বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরের দেওয়ালে ছবি কেবল অন্দরসজ্জার কারণেই ঝোলানো হয় না। ঘরের সঠিক কোণে, সঠিক ছবি লাগালে তা ইতিবাচক শক্তির প্রবাহকে আকর্ষণ করে এবং পেশাজীবনে সাফল্য এনে দেয়। কেরিয়ারে উন্নতি ও সমৃদ্ধি পেতে অন্দরমহলে কোন দিকে, কী কারণে কোন ধরনের ছবি লাগাতে পারেন তা নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
সাতটি ঘোড়া
ঘোড়া গতি ও সাফল্যের প্রতীক। বাস্তু মতে, সাতটি ছুটন্ত ঘোড়ার ছবি ফ্রেমে বাঁধিয়ে তা বসার ঘরের পূর্ব বা উত্তর দিকের দেওয়ালে লাগাতে হবে। ঘোড়াগুলিকে দেখে যেন মনে হয় তারা ঘরের ভিতরের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
উদীয়মান সূর্য
উদীয়মান সূর্য নতুন আশা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই ধরনের ছবি কেরিয়ারে নতুন সুযোগ এনে দিতে সাহায্য করে। বসার ঘর অথবা পড়ার ঘরের পূর্ব দিকের দেওয়ালে এই ছবি লাগানো সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
উড়ন্ত পাখির ঝাঁক
আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা পাখি জীবনের লক্ষ্য পূরণ, স্বাধীনতা এবং সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছোনোর বার্তা দেয়। পড়ার ঘরের উত্তর বা উত্তর-পূর্ব কোণে এই ছবি লাগাতে পারেন।
জলপ্রপাত বা নদী
বাস্তুমতে, বহমান জলকে ধনসম্পদ ও ইতিবাচক শক্তির প্রবাহের প্রতীক মনে করা হয়। ঘরের উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে জলপ্রপাতের ছবি লাগালে কেরিয়ারে সুনামের পাশাপাশি আর্থিক সমৃদ্ধি আসে। তবে খেয়াল রাখবেন, ছবিতে জলের প্রবাহ যেন ঘরের ভিতরের দিকে হয়।
আরও পড়ুন:
সবুজ প্রকৃতি
সতেজ সবুজ বনভূমি বা গাছপালার ছবি মনে শান্তি আনে এবং বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্য দিকে, পাহাড়ের চূড়ার ছবি জীবনে স্থায়িত্ব এবং দৃঢ়তা আনে। পাহাড়ের ছবি সর্বদা বসার ঘরের দেওয়ালে দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে লাগাতে হয়। এই ছবি লাগালে মনের জোর বৃদ্ধি পায়।
যুদ্ধ, কান্নাকাটি, হিংস্র পশুপাখি বা শুকনো গাছের ছবি ঘরে রাখবেন না। এই ছবিগুলি নেতিবাচক শক্তি বাড়ায়। কোনও ছবির কাচ বা ফ্রেম ভেঙে গেলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন। শোয়ার ঘরে যুদ্ধ, জলপ্রপাত বা বিষণ্ণ কোনও ব্যক্তির ছবি রাখবেন না। তার পরিবর্তে রাধা-কৃষ্ণ অথবা স্বামী-স্ত্রীর হাসিখুশি ছবি রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।