বাস্তুশাস্ত্র মতে, রাস্তার মোড়ে গৃহনির্মাণ করলে অশুভ বলে মনে করা হয়। একে সাধারণত ‘টি-পয়েন্ট’ বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। বিশ্বাস করা হয়, রাস্তার মোড়ে বাড়ি তৈরি করা হলে তা বাইরে থেকে নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। সংসারে অকারণে অশান্তি লেগে থাকে। তা ছাড়া বাড়ির সদস্যেরা আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক সমস্যারও সম্মুখীন হন। এমন জায়গায় বাড়ি থাকলে কী কী বাস্তদোষ হতে পারে এবং সেগুলি প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
রাস্তা দিয়ে আসা সমস্ত গতিশীল শক্তি সরাসরি বাড়ির মুখে এসে আঘাত করে। বাস্তুমতে, তা নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ হিসাবে ধরা হয়। এর ফলে বাড়ির শান্তি নষ্ট হতে পারে। মনে করা হয়, রাস্তার ট্রাফিক এবং আলো বাড়ির সদস্যদের উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই গৃহে বসবাসকারীদের মধ্যে প্রায়ই অস্থিরতা, মানসিক চাপ বা অকারণ দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
সরাসরি ধেয়ে আসা এই নেতিবাচক শক্তির প্রভাবে আর্থিক উন্নতি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বারংবার উত্থান-পতন বা কর্মক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘টি-পয়েন্ট’-এর ফলে বাস্তুদোষের কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রভাব পড়তে পারে। বাস্তুশাস্ত্রের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিক থেকেও ‘টি-পয়েন্টে’ থাকা বাড়িগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাস্তা দিয়ে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে বাড়ির ক্ষতিও হতে পারে। তবে, এই বাস্তদোষ প্রতিকারের উপায়ও রয়েছে—
উইন্ড চাইমের ব্যবহার
সাত দণ্ডযুক্ত একটি ধাতব উইন্ড চাইম স্থাপন করা কার্যকর সমাধান বলে মনে করা হয়। বাড়ির সদর দরজায় রাখা উইন্ড চাইমের শব্দ নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
চারদিকে সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করা
বাইরে থেকে আসা নেতিবাচক শক্তিকে আটকাতে বাড়ির সামনে একটি মজবুত প্রাচীর তৈরি করুন। তা ছাড়া, সারিবদ্ধ ভাবে বাড়ির বাইরে লম্বা ও ঘন গাছ লাগাতে পারেন। এগুলি আপনার বাড়ির জন্য একটি অদৃশ্য রক্ষাকবচ তৈরি করে নেতিবাচক শক্তির প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন:
সদর দরজার অবস্থান
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির সদর দরজাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির প্রধান দরজাটির মুখ রাস্তার সোজাসুজি থাকা উচিত নয়। রাস্তার মুখের সামান্য পাশে সদর দরজা তৈরির চেষ্টা করুন।
স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা
হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, স্বস্তিকা চিহ্নকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বাড়ির প্রধান দরজায় স্বস্তিকা, ওম চিহ্ন এঁকে রাখা অত্যন্ত কার্যকরী। ভগবান গণেশের ছবিও দরজার সামনে রাখতে পারেন। এগুলি বাড়ির বাইরে অদৃশ্য রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে।
উত্তল দর্পণের ব্যবহার
বাড়ির সদর দরজার সামনে একটি উত্তল আয়না রাখতে পারেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, এই ধরনের আয়না স্থাপন করলে বাড়ির বাইরে থেকে আসা নেতিবাচক শক্তি আবার প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়।