Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভরতপুরে বুথে অশান্তি, ইভিএম বিকল বহরমপুরে,পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ কংগ্রেস

ভরতপুরের বুথে গোলমালের পাশাপাশি বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪১ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে ভোটগ্রহণে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০০
Unrest at booths in Bharatpur, EVM malfunctions in Baharampur—Congress demands re-election and lodges complaints with the CEO

ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভোটারেরা, বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে। —নিজস্ব চিত্র।

প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ও বহরমপুর—দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হল কংগ্রেস। বুথ দখল থেকে ইভিএম বিকল—একাধিক অভিযোগ এনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা নিলয় প্রামাণিক মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের অভিযোগ, ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে পোলিং এজেন্টদের জোর করে বার করে দেওয়া হয়। সালার থানার অন্তর্গত ১৫৭, ১৫৮, ১৫৯, ১৬০, ১৬৪, ১৬৫, ১৬৬, ১৬৭, ১৬৮ ও ১৬৯ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার পর শাসকদলের কর্মীরাই বেআইনি ভাবে ভোট পরিচালনা করেন। কংগ্রেসের মতে, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটের স্বচ্ছতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও তৎপরতার সঙ্গে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে অভিযোগ জানাতে প্রতিনিধিদের থানায় যেতে বলা হয়। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (কিউআরটি) সরিয়ে নেওয়ায় বুথগুলিতে নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ। স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের ভূমিকা এবং কিছু পুলিশকর্মীর সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের দাবি—প্রভাবিত বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন, পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ। অন্যদিকে, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪১ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে ভোটগ্রহণে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে প্রথম সমস্যা ধরা পড়লেও দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত তা মেরামত হয়নি। ফলে বহু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী একাধিক বার বিষয়টি জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, দ্রুত ইভিএম মেরামত বা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভোটারদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের সময় বৃদ্ধি বা পুননির্বাচনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দু’টি ঘটনাকেই অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Advertisement
সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
First Phase Vote Unrest Situation EVM Malfunction baharampur Bharatpur Election Commission Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy