আমিরের তৃতীয় বিয়ে! পালিয়ে বিয়ে থেকে ব্রিটিশ মহিলার সঙ্গে সন্তানের গুঞ্জন, তারকার জীবনে এসেছে নানা মোড়
৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে করছেন তিনি। গত বছর ৬০ বছরের জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। তবে এই প্রথম নয়, প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য বার বার খবরে উঠে এসেছেন আমির।
তৃতীয় বার বিয়ে করতে চলেছেন আমির খান। ষাট বছরে এসে আমিরের আবার বিয়ের খবরে তোলপাড় নেটপাড়া। যদিও অভিনেতা সে সবের পরোয়া করেন না। ৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে করছেন তিনি। গত বছর ৬০ বছরের জন্মদিনে প্রেমিকার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। তবে এই প্রথম নয়, প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য বার বার খবরে উঠে এসেছেন আমির।
আমির খানের প্রথম আলোচিত প্রেম ছিল রিনা দত্তের সঙ্গে। রিনা তাঁর এলাকারই বাসিন্দা ছিলেন। জানা যায়, তাঁদের প্রেম শুরু হয়েছিল কিশোর বয়সেই। আমির বহু বার বলেছেন যে, তিনিই প্রথম রিনার প্রেমে পড়েছিলেন। পরে রিনাও প্রেমে পড়েন। পরিবারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে দেননি।
১৯৮৬ সালে বলিউডে বড় তারকা হয়ে ওঠার আগেই আমির খান গোপনে রিনা দত্তকে বিয়ে করেন। বলা হয়, দুই পরিবারের সম্মতি না থাকায় বিয়ের খবর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এর পর ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’ ছবির মাধ্যমে আমিরের কর্মজীবন দ্রুত এগিয়ে যায়। রিনা তখন বেশিরভাগ সময়ে প্রচারের বাইরে থাকতেন এবং নেপথ্যে থেকে আমিরকে সমর্থন করতেন।
আমির খান ও রিনা দত্তের দুই সন্তান রয়েছে—জ়ুনেইদ খান এবং আইরা খান। নব্বইয়ের দশকে তাঁদের পরিবারকে বেশ স্থিতিশীল বলেই মনে করা হত। আমির ও রিনাকেও সুখী দম্পতি বলেই মনে করতেন মানুষ। শোনা যায়, আমির নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। পরিবারকে সে ভাবে সময় দিতে পারতেন না। আর অন্য দিকে সংসার সামাল দিতেন রিনা।
২০০২ সালে আমির খান ও রিনা দত্ত তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। তারকার ভক্তদের জন্য বেশ বড় চমক ছিল এই খবর। প্রায় ১৬ বছরের বিবাহিত জীবন শেষ হলেও, দু’জনেই পরবর্তী সময়ে সন্তানদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন। এখনও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
রিনাকে বিয়ের পরে সুখে সংসার করলেও, তখনও বেশ কয়েক জন অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল আমির খানের। সেগুলি অবশ্য গুঞ্জন ও জল্পনা হিসাবেই থেকে গিয়েছে। ১৯৯১ সালে ‘দিল হ্যায় কে মানতা নেহি’ ছবিতে পূজা ভট্টের সঙ্গে আমিরের রসায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বলিউডের দিকে দিকে তাঁদের প্রেমের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তাঁরা কখনও সেই সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেননি। পরে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, আমিরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুর মতোই সম্পর্ক ছিল।
১৯৯৫ সালে ‘বাজ়ি’ ছবিতে মমতা কুলকর্ণীর সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন আমির। শোনা যায়, শুটিং চলাকালীন তাঁদের সম্পর্কে নাকি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এই গুঞ্জন নিয়েও আমির বা মমতা কেউই মুখ খোলেননি।
২০০০ সালে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির সাফল্যের পরে প্রীতি জ়িন্টার সঙ্গেও সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল আমিরের। এমন খবরও ছড়িয়েছিল যে তাঁরা গোপনে বিয়ে সেরেছেন। এই ছবির পরেই রিনা দত্তের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় আমিরের। তাই সেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়। যদিও এ নিয়ে পরে আর কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।
২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘লগান’। সেখানে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন কিরণ রাও। শোনা যায়, সেখান থেকেই কিরণের সঙ্গে বন্ধুত্বের শুরু আমিরের। তবে তখন তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়নি। ক্রমশ বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় এবং ধীরে ধীরে তা সম্পর্কে পরিণত হয়। দু’জনেই পরে জানান, তাঁদের চিন্তাভাবনা ও জীবনদর্শনে মিল ছিল।
আরও পড়ুন:
২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে আমির খান বিয়ে করেছিলেন কিরণ রাওকে। একসময়ে তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকারে একসঙ্গে উপস্থিত হতেন এবং একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের সম্পর্ককে বলিউডের অন্যতম সৃজনশীল জুটি হিসাবে দেখা হত।
২০১১ সালে আমির খান ও কিরণ রাও সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের পুত্র আজ়াদ রাও খানকে জন্ম দেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন যে, ভেবেচিন্তেই সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তাঁরা। তবে এই দাম্পত্যও স্থায়ী হয়নি।
২০২১ সালের জুলাই মাসে আমির খান ও কিরণ রাও যৌথভাবে তাঁদের বিচ্ছেদের কথা জানান। প্রায় ১৬ বছরের দাম্পত্যের পর তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে দুজনেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, তাঁরা বন্ধু হিসাবে থাকবেন, একসঙ্গে কাজ করবেন এবং ছেলে আজ়াদের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর মাঝে ব্রিটিশ সাংবাদিক জেসিকা হাইনসের সঙ্গেও আমিরের সম্পর্কের গুঞ্জন বলিউডে ঝড় তুলেছিল। নব্বইয়ের দশকে নাকি এই সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০০৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যেখানে দাবি করা হয়, আমির ও জেসিকা নাকি একত্রবাসে ছিলেন এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে এই গুঞ্জনে কখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি আমির।
২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘দঙ্গল’। সেখানে আমির খানের কন্যার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ফাতিমা সানা শেখ। পরে ফাতিমার সঙ্গেই গুঞ্জন ছড়ায়। এ-ও শোনা যায়, ফাতিমার জন্যই নাকি কিরণের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ফাতিমার সঙ্গে গুঞ্জন চলেছিল।
অবশেষে ২০২৫ সালে নিজের জন্মদিন উপলক্ষে আমির খান তাঁর প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দেন। বলেন, তাঁরা বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনতেন এবং পরে আবার যোগাযোগ হওয়ার পরে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়েছে। আমির জানান, গৌরী তাঁর জীবনে নতুন করে সুখ ও শান্তি এনে দিয়েছেন। ৫ জুলাই ঘনিষ্ঠ পরিজনের মাঝে বিয়ের আসর বসবে বলে শোনা যাচ্ছে।
কাজ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছাড়াও আমির খানের সম্পত্তিও বার বার আলোচনায় উঠে আসে। বলিউডের অন্যতম ধনী অভিনেতা তিনি। জানা যায়, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৮০০–২০০০ কোটি টাকা। মুম্বইয়ের বান্দ্রা ও পালি হিলে তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও মহারাষ্ট্রের পাঁচগনিতে তাঁর একটি বড় খামারবাড়ি রয়েছে। এখানে তাঁকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়।