তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর কঠোর পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, শহরের সমস্ত অবৈধ কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। কেটে দেওয়া হবে জলের লাইনও। তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ায় যে কারখানায় আগুন লেগেছিল, সেই বহুতল অবৈধ ভাবে নির্মিত বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিলজলা থানা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে মঙ্গলবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিককে বুধবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাঁদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, তাঁরা যেন এখন থেকেই সতর্ক হয়ে যান। শুভেন্দু বলেন, ‘‘তিলজলার ঘটনা নিয়ে চারটি দফতরের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গড়়েছিলাম। সকালেই তার রিপোর্ট দিতে বলেছিলাম। কমিটির রিপোর্টে যা পাওয়া গিয়েছে, তা রাজ্যের ক্ষেত্রে, কলকাতার ক্ষেত্রে অশনিসঙ্কেত।’’
আরও পড়ুন:
কী কী অশনিসঙ্কেত দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী? তিনি বলেন, ‘‘তিলজলার ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। আগুন থেকে সুরক্ষার যে সাধারণ ব্যবস্থা থাকার কথা, তা-ও সেখানে ছিল না। সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল। আমরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু পদক্ষেপ করেছি। ওই অবৈধ কারখানার মালিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে স্থায়ী ভাবে সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া, সিইএসসি-কে বিদ্যুৎসচিবের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ কারখানা যত আছে, বিশেষ করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুর এলাকায় অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ অডিট করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক দিনের মধ্যে ওই অবৈধ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে। পুরসভার উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তা করতে হবে। এ ছাড়া, পুরসভাকে বলা হয়েছে, এমন অবৈধ বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন কেটে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে, আমাদের নীতি ‘জ়িরো টলারেন্স’। যাঁরা সতর্ক হতে চান, হয়ে যান। বেআইনি কাজ যাঁরা করছেন, শুধরে যান।’’