×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৫ মে ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

‘কাজ না পেলে এ বার হাত পাততে হবে,’ অতিমারিতে চরম অর্থসঙ্কটে দিলীপকুমারের ভাইপো অভিনেতা আয়ুব খান

নিজস্ব প্রতিবেদন
২১ এপ্রিল ২০২১ ১১:০৫
দেড় বছর ধরে কাজ নেই। শেষ সম্বল বলতে পড়ে থাকা সামান্য সঞ্চয়। অর্থসঙ্কটের কথা সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে ভেঙে পড়লেন অভিনেতা আয়ুব খান।

চলচ্চিত্র এবং দূরদর্শনের জনপ্রিয় এই অভিনেতা জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরে তিনি কিচ্ছু উপার্জন করেননি। সঙ্কটজনক এই পরিস্থিতি তাঁর মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
Advertisement
আর্থিক অবস্থার সুরাহা না হলে তাঁকে অন্য কোথাও থেকে সাহায্য নিতে হবে। অর্থাৎ কারও কাছে হাত পাততে হবে। সংবাদমাধ্যমে সে কথাও জানিয়েছেন আয়ুব।

পঞ্চাশোর্ধ্ব আয়ুব দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে। মুম্বইয়ে তাঁর জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। তাঁর বাবা নাসির খান ছিলেন দিলীপকুমারের ভাই। দাদার মতো উচ্চতায় পৌঁছতে না পারলেও নাসিরও ছিলেন অভিনেতা। আয়ুবের মা বেগম পারা-ও ছিলেন অতীতের নায়িকা।
Advertisement
দিলীপকুমারের ভাইপো আয়ুবের প্রথম ছবি ‘মাশুক’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯২ সালে। তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য বাকি ছবি হল ‘মেরি আন’, সালামি’, ‘স্মাগলার’, ‘মৃত্যুদণ্ড’, ‘দাদাগিরি’, ‘খোটে সিক্কে’, ‘চেহরা’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘এলওসি: কার্গিল’, ‘গঙ্গাজল’ এবং ‘অপহরণ’।

ছবির পাশাপাশি দূরদর্শনেও জনপ্রিয় আয়ুব। ১৯৯৯ সালে ‘মুসকান’ ধারাবাহিকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। এর পর বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি।

 ‘অপহরণ’, ‘আঁধি’, ‘সাহেব বিবি গুলাম’, ‘উতরন’, ‘এক হসিনা থি’-সহ বহু ধারাবাহিকে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন আয়ুব।

‘উতরন’-এর যোগী ঠাকুর, ‘এক হসিনা থি’-র রাজনাথ গোয়েঙ্কা এবং ‘শক্তি’ ধারাবাহিকের মনিন্দর সিংহ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে চলে এসেছিলেন আয়ুব।

কলেজে পড়ার সময় আয়ুবের আলাপ হয়েছিল নীহারিকা ভাসিনের সঙ্গে। ‘রক অন’, ‘ভূতনাথ’, ‘কার্তিক কলিং কার্তিক’, ‘ব্যান্ড বজা বরাত’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’, ‘হিরোইন’, ‘কাই পো চে’, ‘বম্বে ভেলভেট’, ‘ফিতুর’, ‘মার্গারিটা উইথ এ স্ট্র’-সহ অসংখ্য ছবিতে পোশাক পরিকল্পক হিসেবে কাজ করেছেন নীহারিকা।

‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতে পোশাক পরিকল্পনা করে জাতীয় পুরস্কার পান নীহারিকা। কলেজজীবনেই তিনি আয়ুবের প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রেম সে সময় বিয়ে অবধি গড়ায়নি। কলেজের পরে নীহারিকা পাড়ি দেন আমেরিকা।

এর পর আয়ুব এবং নীহারিকার জীবন দু’দিকে ঘুরে যায়। দু’জনেই অন্য কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু কোথায় যেন প্রেমের টান রয়েই গিয়েছিল। দু’জনের দেখা হয় ১১ বছর পরে। কলেজের পুরনো জুটি অনুভব করেন এখনও তাঁদের মধ্যে আকর্ষণ হারায়নি।

প্রথম পক্ষের জীবনসঙ্গীকে ডিভোর্স করে বিয়ে করেন আয়ুব এবং নীহারিকা। দুই সন্তানকে নিয়ে ছন্দেই এগোচ্ছিল সংসার। কিন্তু দাম্পত্যের কয়েক বছর পরেই সুর কেটে গেল। আলাদা হয়ে গেলেন আয়ুব এবং নীহারিকা। ২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে ভেঙে যায়।

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে আয়ুব বলেছিলেন তাঁরা একে অন্যকে সময় দিতে পারছিলেন না। ব্যস্ত ছিলেন কাজ নিয়েই। তবে সন্তানদের জন্য নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাঁরা। সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে নীহারিকার বাড়িতে যান আয়ুব।

শুধু পেশাদার জীবনেই নয়। অতিমারিতে আয়ুব ভেঙে পড়েছেন মানসিক আঘাতেও। হারিয়েছেন দুই প্রবীণ আত্মীয় এবং কিছু বন্ধুকে। চারদিকে বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে তাঁর সবথেকে রাগ হয় দায়িত্বজ্ঞানহীন নাগরিকদের উপর।

অতিমারিতে সুরক্ষাবিধি মেনে চলার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অভিনেতার আক্ষেপ, নিজস্ব বৃত্তে বিপদ না এলে অনেকেরই টনক নড়ে না।