Advertisement
E-Paper

নিটের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে হরিয়ানা পৌঁছোয়, পাঁচটি করে সেট তৈরি হয়, তার পর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রাজ্যে!

কী ভাবে এবং কোথা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তার একটা হদিস মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৭:০৮
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অত্যন্ত সংগঠিত ভাবে একটি চক্র কাজ করেছে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসে। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা। আর সেই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল রাজস্থান, হরিয়ানা, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যেও এই চক্র কাজ করেছে। প্রশ্নপত্র ওই রাজ্যগুলিতেও পৌঁছেছে।

কী ভাবে এবং কোথা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তার একটা হদিস মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। তবে তদন্তকারী একটি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই চক্রের সদস্যেরা মহারাষ্ট্রের নাসিকে সাক্ষাৎ করেন। সেখান থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের একটি কপি পাঠানো হয় হরিয়ানায়। সেখানে পাঁচটি আলাদা আলাদা প্রশ্নের সেট তৈরি করা হয়। এক একটি সেটে ১০টি করে প্রশ্নপত্র ছিল। সেই সেট পৌঁছোয় রাজস্থানের জয়পুর, সেখান থেকে জমবারামগড় এবং তারপর ওই রাজ্যেরই সীকরে। এর পর সেই প্রশ্নপত্রের সেট আলাদা আলাদা ভাবে পৌঁছে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, তেলঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং বিহারেও।

সিবিআইয়ের পাশাপাশি রাজস্থান পুলিশের এটিএস এবং এসওজি-ও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে সীকর থেকে। কোটার পর গত কয়েক বছরেই সীকর হয়ে উঠেছে অন্যতম ‘কোচিং হাব’। মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোচিংয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটার মতো সীকরেও পড়তে আসেন বহু ছাত্রছাত্রী। তদন্তকারী সূত্রের খবর, বায়োলজির ৯০টি, রসায়নের ৪৫টি প্রশ্ন পরীক্ষার আগেই বেশ কয়েক জনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। এই প্রশ্নগুলি আসতে পারে বলে কোচিং সেন্টারে পড়ুয়াদের বলা হয়েছিল। আর এখান থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ যেটিকে ‘গেস পেপার’ বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি পরীক্ষার সরাসরি প্রশ্নপত্র নয় তো?

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, পরীক্ষার বেশির ভাগ প্রশ্নের সঙ্গে ওই ‘গেস পেপার’-এর প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন হুবহু মিলেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্র শুধু পড়ুয়াদের মধ্যে সীমিত নেই। এর জাল অনেক দূর বিস্তৃত। সেই শিকড়ের খোঁজ চালাচ্ছে সিবিআই। সূত্রের খবর, নগৌরের এক পড়ুয়া পরীক্ষার কয়েক দিন আগে সীকরে এসেছিলেন। ২৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি প্রশ্নপত্র কেনেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। প্রশ্নপত্র হোয়াট্‌সঅ্যাপ, বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজস্থান থেকে ১৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। জয়পুর থেকে গ্রেফতার এক ব্যক্তি। সন্দেহ তিনিই ‘মূল অভিযুক্ত’। এখন প্রশ্ন উঠছে তা হলে কি ছাপাখানা থেকেই এই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল? সে দিকটাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। ইতিমধ্যেই পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। কী ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হল— তা নিয়ে দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

Rajasthan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy