হিন্দু ধর্মমতে, প্রাচীন কাল থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কান বিঁধোনোর চল রয়েছে। অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র সাজসজ্জার জন্যই মহিলারা তাঁদের কান বিঁধিয়ে নেন। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কান বিঁধোনোর ফলে ব্যক্তিজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে বলে মনে করা হয়। এমনকি, রাহু এবং কেতুর অশুভ প্রভাব থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। নীচে কান বিঁধোনোর উপকারিতা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
- জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কান বিঁধোলে বিশেষ করে রাহু এবং কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন্মকুণ্ডলীতে এই দুই গ্রহের অশুভ অবস্থান থাকলে জীবন অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়। কান বিঁধোলে এই গ্রহগুলির নেতিবাচক শক্তি হ্রাস পায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
- জ্যোতিষমতে, কানের উপর বুধ গ্রহের প্রভাব থাকে। বুধ বুদ্ধি, বাকপটুতা এবং স্মৃতিশক্তির কারক। কান বিঁধোনোর মাধ্যমে বুধের শক্তি সক্রিয় হয়, যা ব্যক্তির মেধা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন:
- মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত বাঁ কান আগে বিঁধোনো হয়, যা চন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। মনে করা হয়, এর ফলে মেয়েদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ছেলেদের ক্ষেত্রে ডান কান আগে বিঁধোনো হয়, যা সূর্যের শক্তির সঙ্গে যুক্ত। জ্যোতিষমতে, এর ফলে জীবনীশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
- প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কান বিঁধিয়ে সোনা বা তামার দুল পরলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ তৈরি হয়। মনে করা হয়, এটি কুনজর বা নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:
- জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, শুক্লপক্ষে কান বিঁধোনো শুভ। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে কান বিঁধিয়ে দেওয়া উচিত। মনে করা হয়, এর ফলে শিশুর কথা বলার ক্ষমতা ও বুদ্ধির বিকাশ যথাযথ হয়।
- দুই কানে যেন এক জায়গাই বিঁধোনো হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। দুই কানের ফুটো উপর-নীচ না হয়ে যাওয়াই ভাল। না হলে এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে।