প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে কলকাতা বিমানবন্দরের উপরে দমদম এলাকায় চক্কর কাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। পরে বেহালার দিকে তা ঘুরে গিয়েছিল। বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে পর পর তিন বার অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট। কিন্তু তিনি বিমান নামাতে পারেননি। ফলে ফের কলকাতা বিমানবন্দরের দিকে ফিরে যেতে হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আকাশে এ ভাবে চক্কর কাটার পর ৫টা ১৯ মিনিট নাগাদ অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান কলকাতা বিমানবন্দরেই অবতরণ করেছে। বিমানবন্দর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোজা বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। গাড়ি থেকে সামান্য হাত নেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও মন্তব্য করেননি।
বুধবার থেকে মমতা জেলায় জেলায় ঘুরে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে এবং বীরভূমের দুবরাজপুরে তাঁর জনসভা ছিল। কর্মসূচি শেষে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিমান ওড়ে ৩টে ৩৯ মিনিট নাগাদ। বিকেল ৪টের মধ্যেই তাঁর কলকাতায় পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময়ে কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় প্রবল ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। মমতার সঙ্গে বিমানে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিলেন। চেষ্টা করেও বিমান নামতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিমানের গতিবিধির উপর নজরদারি চালায় ফ্লাইট রেডার ২৪ ডট কম। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে না-পেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান বেহালার দিকে ঘুরে গিয়েছিল। এই দেড় ঘণ্টায় কখনও বিমানের উচ্চতা কমেছে, কখনও বেড়েছে। একাধিক বার দেখা গিয়েছে বিমানটি দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষণ পরে তা দমদমের দিকে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ক্ষণ উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ায় বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল। সূত্রের খবর, ঝড়বৃষ্টির ফলে অন্তত ২০ মিনিট বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কোনও বিমানই ওঠানামা করতে পারেনি। ঝড়বৃষ্টি থামলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
মমতা ছোট প্রাইভেট জেটে জেলা সফর করছেন। দীর্ঘ ক্ষণ অবতরণের অনুমতি না-পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বিমানের জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে কি না, কত ক্ষণ বিমান আকাশে চক্কর কাটতে পারবে, অনেকেই তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে ফের বিমানটি অন্ডালে ফিরে যাবে কি না, নিকটবর্তী অন্য কোনও বিমানবন্দরের দিকে ঘুরে যাবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। কলকাতা ও শহরতলিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। আরও কিছু দিন তা চলবে। বিকেলে এত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল যে, কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত মঞ্চ তছনছ হয়ে যায়। শুক্রবার তাঁর আর কোনও প্রচার কর্মসূচি নেই। তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী বিশ্রাম করবেন। শনিবার থেকে আবার তিনি প্রচারে নামবেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত