Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

বিনোদন

‘মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছিল’, বলি অভিনেতার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ কঙ্গনার

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই ৩০ অগস্ট ২০২০ ১৫:৪৩
সুশান্ত সিংহ রাজপুতের রহস্য মৃত্যুতে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে অভিনেতার পরিবার। আর্থিক তছরুপ এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে রিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের হয়েছে। কিন্তু গোটা ঘটনায় বলিউডের প্রতি একনাগাড়ে বিষোদ্গার করে চলেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

বলিউড ‘মাফিয়া’দের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়াতেই সুশান্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে একসময় দাবি করেছিলেন কঙ্গনা। বর্তমানে সুশান্তের মৃত্যুতে যখন মাদক-যোগ উঠে আসছে, সেই সময়ও ফের এক বার বলিউডকেই নিশানা করলেন কঙ্গনা।
Advertisement
মায়ানগরীতে গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত ৯৯ শতাংশ লোক জন মাদক নেন বলে অভিযোগ করেছেন কঙ্গনা। এমনকি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার সময় এক অভিনেতা জোর করে‌ তাঁকে মাদক নিতে বাধ্য করেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। মাদকাসক্ত অবস্থায় ওই অভিনেতা জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হন বলেও দাবি কঙ্গনার।

সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা জানান, ১৬ বছর বয়সে মানালি ছেডে় চলে আসেন তিনি। প্রথমে চণ্ডীগঢ়ে একটি প্রতিযোগিতা জেতেন। সেখানকার এক সংস্থা তাঁকে মুম্বই পাঠায়।
Advertisement
কঙ্গনার কথায়, মায়ানগরীতে কাউকে চিনতেন না তিনি। তাই একটি হস্টেলে এসে ওঠেন। তার পর মধ্যবয়সি এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। তাঁকে ‘আন্টি’ বলে ডাকতে শুরু করেন তিনি। দু’জনের মধ্যে পরিচয় বাড়লে ওই আন্টির সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

সেই সময় বলিউডের এক চরিত্রাভিনেতার সঙ্গে পরিচয় হয় বলে জানিয়েছেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, ওই অভিনেতা যেচে তাঁর সঙ্গে আলাপ বাড়ান এবং বলিউডে সুযোগ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। অল্প দিনের মধ্যে ওই ‘আন্টি’কেও হাত করে ফেলেন ওই অভিনেতা।

তার পর তাঁরা তিন জনে একই বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। এর পর নিজেকে নাকি কঙ্গনার ‘মেন্টর’ বলে বেড়াতে শুরু করেন ওই অভিনেতা। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই ওই অভিনেতা ‘আন্টি’র সঙ্গে ঝামেলা পাকিয়ে বসেন। তার জেরে ওই মহিলা বাড়ি ছেড়ে যান।

কিন্তু কঙ্গনার জিনিসপত্র আটকে রাখেন ওই অভিনেতা। কঙ্গনাকে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাও মেরে দেন বলে দাবি করেন নায়িকা। বাধ্য হয়ে তাঁর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন কঙ্গনা। কঙ্গনার অভিযোগ, সেখানেও তাঁর ওপর নজরদারি চালাতেন ওই অভিনেতার সহযোগীরা। প্রতি মুহূর্তে তিনি কী করছেন, সেই সব খবর অভিনেতার কাছে পৌঁছে যেত।

কঙ্গনার কথায়, ‘‘এক দিন আমাকে একটি পার্টিতে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই অভিনেতা। সেখানে কেমন একটা ঘোর লেগে যায় আমার। সেই সুযোগে উনি আমার সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হন। পরে হুঁশ ফিরলে বুঝতে পারি, নিজের ইচ্ছেয় ওঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হইনি আমি। আমার পানীয়ে কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’’

কঙ্গনার কথায়, ‘‘তার পর এক সপ্তাহও কাটেনি, ওই অভিনেতা এমন ভাব দেখাতে শুরু করেন, যেন উনি আমার স্বামী। আমি ওঁক‌ে প্রেমিক বলে মানতে না চাইলে জুতো দিয়ে আমাকে মারধরও করতেন।’’

মাঝে মধ্যেই নাকি দুবাই থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন ওই অভিনেতা। সঙ্গে কঙ্গনাকেও নিয়ে যেতেন তিনি। বয়স্ক পুরুষদের মাঝে কঙ্গনাকে বসিয়ে মাঝে মধ্যে বেপাত্তাও হয়ে যেতেন। কঙ্গনার বক্তব্য, ‘‘আমি তো ভয় পেতাম যে আমাকে হয়ত দুবাইয়ে পাচার করে দেওয়া হবে।’’

কঙ্গনার দাবি, সিনেমায় সুযোগ পাইয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও ওই অভিনেতা তা পূরণ করেননি। বরং নিজের যোগ্যতায় তিনি সুযোগ পান বলিউডে। তা নাকি ওই অভিনেতা বিশ্বাসই করে উঠতে পারেননি। কঙ্গনার সাফল্যে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেন তিনি। কঙ্গনার দাবি, তিনি যাতে শুটিংয়ে যেতে না পারেন তার জন্য ইঞ্জেকশন দিয়ে তাঁকে সংজ্ঞাহীন করে দেন।

ওই অভিনেতা তাঁকে মারধরও করতেন বলে দাবি কঙ্গনার। কঙ্গনা দাবি করেন, এমন মারধর করা হতো তাঁকে যে গায়ে দাগ বসে যেত। প্রথম ছবি ‘গ্যাংস্টার’-এর শুটিংয়ের সময় পরিচালক অনুরাগ বসুকে তা দেখিয়েছিলেন তিনি। কখনও কখনও অনুরাগ নিজের অফিসে তাঁকে রাতটুকু কাটাতে দিতেন।

শুধু তাই নয়, বলিউডের এক প্রথম সারির নেতা মাদক নিতে গিয়ে ওভারডোজ করে ফেলেছিলেন, তার জন্য কোকিলাবেন হাসপাতালে তাঁকে ভর্তিও হতে হয় বলে জানান কঙ্গনা। তাঁর দাবি, সেই সময় এক বিদেশি মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল প্রথম সারির ওই অভিনেতার। একটি ছবির শুটিংয়ে লাস ভেগাসে ছিলেন তাঁরা। সেই সময় প্রতি দিন রাতে পার্টি করার সময় এলএসডি, কোকেন এবং এক্সট্যাসি পিলস নিতেন ওই অভিনেতা।

কঙ্গনার দাবি, বলিউডের সঙ্গে যুক্ত ৯৯ শতাংশই মাদক নেন। বহু গোপন কথা জানেন বলে তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে, এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেন কঙ্গনা। তাঁকে বাইপোলার হিসাবে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন নায়িকা। সুশান্ত যে পরিবারের ছেলে তাতে তিনি মাদক নিতে পারেন না, তাঁকে জোর করে নেশা করানো হতো বলেও দাবি করেছেন কঙ্গনা।

কঙ্গনা নিজে যদিও কোনও অভিনেতার নাম নেননি, তবে কেরিয়ারের শুরুতে আদিত্য পাঞ্চোলির সঙ্গে তিনি লিভ ইন করতেন বলে শোনা যায়। আদিত্য তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে পরবর্তী কালে অভিযোগও করেন কঙ্গনা। এ ব্যাপারে আদিত্যর স্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েও নাকি পাননি বলে জানান তিনি।

যদিও সেই সময় আদিত্যর স্ত্রী দাবি করেন, কঙ্গনা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। এক সঙ্গে থাকতেন। তাই তাঁদের মধ্যে যদি কিছু ঝামেলা হয়েও থাকে, তিনি কঙ্গনাকে সাহায্য করতে যাবেন কেন?