বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘড়ি শুধু সময় দেখার মাধ্যম নয়। এটি ঘরে ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির সঞ্চালনকেও নিয়ন্ত্রণ করে। বাড়িতে ঘড়ি ভুল জায়গায় বা ভুল নিয়মে রাখলে বেশ কিছু বাস্তুদোষ তৈরি হতে পারে, যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ভুল দিকে ঘড়ি রাখার কুপ্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল—
দক্ষিণ দিক
বাস্তুমতে, দক্ষিণ দিক হল যম এবং স্থায়িত্বের দিক। এই দিকে ঘড়ি রাখলে পরিবারের প্রধান সদস্য বা চাকরিজীবীদের কাজের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে এবং উন্নতির গতি থমকে যায়।
দরজার উপর
ঘরের কোনও দরজার ঠিক উপর ঘড়ি রাখা অশুভ বলে গণ্য করা হয়। এর ফলে সেখান দিয়ে যাতায়াত করার সময় এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং ঘরের ভিতর ইতিবাচক শক্তি চলাচলে বাধা পায়।
আরও পড়ুন:
বন্ধ ঘড়ি রাখা
বন্ধ ঘড়ি জীবনের স্থবিরতার প্রতীক। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, এটি পরিবারের সদস্যদের কেরিয়ার, ব্যবসা এবং পড়াশোনার অগ্রগতি থামিয়ে দেয়। অচল ঘড়ি নেচিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। এর ফলে অযথা খরচ বাড়ে এবং আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়।
ঘড়িতে সময় পিছিয়ে রাখা
ঘড়ি যদি সঠিক সময়ের চেয়ে পিছিয়ে থাকে তবে, তা শুভ নয়। এর ফলে পরিবারের সদস্যেরা পরিশ্রম করেও সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ পান না। বাস্তুমতে, সঠিক সময় থেকে ঘড়ি ২-৩ মিনিট এগিয়ে রাখা যেতে পারে, কিন্তু কোনও ভাবেই যেন ঘড়ি পিছিয়ে না থাকে।
ঘড়ির ভাঙা কাচ
ঘড়ির কাচ যদি ভাঙা বা ফাটল ধরা থাকে, তবে তা অবিলম্বে বদলে ফেলা উচিত। এটি ঘরে দুর্ভাগ্য ডেকে আনে।
আরও পড়ুন:
ঘড়ির আকৃতি
ধারালো কোণযুক্ত বা ত্রিকোণ আকৃতির ঘড়ি ঘরে অশান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ায়। বাস্তুমতে, গোলাকার, ডিম্বাকৃতি অথবা চৌকো ঘড়ি ব্যবহার করা সবচেয়ে শুভ।
ঘড়ির রং
কালো বা গাঢ় নীল রঙের ঘড়ি এড়িয়ে চলাই ভাল। মনে করা হয়, এই রংগুলি নেতিবাচক প্রভাব বাড়াতে পারে। তার পরিবর্তে সাদা, হালকা নীল অথবা ধাতব রঙের ঘড়ি ব্যবহার করা শুভ।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী,ঘড়ি রাখার জন্য উত্তর এবং পূর্ব দিক সবচেয়ে শুভ। উত্তর দিককে অর্থ ও কর্মক্ষেত্রের দিক হিসাবে ধরা হয়। তাই এই দিকে ঘড়ি রাখলে আর্থিক উন্নতি হতে পারে। পূর্ব দিককে ইতিবাচক শক্তি ও নতুন সূচনার প্রতীক মনে করা হয়। তার ফলে এই দিকে ঘড়ি রাখলে জীবনে নতুন সুযোগ ও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। পেন্ডুলাম যুক্ত ঘড়িকে বিশেষ ভাবে শুভ মনে করা হয়। কারণ এটি চলমানতা ও অগ্রগতির প্রতীক।