‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ায় এক বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের উপপ্রধান ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করে। তবে দু’জনেই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
করিমপুরের রহমতপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কাছে অভিযোগে সঞ্জয় বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী জানিয়েছেন, শিবরাত্রি থাকায় তিনি গ্রামের রোয়ারবিল কলোনি এলাকায় পুজো দেখতে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সাইকেল চাণক্যতলায় নিজের বাড়িতে ফেরার সময়ে তিনি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে ফিরছিলেন। সঞ্জয়ের অভিযোগ, “পাড়ার দুর্গা মন্দিরের পাশে তখন বেশ কয়েক জন দাঁড়িয়ে ছিল। তারা আমার পথ আটকে জিজ্ঞাসা করে, ‘জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার কী আছে?’ আমি তাদের বলি, “আমার মন চাইছিল, তাই স্লোগান দিতে দিতে বাড়ি ফিরছিলাম’। এই নিয়ে তর্কাতর্কি বেধে যায়। তার মধ্যেই রহমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান শিবেন বিশ্বাস ও সিভিক ভলান্টিয়ার ইন্দ্রজিৎ প্রামাণিক হকিস্টিক দিয়ে আমায় বেধড়ক পেটাতে থাকে। আমি ওখানেই সাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে বাড়ি চলে যাই। যন্ত্রণায় সারা রাত ঘুমোতে পারিনি।”
শুক্রবার সকালে তিনি দলের নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে থানায় মৌখিক ভাবে সব জানিয়ে আসেন। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে (নদিয়ার করিমপুর আসনটি এই কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে) বিজেপির পর্যবেক্ষক যোগেশ চৌহান দুপুরে তাঁর বাড়িতে যান। রাতে সঞ্জয় পুলিশের কাছে উপপ্রধান শিবেন এবং সিভিক ভলান্টিয়ার ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। শনিবার তেহট্ট আদালতে হাজির করানো হলে তাঁরা দু’জনেই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
করিমপুর কেন্দ্রে বিজেপির আহ্বায়ক শ্যামল মণ্ডলের অভিযোগ, “রহমতপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শিবেন বিশ্বাস দীর্ঘদিন থেকেই নানা দুর্নীতিমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। শাসক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পুলিশ- প্রশাসনের কর্তারা কানে তোলেননি।” বারবার চেষ্টা করেও উপপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে প্রধান, তৃণমূলের সৌমেন বিশ্বাস বলেন, “আমাদের পঞ্চায়েতের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা ভিত্তিহীন।”
আর করিমপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় বলেন, “পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিসন্ধি নিয়েই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল কি না, তা-ও পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত।”