প্রথম দফাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.৯০ শতাংশ। এখনও কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৫ শতাংশ।পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৩ এপ্রিল। ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল।
আরও পড়ুন:
এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট তা ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজ়োরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।
ভোটের হার তুলনামূলক কম উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে। এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে ৬১.০৪ শতাংশের (২০১৭ সাল) বেশি ভোট পড়েনি বিধানসভায়, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া, দিল্লিতে ১৯৭২ সালে ৬৮.৮৬ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ২০১২ সালে ৬৬.১৭ শতাংশ, হিমাচল প্রদেশে ২০০৩ সালে ৭৪.৫১ শতাংশ, বিহারে ২০২৫ সালে ৬৬.৯৮ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ২০২৪ সালে ৬৭.৬২ শতাংশ, ওড়িশায় ২০২৪ সালে ৭৪.৩৫ শতাংশ, ছত্তীসগঢ়ে ২০১৩ সালে ৭৭.১২ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে ২০২৩ সালে ৭৭.১ শতাংশ, পঞ্জাবে ২০১২ সালে ৭৮.২ শতাংশ, হরিয়ানায় ২০১৪ সালে ৭৬.১৩ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে রাজস্থানে ২০১৩ সালে ৭৫.০৪ শতাংশ, গুজরাতে ২০১২ সালে ৭১.৩০ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ১৯৯৫ সালে ৭১.৬৯ শতাংশ, গোয়ায় ২০১২ সালে ৮১.৭৩ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। দক্ষিণ ভারতের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সালে কেরলে ৮৫.৭২ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ২০২৪ সালে ৮০.৫৬ শতাংশ, তেলঙ্গানায় ২০১৮ সালে ৭৩.৩৭ শতাংশ, কর্নাটকে ২০২৩ সালে ৭৩.১৩ শতাংশ, পুদুচেরীতে ২০২৬ সালে ৮৯.৮৩ শতাংশ (এসআইআর-এর পর) সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। তামিলনাড়ুতে এ বার এসআইআর-এর পর ৮৫.১ শতাংশ ভোট পড়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ভোটদানের হার বরাবর কম। তবে ১৯৮৭ সালে সেখানে ৭৪.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল, এখনও পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত