পেশাগত জীবনে আইপিএস আধিকারিক হতে চাইলে কেমন ভাবে তৈরি করতে হবে নিজেকে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই থাকে কৌতূহল। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন, তাই একেবারে প্রথম থেকে নিজেকে তৈরি করে নেওয়া প্রয়োজন।
সাধারণত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মধ্যে ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষায় যাঁরা উত্তীর্ণ হন, মেধাতালিকার ভিত্তিতে এই পদে নিযুক্ত হতে পারেন।
যোগ্যতা
ভারত, নেপাল এবং ভুটানের নাগরিকেরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রার্থীর বয়স ২১-৩২ বছরের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন। তফসিলি জাতি ও উপজাতির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর ছাড় থাকে এবং ওবিসি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তিন বছর ছাড় থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটার। পুরুষদের ক্ষেত্রে উচ্চতা ১৬৫ সেন্টিমিটার।
পড়াশোনা
আইপিএস পরীক্ষার পাঠ্যসূচি ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) দ্বারা নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা হয় দু’টি পত্রে। প্রথম পত্রে থাকে জেনারেল স্টাডিজ়-এর প্রশ্ন। দ্বিতীয় পত্রে থাকে কম্প্রিহেনশন, ইন্টারপার্সোনাল অ্যাপ্টইটিউড, রিজ়নিং-সহ নানা বিষয়ের প্রশ্ন।
এর পর হয় মূল পরীক্ষা। সেখানে ভারতীয় ভাষার উপর ভিত্তি করে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয় ৩০০ নম্বরের। সুনির্দিষ্ট লেখা শব্দভান্ডার সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ ইংরেজি থেকে অন্য ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ (প্রার্থীরা নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুয়ায়ী বেছে নিতে পারেন অনুবাদের ভাষা) করতে হয়। পেপার ২-তে ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতার পরীক্ষা হয় ৩০০ নম্বরের।
পরীক্ষার পদ্ধতি
আইপিএস আধিকারিক হওয়ার প্রথম ধাপ ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই প্রাথমিক পরীক্ষাটি মূলত দু’টি পত্রে বিভক্ত।
১) জেনারেল স্টাডিজ ২) সিভিল সার্ভিস অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট
এই দু’টি পত্রের প্রশ্ন হয় বহু বিকল্পমূলক বা এমসিকিউ ধাঁচের হয়। প্রতিটি পত্রের জন্য ২০০ নম্বর করে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা হয় এবং প্রতিটির জন্য ২ ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ থাকে। প্রশ্নপত্র ইংরেজি ও হিন্দি— উভয় ভাষাতেই তৈরি করা হয় (তবে সিএসএটি পত্রে ইংরেজি কম্প্রিহেনশন প্রশ্নগুলি শুধুমাত্র ইংরেজিতেই থাকে)।
মূল পরীক্ষা
যে সকল প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কাট-অফ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হবেন, তাঁদের ‘মূল পরীক্ষা’ বা মেইনস-এ বসার সুযোগ দেওয়া হয়। ইউপিএসই মেইনস্ পরীক্ষায় মোট ন’টি পত্র থাকে।
চূড়ান্ত ধাপ
লিখিত মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের চূড়ান্ত ধাপ অর্থাৎ সাক্ষাৎকার বা ব্যক্তিত্ব পরীক্ষার। এই পর্যায়ের জন্য ২৭৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। মেইনস পরীক্ষার এবং সাক্ষাৎকারেরের নম্বর যুক্ত হয়ে, প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। সফলদের স্থানাধিকারের (র্যাঙ্ক) ভিত্তিতে ‘ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা’ বা আইপিএস পদে নিয়োগ করা হয়। একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করতে হয়।
আইপিএসঅফিসারদের কী কী দায়িত্ব পালন করতে হয়?
সীমান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, জনসাধারণের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিরাপত্তা প্রদান করা, রেলওয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি, চোরাচালান ও মাদক পাচার সংক্রান্ত বিষয় নজর রাখা, অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় নজর রাখা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে নজর রাখা। এ ছাড়া আরও বিশেষ দায়িত্বভার থাকে এক জন আইপিএস অফিসারের।