মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মহতাব শেখের নাম ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ দিল এসআইআর ট্রাইবুনাল। এসআইআর ট্রাইবুনালের এটাই প্রথম রায়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়েছিল মহতাবের। সেই কারণে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হয়েও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে ট্রাইবুনালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানায়, কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশমতো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন। সেই তালিকায় যদি কারও নাম বাদ যায়, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বিপাকে পড়েছিলেন মহতাব। ট্রাইবুনাল গঠিত হলেও কাজ শুরু না-হওয়ায় সেখানে আবেদন করতে পারছিলেন না তিনি। ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় মনোনয়নপত্র জমাও দিতে পারছিলেন না কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী। ফলে নিজের সমস্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহতাব। শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। তার পরেই তিনি আবেদন করেছিলেন ট্রাইবুনালে।
সল্টলেকের বিজন ভবনে হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানমের বেঞ্চে মহতাব আবেদন করেছিলেন। তিনি জানান, তাঁর আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে তাঁর নাম ছিল মহতাব শেখ। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং আইনজীবী গোপা বিশ্বাস সওয়াল করেন ট্রাইবুনালে। কমিশনের পক্ষে ছিলেন দিব্যা মুরুগেসান।
আরও পড়ুন:
ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, আবেদনকারী এবং তাঁর বাবার নামে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র কারণে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে তাঁর বাবার নামের ক্ষেত্রে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ থাকলেও মহতাবের নামে কোনও সমস্যা নেই। তাই অবিলম্বে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে বলল ট্রাইবুনাল। তারা জানিয়েছে, রবিবার রাত ৮টার মধ্যে অতিরিক্ত তালিকায় তাঁর নাম তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহতাব। তবে হাই কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনস্থ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হাই কোর্ট এ নিয়ে শুনানি করতে পারে না। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। প্রথম দফায় নির্বাচন ফরাক্কায়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল, সোমবার। শীর্ষ আদালতে মহতাবের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের পাল্টা যুক্তি ছিল, কংগ্রেস প্রার্থী ট্রাইবুনালে আবেদন করুন। কমিশন তাঁকে সাহায্য করবে। তাঁর বক্তব্য সঠিক হলে বিষয়টি খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। তবে মহতাব জানিয়েছিলেন, ট্রাইবুনালের কাজ শুরু না হওয়ায় আবেদন করা যাচ্ছিল না। তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে যে কোনও একটি ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন মহতাব। সহযোগিতা করতে হবে কমিশনকে। শেষে ট্রাইবুনালের নির্দেশে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ফিরতে চলেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১১:১৪
কলকাতায় নেমেই দক্ষিণেশ্বরে পুজো শাহের, বৈঠক করবেন বিজেপির হবু বিধায়কদের সঙ্গে! সন্ধ্যায় চূড়ান্ত হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর নাম -
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের