সাপ দেখলে অনেকেরই শরীরে একটা অস্বস্তির ভাব ছড়িয়ে পড়ে। যদিও হিন্দু ধর্মে বহু দেবদেবীর সঙ্গে সর্পের অবস্থান লক্ষ করা যায়। নীলকণ্ঠ মহাদেবের গলায় পেঁচিয়ে থাকে বাসুকি, নারায়ণের শয্যাই হল অনন্তনাগ বা শেষনাগ। বাস্তুশাস্ত্র বা জ্যোতিষশাস্ত্রে সাপের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুশাস্ত্রে সাপ বা নাগদেবতাকে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তবে বাড়ির যেখানে-সেখানে সাপের ছবি বা মূর্তি রাখা হিতে বিপরীত হতে পারে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে সাপের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
বাড়িতে সাপের ছবি রাখা মানে নেতিবাচক শক্তিকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া। বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে, বাড়িতে সাপের মূর্তি বা ছবি রাখলে তা কুনজর বা নজরদোষ কাটিয়ে ঘরবাড়িকে সুরক্ষিত রাখে। বাড়ির সদর দরজায় বা চৌকাঠের ওপরের দিকে নাগ-নাগিনীর ছবি বা খোদাই করা চিহ্ন থাকলে তা অশুভ শক্তিকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেয়। অনেকটা সুরক্ষাকবচের মতো কাজ করে, যা বাইরের মানুষের কুদৃষ্টি থেকে পরিবারকে রক্ষা করে। তবে সাপের মূর্তি বা ছবি রাখার আগে তা নির্দিষ্ট দিকে রাখা উচিত। বাস্তুমতে, বাড়িতে ইতিবাচক শক্তিকে টেনে আনার জন্য সাপের ছবি বা মূর্তি উত্তর বা পূর্ব দিকে রাখা উচিত।
সাপের মূর্তি বা ছবি রাখার সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন জোড়া সাপের হয়। একটি সাপের ছবি বা মূর্তি রাখা অনুচিত। শান্ত বা পেঁচিয়ে থাকা সাপ শুভ। ফণা তোলা বা আক্রমণাত্মক সাপ অশুভ বলে মনে করা হয় বাস্তুশাস্ত্রে। ধাতব জোড়া সাপ বাস্তুদোষ কাটাতে সাহায্য করে। এই ধরনের মূর্তি বাড়িতে থাকলে দারিদ্র ও দুর্দশা ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না। তামা বা পিতলের তৈরি ছোট সাপের মূর্তি লকার বা আলমারিতে রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।