বলিউড অভিনেতা আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে অতীতের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন তাঁর ভাই ফয়জ়ল খান। দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ ও পারিবারিক মতভেদের কথা একসময়ে প্রকাশ্যে আনলেও, এখন সেই সিদ্ধান্তকে ভুল বলেই স্বীকার করেছেন তিনি। শুধু আমির নন, মা, দিদি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিশেষ অতিথি হিসাবে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই ফয়জ়ল জানান, বহু দিন ধরে জমে থাকা অভিমান থেকেই তিনি একসময়ে পরিবারের নানা ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে বলেছিলেন। এখন সেই কাজের জন্য তাঁর অনুশোচনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, প্রথমেই তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে চান। পাশাপাশি দিদি নিখত এবং তাঁর স্বামী সন্তোষ হেগড়ের সম্পর্কেও যেসব মন্তব্য করেছিলেন, সেগুলিও অনুচিত ছিল বলে মেনে নিয়েছেন।
ফয়জ়ল বলেন, “আমি অনেকটাই সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম। ওসব বলা উচিত হয়নি। আমি বুঝতে পেরেছি, আমি ভুল করেছি। তাই সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।” আমিরের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ফয়জ়ল। তিনি জানান, অতীতে দাদার সম্পর্কেও কটূক্তি করেছিলেন, যার জন্য এখন তিনি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও দৃঢ় হোক, সেটাই তাঁর কামনা।
কথোপকথনে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও মুখ খোলেন ফয়জ়ল। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ ছিল। কেউ চিকিৎসকদের মতকে গুরুত্ব দিয়েছেন, আবার কেউ তাঁর বক্তব্যে আস্থা রেখেছেন। ফয়জ়ল জানান, তাঁর দিদি নিখত একাধিকবার বলেছেন যে তিনি স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত নন।
অতীতের চিকিৎসা প্রসঙ্গ টেনে ফয়সল বলেন, “পরিবার যখন আমাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল, তখন হয়তো রোগ নির্ণয়ে ভুল হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা হওয়ার পর আমাকে সুস্থ বলে জানানো হয়। সম্ভবত কিছু চিকিৎসক পরিবারকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।”
ফয়জ়লের আশা, অতীতের তিক্ততা ভুলে তাঁর পরিবার এবার তাঁকে বিশ্বাস করবে এবং নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেবে।
প্রায় এক বছর আগের কথা। আমিরের প্রতি একগুচ্ছ অভিযোগ করেন তিনি। কখনও বলেন, ‘আমির আমাকে মাদক দিয়ে নেশাগ্রস্ত করে রাখত।’ কখনও জানিয়েছেন, মারধর করে তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হত। প্রায় এক বছর তিনি নাকি গৃহবন্দি ছিলেন। পরে এই প্রসঙ্গে একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়েছিল আমিরের পরিবারের তরফে।