নায়িকারা সচরাচর পর্দায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে চান না। কিন্তু অনেক সময় অবশ্য উলটপুরাণও হয়। অভিনেত্রী পায়েল রায়ের ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে। প্রথমে তাঁকে দেখা গিয়েছিল অম্বরীশ ভট্টাচার্যের স্ত্রীর চরিত্রে। এখন তাঁকে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মায়ের চরিত্রে। একসময় রাহুলের নায়িকা হিসাবেও অভিনয় করেছেন যে পায়েল, তিনি হঠাৎ কেন এই চরিত্রে রাজি হলেন?
‘তুমি আসবে বলে’ ধারাবাহিকে প্রেমিক-প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এত বছর পরে ছোটপর্দায় ফিরে কেন রাহুলের মায়ের চরিত্রের জন্য ‘হ্যাঁ’ বললেন পায়েল? অভিনেত্রী জানালেন, আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে মায়ের চরিত্র। এ ক্ষেত্রে একটু ভেবে দেখার বিষয় রয়েছে। কারণ, গল্প কয়েক বছর এগিয়ে গিয়েছে। পায়েল যোগ করেন, “প্রথমে দেখানো হয়েছিল আমার ছেলেমেয়ে ছোট। নতুন সিজ়নে গল্প কিন্তু ২০ বছর এগিয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী আমার বয়স বেড়েছে। আমার ছেলেমেয়েও বড় হয়ে গিয়েছে। এই কারণেই আমি রাজি হয়েছি।”
আরও পড়ুন:
লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় আগেই পায়েলের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন। অভিনেত্রী আদৌ এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান কি না, জেনে নিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর যুক্তি, “গল্প এগিয়েছে বলে আমার বয়স বেড়েছে, এমন দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আশা করছি, এখানে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছি মানে আগামী দিনেও একই চরিত্রের সুযোগ আসবে, তেমন হবে না।”
এ ক্ষেত্রে স্টুডিয়োপাড়ার বদনাম রয়েছে। অনেকেই বলেন, যদি এক বার কেউ এক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন, সেই শিল্পীর কাছে পরবর্তীতে একঘেয়ে চরিত্রের সুযোগই আসে। এই প্রেক্ষিতে পায়েল বলেন, “এখানে তো প্রথমেই আমাকে বড় ছেলের মা হিসাবে দেখানো হয়নি। তাই আরও উত্তেজিত লাগছে। মনে হচ্ছে মঞ্চে অভিনয় করছি। তবে, তার পরেও বলব, বড় ছেলের মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে এলে হয়তো আমি গ্রহণ করব না। এখানে গল্পটায় ‘লিপ’ দেখানো হচ্ছে, তাই রাজি হওয়া।” উল্লেখ্য, রাহুলের সঙ্গে শুধু ধারাবাহিকে নয়, নিজের প্রথম ছবি ‘বালুকাবেলা ডট কম’-এ অভিনেতার প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পায়েল। তাই বাস্তবে দাদা হিসাবে যাঁকে সম্বোধন করেন অভিনেত্রী, তাঁর মা হিসাবে নিজেকে ফুটিয়ে তোলাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিয়েছেন পায়েল।