অনেকেই নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য স্টার্টআপ অফিস খুলে পেশাজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেন। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই যথেষ্ট নয়। কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক শক্তি এবং সৌভাগ্য বজায় রাখাও প্রয়োজন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের শক্তি যদি পজ়িটিভ থাকে, তা হলে কাজে মনোযোগ বাড়ে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই ব্যবসা শুরুর প্রথম থেকে সমৃদ্ধি এবং সাফল্যের পথ সুগম হতে পারে। কর্মক্ষেত্রের সেই বাস্তু নিয়মগুলি নিয়ে নীচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল—
অফিসের সদর দরজা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। দরজাটি এমন স্থানে স্থাপন করুন যেখানে সূর্যালোক পৌঁছোয়। উত্তর, উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিক প্রবেশপথের জন্য সবচেয়ে শুভ। মনে করা হয়, এই দিকগুলি থেকে ইতিবাচক শক্তি এবং নতুন সুযোগ আসে। সদর দরজার সামনে কোনও বড় গাছ অথবা থাম থাকা উচিত নয়। তা কর্মক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
‘টিম লিডার’-এর বসার জায়গা অফিসের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অফিসের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে টিম লিডারের ডেস্ক রাখা প্রয়োজন। বসার সময় তাঁর মুখ যেন উত্তর বা পূর্ব দিকে থাকে। বসার সময় পিঠের দিকে শক্ত দেওয়াল থাকা উচিত। কোনও জানলা বা দরজা নয়। এটি স্থায়িত্ব এবং নেতৃত্বের শক্তি প্রদান করে।
অফিসে কর্মীদের বসার আদর্শ দিক হল উত্তর বা পূর্ব দিক। সব ধরনের বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম এবং সার্ভার রুম দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রাখা উচিত। এই কোণটি আগ্নেয় কোণ হিসাবে গণ্য করা হয়, যা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।
অফিসে নগদ টাকা রাখার বাক্স বা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার ড্রয়ার উত্তর দিকে হওয়া ভাল। কারণ উত্তর দিক হল ধনের দেবতা কুবেরের দিক।
আরও পড়ুন:
অফিসের রং এবং সাজসজ্জা কর্মীদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। মন শান্ত রাখা এবং সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য অফিসের দেওয়ালে সাদা, ক্রিম বা হালকা নীল রঙের মতো রং ব্যবহার করুন। গাঢ় লাল বা কালো রং এড়িয়ে চলাই ভাল।
অফিসে যদি কফি মেশিন বা প্যান্ট্রি থাকে, তবে তা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। খেয়াল রাখবেন এগুলি যেন উত্তর-পূর্ব কোণে রাখা না হয়।
কোনও কর্মীর মাথার ঠিক উপরে যেন ছাদের বিম না থাকে। এর ফলে মানসিক চাপ বাড়ে। অফিসে কোনও ভাঙা আসবাবপত্র, বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়ি বা অকেজো বৈদ্যুতিন সামগ্রী রাখবেন না। এই জিনিসগুলি কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক শক্তি তৈরি করে। অফিসের টেবিল সব সময় আয়তাকার বা বর্গাকার হওয়া প্রয়োজন। গোলাকার বা ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের আকৃতির মতো টেবিল বাস্তুমতে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।