানে থাকেন না। তাঁর বাড়ি বাঘমুন্ডিতে। তিনি কেবল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, কারণ তাঁর বাবা অজিত মাহাতো ভোটের দিন ঘোষণার মাত্র ১০ দিন আগে নিজের ছেলের টিকিটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন।’’

তৃণমূল সরকার কী কাজ করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি জানান, কুড়মিরা গত ৫০ বছর ধরে তপসিলি জনজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। মমতার সরকার বারবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুড়মালি ভাষাকে রাজ্য ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে কেন্দ্রকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কুড়মিদের জন্য বোর্ডও গঠন করেছে রাজ্য সরকার। এর পরেই কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘‘অজিত মাহাতো যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন কেন এই বিষয়ে কথা বলেননি? এর বদলে, অজিত মাহাতো কেবল তাঁর ছেলের প্রার্থিপদ নিয়ে রফা করেছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নরহরি মাহাতো, জয়পুর আসনের বিজেপি বিধায়ক, যিনি আগে ফরওয়ার্ড ব্লকেরও বিধায়ক ছিলেন। জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো, যিনি ঝালদা-২ এর পাশের ব্লকে থাকেন এবং গত সাত বছর ধরে সাংসদ। আমি বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ করছি, যে তাঁরা এখানকার মানুষের জন্য কোনও উন্নয়ন করেছে কি না প্রমাণ করুন।’’

এখানেই থামেননি অভিষেক। তিনি জানান, গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ওই আসনে প্রতিনিধি না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়েরা সরকারি পরিষেবা পাচ্ছেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন। সে কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘আমি আমার সংসদীয় এলাকা যে ভাবে দেখাশোনা করি, জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রকেও আমার সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে একই ভাবে দেখাশোনা করব। তাই তৃণমূল প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করুন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ১০ ‘প্রতিজ্ঞা’-র কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। আর সেই সঙ্গে কটাক্ষ করেন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকেও।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Abhishek Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy