ধূপগুড়ির জনসভা থেকে রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নিয়ে। অভিষেক জানান, বিজেপিশাসিত কোনও রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মতো বিনা শর্তে মহিলাদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা দিতে পারলে তিনি আর তৃণমূলের হয়ে ভোটই চাইবেন না। একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখে রাজ্যকে বঞ্চনার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন অভিষেক।
তৃণমূলের জন্য ধূপগুড়ি তুলনামূলক কঠিন আসন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে বিজেপি জিতেছিল। ২০১৯ এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই নির্দিষ্ট আসনটিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তবে আড়াই বছর আগে ধূপগুড়ি বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতে। বিদায়ী বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়কে এ বারও সেখানে প্রার্থী করেছে দল। তাঁর হয়ে প্রচারে গিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আমরা তো ২০২১ সালের ভোটে এখানে জিতিনি। মা-বোনেদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা কি তার জন্য বন্ধ হয়েছে? বিজেপি নেতারা কোথাও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ করার ভয় দেখান। কোথাও আবার ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আসলে দলটার মধ্যেই দ্বিচারিতা রয়েছে।’’
যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, তারা আসলে রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে বলে মনে করেন অভিষেক। তাঁর মতে, রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়ন, চাকরি এবং জনকল্যাণ নিয়ে। অভিষেক বলেন, ‘‘অসম-সহ ১৫টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও রাজ্যে এখানকার মতো সম্পূর্ণ শর্ত ছাড়া ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ দিতে পারবে? আমি চ্যালেঞ্জ করছি। একটা রাজ্যেও সেটা করতে পারলে তৃণমূলের হয়ে আর ভোট চাইব না।’’
আরও পড়ুন:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক। দাবি, তৃণমূল যা কথা দেয়, তা রাখে। তাঁর কথায়, ‘‘আড়াই বছর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এখানে নির্মল রায়ের জন্যেই প্রচার করতে এসেছিলাম। ধূপগুড়িকে মহকুমায় পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কথা রেখেছি। এখানে মহকুমা হাসপাতালের উন্নয়নের জন্যও পদক্ষেপ করা হয়েছে। শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বানারহাটে কৃষিপ্রধান এলাকায় কৃষকদের বাজার করে দেওয়া হয়েছে। নতুন দমকল অফিস করা হয়েছে। বন্যার পর মুখ্যমন্ত্রীও এখানে এসেছিলেন। তৃণমূল কথা রাখতে জানে।’’
এর পরেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির জয়ন্ত রায় এই ধূপগুড়িতে জিতেছেন। কিন্তু গত দু’বছরে কোনও উন্নতিই হয়নি। ক’টা রাস্তা বানিয়েছে ওরা? প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতিশ্রুতির সেই ১৫ লাখ টাকা এখনও আসেনি। বছরে দু’কোটি চাকরি দেবে বলেছিল। দেয়নি। নোটবন্দি, এসআইআর, পরে গ্যাসের জন্য ওরা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। ওদের জবাব দিতেই হবে।’’
১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ রেখে, আবাস প্রকল্প, জলজীবন মিশনের টাকা বন্ধ রেখে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় শাসকদল বঞ্চনা করেছে বলে অভিযোগ অভিষেকের। সাংসদ হিসাবে জয়ন্ত তা নিয়ে কেন্দ্রকে ক’টা চিঠি লিখেছেন, তা-ও জানতে চান তিনি। বলেন, ‘‘একটাও চিঠি দেখাতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’ অভিষেকের কথায়, ‘‘এর পরেও যদি বিজেপি জেতে, বুঝতে হবে মানুষ সেই মডেলকেই সমর্থন করছে, যা বাংলার মানুষকে তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।’’
সধারণ মানুষের টাকা আটকে রেখে নিজেদের দলের কার্যালয় তৈরিতে এবং অন্যান্য কাজে বিজেপি খরচ করে চলেছে, অভিযোগ অভিষেকের। তিনি বলেন, ‘‘এলপিজির দাম ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। চা ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, দুধ ২৮ টাকা থেকে ৬০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। অনেকে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সমালোচনা করেন। কিন্তু এটাই যুব সমাজের সাধারণ চাহিদা মেটাচ্ছে।’’
ধূপগুড়িতে অন্তত ২০ হাজার ভোটে তৃণমূলকে জেতানোর ডাক দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূলকে জেতান। নইলে আজ শুধু লাইনে দাঁড় করিয়েছে। এর পর কী খাবেন, কী পরবেন, তা-ও ওরা ঠিক করে দেবে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী মাছ বিক্রি বন্ধ করে দিতে বলেছেন। কী খাব ওরা ঠিক করে দেবে?’’ বিজেপিকে সমূলে উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন অভিষেক।