প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ও বহরমপুর—দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হল কংগ্রেস। বুথ দখল থেকে ইভিএম বিকল—একাধিক অভিযোগ এনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা নিলয় প্রামাণিক মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে পোলিং এজেন্টদের জোর করে বার করে দেওয়া হয়। সালার থানার অন্তর্গত ১৫৭, ১৫৮, ১৫৯, ১৬০, ১৬৪, ১৬৫, ১৬৬, ১৬৭, ১৬৮ ও ১৬৯ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার পর শাসকদলের কর্মীরাই বেআইনি ভাবে ভোট পরিচালনা করেন। কংগ্রেসের মতে, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটের স্বচ্ছতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও তৎপরতার সঙ্গে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে অভিযোগ জানাতে প্রতিনিধিদের থানায় যেতে বলা হয়। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (কিউআরটি) সরিয়ে নেওয়ায় বুথগুলিতে নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ। স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের ভূমিকা এবং কিছু পুলিশকর্মীর সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের দাবি—প্রভাবিত বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন, পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ। অন্যদিকে, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪১ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে ভোটগ্রহণে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে প্রথম সমস্যা ধরা পড়লেও দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত তা মেরামত হয়নি। ফলে বহু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী একাধিক বার বিষয়টি জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, দ্রুত ইভিএম মেরামত বা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভোটারদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের সময় বৃদ্ধি বা পুননির্বাচনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দু’টি ঘটনাকেই অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত