ভোট-পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে তাজ্জব হয়ে গেল পুলিশ। নেতার ফ্ল্যাটের দোতলায় বিলাসব্যসনের প্রভূত উপকরণের ভিডিয়ো ভাইরাল সমাজমাধ্যমে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। যদিও ফ্ল্যাটমালিক শামিম আহমেদ ওরফে বড়ের এখনও খোঁজ মেলেনি।
বড়ের বাড়ি মধ্য হাওড়ার শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার। বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় নানা দুষ্কর্ম করে বেড়াতেন বড়ে। বিজেপির দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের বিশেষ ঘনিষ্ঠ ওই নেতা ভোটের ফলঘোষণার পরেও চওড়াবস্তি এলাকায় অশান্তি করেছেন। সেখানে বোমাবাজি এবং গুলি চলার অভিযোগ ওঠে বড়ে এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। বিজেপির এ-ও অভিযোগ, বড়ের মদতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। অরূপ অবশ্য বড়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করেছেন।
ওই অশান্তির ঘটনায় কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। তার পর গত ৯ মে বড়ের খোঁজে তাঁর বাসভবনে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সেই দলে ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা। সেখানেই চমক আর চমক!
জানা যাচ্ছে, ব়ড়ে তাঁর ফ্ল্যাটে ঢুকে একতলা থেকে সোজা তিনতলায় যেতেন। দোতলায় যাওয়ার জন্য তিনতলা থেকে একটি গোপন সিঁড়ি ব্যবহার করতেন। সেই সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ঢুকে কার্যত তাজ্জব বনে যান পুলিশকর্তারা। তাঁদের অভিযানের পর একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাতে দেখা গিয়েছে, তিন তলার ফ্ল্যাটের মেঝের একাংশ কেটে দোতলার গোপন আস্তানায় সিঁড়ি বেয়ে নামছে পুলিশ। দোতলায় বিলাসব্যসনের প্রভূত উপকরণ চোখে পড়ে। তিন তলার ঘরগুলিতে সাধারণ সব আসবাবপত্র। কিন্তু দোতলার শোয়ার ঘর থেকে বৈঠকখানা, রান্নাঘর থেকে শৌচাগার— সর্বত্র বিলাসিতার ছাপ। দামি দামি জিনিসপত্রে ঠাসা প্রতিটি কক্ষ। দোতলা থেকে সর্বত্র নজরদারির জন্য রয়েছে সিসিটিভি। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্তা জানান, বড়ের ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে বোঝাই যায় না যে ফ্ল্যাটের দোতলায় কী বিপুল পরিমাণ জিনিসপত্র রয়েছে! অভিযুক্তের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। সন্ধান চলছে।
বছর তিনেক আগে রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বড়ে। এ বার তাঁর বাড়িতে অভিযানের পর যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, তা নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি হাওড়া সিটি পুলিশ। বড়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বলেন, ‘‘মধ্য হাওড়ায় সবাই আমার ঘনিষ্ঠ। কিন্তু কার ঘরের মধ্যে কী থাকবে, সেটা তো আমার পক্ষে জানা সম্ভব নয়।’’