মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ১০ লক্ষ টাকায় নিটের প্রশ্নপত্র কিনে ১৫ লক্ষ টাকায় হরিয়ানায় বিক্রি করা হয়েছিল। তদন্তকারী সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নাসিক থেকে এক আয়ুর্বেদিক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম শুভম খৈরনার। তিনি ব্যাচেলর অফ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি-র (বিএএমএস) ছাত্র। নাসিকের নন্দগাঁওয়ের বাসিন্দা শুভম। তাঁর বাবাও এক জন চিকিৎসক।
সূত্রের খবর, নাসিক পুলিশের অপরাধদমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তাঁকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ধনঞ্জয় নামে পুণের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল শুভমের। অভিযোগ, দু’জনে মিলে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। সূত্রের খবর, এই ধনঞ্জয়ের কাছ থেকেই ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শুভম নিটের প্রশ্ন কিনেছিলেন বলে অভিযোগ। তার পর সেই প্রশ্ন টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। ধনঞ্জয়ের কাছ থেকে প্রশ্ন পাওয়ার পর সেটি হরিয়ানায় চালান করে দিয়েছিলেন চিকিৎসক শুভম। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই গোটা ঘটনায় একটা বিশাল চক্র কাজ করছে, যা দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, শুভম এবং ধনঞ্জয় মিলে বেশ কয়েকটি গ্রুপে ওই প্রশ্ন চালান করেছিল, যা বিভিন্ন হাত ঘোরার ফলে প্রকাশ্যে চলে আসে। সিবিআইয়ের দল রাজস্থানের জয়পুর-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। অন্য দিকে, রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের (এসওজি) সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন ১৫০ জন নিট পড়ুয়া এবং ৭০ জন অভিভাবক, যাঁদের কাছে পৌঁছেছিল ফাঁস হওয়া এই প্রশ্নপত্র। রাজস্থান পুলিশের এসওজি ১৩ জন এমবিবিএস কাউন্সেলরকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসে রাজস্থান, হরিয়ানা থেকে ক্রমশ গ্রেফতারির সংখ্যা বাড়ছে।