Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

আবির আমার ডিটক্স...

আজ তাঁদের ছবি ‘হৃদমাঝারে’ রিলিজ। তার আগে পাঁচতারা হোটেলের কফিশপে আড্ডা মারলেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও রাইমা সেন। শুনলেন ইন্দ্রনীল রায়।আজ ছবি রিল

১১ জুলাই ২০১৪ ০০:০০

আজ ছবি রিলিজ। তার আগে তো আপনারা বেশ রিল্যাক্সড্ হয়ে পিত্‌জা খাচ্ছেন সুইমিং পুলের ধারে...

আবির: রাইমা থাকলে আপনি অটোম্যাটিক্যালি রিল্যাক্সড্ হয়ে যাবেন। ওর কিছুতেই টেনশন হয় না।

Advertisement

তাই কি?

রাইমা: হয়, হয়। আমারও টেনশন হয়। আমি বলি না। (এর মধ্যেই দেখলাম পিত্‌জা খেতে খেতে আবির হাসছেন)

আবির: একটাই কথা। রাইমার জন্য বাকিদের টেনশন হয়। এটা গ্যারান্টেড।

রাইমা: পুরোটা মিথ্যে। আমার এ রকম ইমেজ তৈরি করেছে সবাই। (হেসে)

বুঝলাম। এ বার ‘হৃদমাঝারে’তে ফেরা যাক। ছবির বিষয়বস্তু কী?

আবির: বলতে পারেন এই ছবিটা শেক্সপিয়রের প্রতি নতুন পরিচালক রঞ্জন ঘোষের শ্রদ্ধার্ঘ্য। শেক্সপিয়রকে একটু অন্য ভাবে ইন্টারপ্রেট করে ভাবা। যখন প্রথম শুনি গল্পটা, তখনই স্ক্রিপ্টটা আমার খুব ভাল লেগেছিল। আর রঞ্জন, অপর্ণা সেনকে অ্যাসিস্ট করেছে। খুব ভাল সিনেম্যাটিক সেন্স ওর। এটা শেক্সপিয়রের ৪৫০-তম বছরে রিলিজ করতে পেরে আমরা খুব খুশি। দর্শকরা সম্পূর্ণ অন্য ফ্লেভারের একটা ছবি দেখবেন। এ ছাড়াও এই ছবিতে সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে শীর্ষ রায়-ও দুর্দান্ত কাজ করেছেন।

শুনেছি এই ছবিতে নাকি আপনার চরিত্র নেগেটিভ?

আবির: নেগেটিভ কি না জানি না। এটাতে আমার ক্যারেক্টার ইজ ‘ফ্লড্’, এটুকুই বলব। প্রচুর কনট্র্যাডিকশন আছে আমার চরিত্রে। এটুকু বলতে পারি এমন আমি চরিত্র আগে করিনি।

ফেলুদার পর ‘ফ্লড্’ ক্যারেক্টার?

আবির: অভিনেতা হিসেবে এটা আমার কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং। যদিও এই ছবির শু্যটিং ফেলুদার আগে করেছি আমরা। তবে হ্যাঁ, যত ধরনের চরিত্র করতে পারব, অভিনেতা হিসেবে ততটাই সমৃদ্ধ হব।

রাইমাকে জিজ্ঞেস করি, এর আগে তো ‘বাইশে শ্রাবণ’য়ে আবির আর আপনি একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। আবিরের সঙ্গে কাজ করার এক্সপিরিয়েন্সটা বলুন।

রাইমা: আবির ইজ মাই ফ্রেন্ড. গুডলুকিং, হ্যান্ডসাম। এবং একদম নন-কন্ট্রোভার্সিয়াল। বাট ম্যারেড। সুতরাং আপনি তাই যে দিকে নিয়ে যেতে চাইছিলেন প্রশ্নটা, সে দিকে নিয়ে যেতে পারবেন না। (হাসি)

তা হয়তো নিয়ে যেতে পারলাম না। কিন্তু আপনার জন্মদিনে যে আপনি আবিরকে প্রচুর ‘বুলি’ করছিলেন, এক বার সেটা দেখেছি...

রাইমা: (প্রচণ্ড হাসি) আরে আমার থেকেও বেশি আবিরকে ‘বুলি’ করেছে মাম্মি। জন্মদিনে আবির কিছুতেই ওয়াইন খাবে না, এটা হয় না কি! শেষে আমি আর মাম্মি ওকে ওয়াইন আর টেকিলাও খাইয়ে দিয়েছিলাম। আবির ওয়াজ গন।

এই শ্যুটিংয়ে তেমন কিছু হয়নি?

রাইমা: এই শ্যুটিংয়ে আমি সারাক্ষণ ডায়েট করে গেলাম। আর আবির তো অন্যদের মতো নয়। এমনিতেই শ্যুটিংয়ের পর যে রকম আড্ডা বসে, সে রকম হত। কিন্তু আবির তো আর কিছু খায় না। (হাসি)

আবির কিন্তু হাসছেন?

আবির: ওই জন্মদিনের পর রাইমার সঙ্গে আর ওয়াইন খাই? পাগল না কি! আমি সেদিন কোনও রকমে বাড়ি পৌঁছেছিলাম। প্রচুর শিক্ষা হয়েছিল সেদিন। (হাসি)

আবির তো এখনও ট্রমাটাইজড্?

রাইমা: আবিরের সঙ্গে শ্যুটিং মানে কিন্তু আমার অটোম্যাটিক ডিটক্স। বাকিদের সঙ্গে শ্যুটিংয়ে যা হয় না।

বাকিরা মানে? পরম আর শাশ্বত?

ওদের সঙ্গে শ্যুটিং করলে শ্যুটিংয়ের পর ডিটক্স করতে হয়। সেদিক থেকে দেখলে আবির ড্রিঙ্ক করে না, স্মোক করে না। ফুল ডিটক্স। (হাসি)

আবার এই ছবিতে ফিরি। কোথায় কোথায় শ্যুটিং করলেন আপনারা?

রাইমা: আন্দামানে শ্যুটিং হয়েছে। পুরো আন্দামান সুন্দর ভাবে এক্সপ্লোর করা হয়েছে ছবিতে। বাকি শ্যুটিং আমরা করেছি কলকাতায়। ইট ওয়াজ ফান। সোহাগদিও থাকতেন সেটে। সোহাগদির সঙ্গেও প্রচুর আড্ডা মারতাম আমি আর আবির।

নতুন ডিরেক্টরদের নাকি ‘বুলি’ করতেন রাইমা? এ বারে রঞ্জনের ক্ষেত্রেও কি তাই হয়েছে?

আবির: সত্যি বলতে রঞ্জন ভয়ে ভয়ে ছিল রাইমা প্রচুর ট্যানট্রামস করবে ভেবে। কিন্তু শ্যুটিংয়ে দেখলাম রাইমা সে রকম কিছুই করেনি। একদিন শুধু রঞ্জনের উপর একটু রেগে গিয়েছিল। সেদিন রঞ্জন জিমি জিব নিয়ে শুধু রাইমার পায়ের ক্লোজ আপ তুলেছিল। সেদিন রাইমার রাগ সামলেছিল শীর্ষদা।

আচ্ছা, স্যুইমিং পুলের ধারে আপনাদের ফোটো সেশন দেখছিলাম। ভাল কেমিস্ট্রি আছে কিন্তু আপনাদের?

রাইমা: আছে না কেমিস্ট্রি? আমিও বিশ্বাস করি আছে। অনেকগুলো ছবি-ই তো করেছি আমরা দু’জন। আমার ধারণা ‘হৃদমাঝারে’র পর আরও কিছু পরিচালক আমাদের সাইন করাবেন। তাই ফিঙ্গার্স ক্রসড্।

থ্যাঙ্ক ইউ আবির অ্যান্ড রাইমা...

আবির: থ্যাঙ্ক ইউ। শেষে বলি, আমি কিন্তু পুরো আড্ডায় শুধু এক টুকরো পিত্‌জা খেলাম। বাকিটা কিন্তু রাইমা খেয়েছে।

রাইমা: হাহাহাহা...

আরও পড়ুন

Advertisement