নিটের প্রশ্নপত্রের জন্য সওদা হয়েছিল ৩০ লক্ষ টাকায়। এমনই তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল হরিয়ানার গুরুগ্রামের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে রাজস্থানের দুই ভাই প্রশ্নপত্রের জন্য ৩০ লক্ষ টাকার সওদা করেছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের দুই ভাইকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন মাঙ্গিলাল এবং দীনেশ বিওয়াল। তাঁরা জামওয়া রামগড়ের বাসিন্দা। অভিযোগ, এই দুই ভাই গুরুগ্রামের চিকিৎসকের সঙ্গে এক এজেন্ট মারফত যোগাযোগ করেছিলেন। রাজস্থানে ধৃত দুই ভাইয়ের মধ্যে এক জনের ছেলে নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গুরুগ্রামের চিকিৎসকের কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রশ্নপত্র ছেলেকে দেন তিনি। তার পর ২৯ এপ্রিল জামওয়া রামগড় থেকে আড়াই ঘণ্টার দূরত্বে এক জায়গায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত দুই ভাই। সেখান থেকেই ওই প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে বিলি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নপত্র রাকেশকুমার মান্দাওয়ারিয়া নামে ডাক্তারি কোর্সের কাউন্সেলিং এজেন্টকে বিক্রি করা হয়। রাকেশকুমার সীকরের বাসিন্দা। অভিযোগ, রাকেশকুমার সেই প্রশ্নপত্র সীকরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে বিলি করেন। এ ছাড়াও ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর এক ঘনিষ্ঠকে প্রশ্নপত্র বিক্রি করেন রাকেশ। রাকেশ-ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি আবার কেরলে ডাক্তারি পড়ছেন।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, রাকেশ-ঘনিষ্ঠ ওই ডাক্তারি পড়ুয়া সেই প্রশ্নপত্র সীকরে তাঁর বাবার কাছে পাঠান। ওই পড়ুয়ার বাবা সীকরে কোচিংয়ে আসা ছাত্রছাত্রীদের ঘরভাড়ার ব্যবস্থা করে দেন। তদন্তকারীরা একটি মেসেজ উদ্ধার করেছেন। সূত্রের খবর, সেখানে লেখা ছিল, ‘‘বাবা, সীকর থেকে আমার এক বন্ধু এই প্রশ্ন পাঠিয়েছে। তোমার হস্টেলের মেয়েদের কাছে এটি বিলি করে দিয়ো। কালকের পরীক্ষায় কী কী আসবে, এর মধ্যে সব আছে।’’ তার পরই ওই পড়ুয়ার বাবা মেয়েদের হস্টেলে এই প্রশ্নপত্র বিলি করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দাবি করেছিল যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, দেখা গিয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের কেন্দ্র হরিয়ানার গুরুগ্রাম। আর এই প্রশ্ন ফাঁসের অন্যতম ‘মাথা’ গুরুগ্রামের এক চিকিৎসক। তাঁর কাছ থেকেই রাজস্থানের দুই ভাই ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন কিনেছিলেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় চিকিৎসক-যোগ উঠে আসায় গুরুগ্রামের ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর সভাপতি চিকিৎসক রাজেশ কাটারিয়া জানিয়েছেন, এ রকম কোনও খবর তাঁর জানা নেই। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গিয়েছে, দুই ভাইয়ের সঙ্গে চিকিৎসকের যোগাযোগ মাসখানেক আগে হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে দীনেশের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ওঠাবসাও রয়েছে। একটি দলের সঙ্গেও জড়িত। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, সীকরে নিট পড়ুয়া এবং কোচিং সেন্টারের মালিকেরা হোয়াট্সঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম গ্রুপ তৈরি করে এই প্রশ্ন চালাচালি করেছিলেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, অভিযুক্ত রাকেশকে দেহরাদূন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ৭০০ পড়ুয়ার কাছে ওই প্রশ্ন বিক্রি করেছিলেন বলে অভিযোগ। হরিয়ানা থেকে যশ যাদব নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ মে নিট-ইউজির পরীক্ষা হয়। তার পরই অভিযোগ ওঠে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হতেই পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে পরবর্তী পরীক্ষার দিন ঘোষণা হবে বলেও জানিয়েছে এনটিএ।