ভোটার তালিকার পরবর্তী অংশ প্রকাশের আগে থেকেই সতর্ক নবান্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনও ভাবেই অবনতি না হয়, তা নিশ্চিত করছে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের তরফে কী কী করণীয়, তা এ বার জানিয়ে দেওয়া হল সব জেলাকে। শনিবারই প্রত্যেক জেলাশাসককে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করে রাখতে বলা হয়েছে প্রত্যেক জেলাশাসকে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকেও। চিঠিতে নবান্ন জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ভোটার তালিকার পরবর্তী অংশ (বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা) প্রকাশিত হবে বলে তারা জানতে পেরেছে। ওই তালিকা প্রকাশ্যে আসার পরে কিছু কিছু জায়গায় ভিড় হতে পারে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। ওই ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য আগাম পদক্ষেপ করে রাখতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। একই সঙ্গে সংবেদনশীল জায়গাগুলিতে কড়া নজরদারির কথাও বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করে রাখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদেরও সেই মতো জানিয়ে রাখতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের।
রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। আগামী সোমবার বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হবে। দ্বিতীয় তালিকাও আগামী সপ্তাহেই প্রকাশ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার প্রকাশ হতে পারে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যে ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। যদি কোনও ভোটারের নাম অতিরিক্ত তালিকায় না তোলা হয় বা কেটে দেওয়া হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ট্রাইবুনালে।
আরও পড়ুন:
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এ ক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ্যে আসার পরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় দরবার করার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় হতে পারে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। অনুমান করা হচ্ছে, সেই উদ্বেগের থেকেই সব জেলাকে আগাম সতর্ক করে দিল স্বরাষ্ট্র দফতর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য সজাগ নজরদারির জন্য বলে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক জেলাশাসককে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত