×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

নেহার বিয়েতে নিমন্ত্রিতই ছিলেন না, প্রথম নায়িকার গলাতেই মালা দিলেন আদিত্য নারায়ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন
০২ ডিসেম্বর ২০২০ ১৩:৪৯
‘মাসুম’ ছবিতে তাঁর কচি গলায় ‘ছোটা বচ্চা জান কে হমকো’ সুপারহিট হয়েছিল। সে দিনের শিশু আজ ঝকঝকে তরুণ। প্লেব্যাকের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন। কিন্তু গায়ক বা নায়ক কোনও দিকেই এখনও অবধি প্রথম সারিতে আসতে পারেননি আদিত্য নারায়ণ। সুপারহিট গায়কের ছেলে হয়েও প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে এখনও অনেক দূরে তিনি।

উদিত নারায়ণ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী দীপার একমাত্র সন্তান আদিত্যর জন্ম ১৯৮৭ সালের ৬ অগস্ট। উদিতের প্রথম স্ত্রী ছিলেন রঞ্জনা। বিবাহিত অবস্থাতেই উদিত প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দীপার সঙ্গে। দীর্ঘ কয়েক বছর তিনি রঞ্জনাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকারই করেননি। পরে স্বীকার করেন প্রথম বিয়ের কথা।
Advertisement
নেপালি ছবিতে প্লেব্যাকের হাতেখড়ি হয় আদিত্যর। ১৯৯২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি গান করেন নেপালি ছবি ‘মোহিনী’-তে। এর পর ‘রঙ্গিলা’, ‘আকেলে হম আকেলে তুম’, ‘মাসুম’, ‘শাস্ত্র’, ‘পরদেশ’, ‘দিলজলে’, ‘চাচি ৪২০’, ‘বিবি নাম্বার ওয়ান’, ‘তাল’, ‘রাজা কো রানি সে প্যায়ার হো গ্যয়া’-র মতো ছবিগুলিতে ছোট্ট আদিত্যর গান মন জয় করেছিল শ্রোতাদের।

প্লে ব্যাকের পাশাপাশি শিশুশিল্পী হিসেবেও অভিনয় করেন আদিত্য। ‘রঙ্গিলা’, ‘পরদেশ’, ‘জব প্যায়ার কিসি সে হোতা হ্যায়’ ছবিতে অভিনয়ও করেন আদিত্য। পরবর্তীতে ‘শাপিত’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ শ্বেতা আগরওয়ালের।
Advertisement
বিক্রম ভট্টের পরিচালনায় ‘শাপিত’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১০ সালে। এই ছবির নায়ক ছিলেন আদিত্য। বিপরীতে নায়িকা ছিলেন শ্বেতা। শ্যুটিং চলতে চলতেই আলাপ গড়িয়ে গেল মন দেওয়া নেওয়ায়। তবে দু’জনে তাঁদের প্রেম গোপন রেখেছিলেন এক দশক ধরে। বরং, আদিত্যর নাম জড়িয়ে যায় নেহা কক্করের সঙ্গে।

২০০৭ সালে আদিত্য সঞ্চালক হিসেবে যোগ দেন ‘সা রে গা মা চ্যালেঞ্জ’-এ। তাঁর সঞ্চালনা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। দর্শকদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে আদিত্যকেই ২০০৯ সালে এই শো সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি ‘সা রে গা মা লি’ল চ্যাম্পস’ এবং ‘এক্স ফ্যাক্টর’-এরও সঞ্চালনা করেন।

সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘গলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’ ছবিতে কাজ করেছিলেন আদিত্য। এর পর কয়েক বছর তিনি ব্যস্ত ছিলেন নিজের সিঙ্গল গান এবং মিউজিক ব্যান্ড নিয়ে।

২০১৬ সালে আবার ‘সা রে গা মা পা’-র সঞ্চালক হয়ে ফিরে আসেন আদিত্য। সেই মরসুমে গ্র্যান্ড ফিনালে-এর টিআরপি রেকর্ড মাত্রা স্পর্শ করেছিল। ছাপিয়ে গিয়েছিল ‘সা রে গা মা পা চ্যালেঞ্জ ২০০৯’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে-এর রেকর্ডও।

‘সা রে গা মা পা’-র বিভিন্ন মরসুম ছাড়াও আদিত্য সঞ্চালনা করেছেন ‘রাইজিং স্টার’, ‘কিচেন চ্যাম্পিয়ন’, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মতো জনপ্রিয় শো। অতিথি হয়ে হাজির ছিলেন ‘দ্য কপিল শর্মা শো’, ‘বিগ বস ১৩’ এবং ‘ইন্ডিয়াজ বেস্ট ডান্সার’-এ।

চলতি বছর ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর দ্বাদশ মরশুমে আদিত্যের সঞ্চালনা ছিল দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে। এই শো-এ গায়িকা নেহা কক্করের সঙ্গে আদিত্যর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন তীব্র হয়েছিল।

বিচারক নেহার সঙ্গে সঞ্চালক আদিত্যর ফ্লার্ট ছিল এই শো-এর অন্যতম আকর্ষণ। দু’জনের অনুরাগীরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন তাঁদের সম্ভাব্য বিয়ের কথা।

তবে অনুরাগীদের ভাবনা রয়ে যায় কল্পনার স্তরেই। ২৪ অক্টোবর নেহা বিয়ে করেন তাঁর প্রেমিক রোহনপ্রীত সিংহকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের বিয়ের ছবি ভেসে যায় অনুরাগীদের শুভেচ্ছাবার্তায়।

নেহার বিয়ের কয়েক দিন পরেই আদিত্য জানান, তিনিও বিয়ে করতে চলেছেন ডিসেম্বরে। তবে আদিত্যর দাবি, নেহার সঙ্গে ফ্লার্ট পুরোটাই ইন্ডিয়ান আইডল-এর প্রচারকৌশল ছিল না। কারণ অন্য শো-এও তিনি নেহার সঙ্গে ফ্লার্ট করেছেন। উদিত নাকি নেহাকে নিয়ে ছেলের সঙ্গে এখনও রসিকতা করেন।

তবে যাঁকে নিয়ে এত গুঞ্জন, সেই নেহার বিয়েতে নিমন্ত্রতই ছিলেন না আদিত্য। সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কোনও নিমন্ত্রণবার্তা এসে পৌঁছয়নি।

অতিমারির নিয়মবিধি মেনে আদিত্যর বিয়ের আসরেও নিমন্ত্রিত ছিলেন খুব কম। পরিজন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের সামনে মুম্বইয়ের ইসকন মন্দিরে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন আদিত্য-শ্বেতা।

অতিমারির সময় হলেও বিয়ের রীতিনীতি পালনে কোনও খামতি ছিল না। উদিত এবং দীপার নাচে জমে গিয়েছিল বরযাত্রীদের শোভাযাত্রা।

বিয়ের আগে মেহেন্দি এবং হলদি অনুষ্ঠানের ছবিও আদিত্য ও শ্বেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন।

তবে আদিত্য জানিয়েছেন তিনি এবং শ্বেতা দু’জনেই তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসর আড়ালেই রাখতে চান।

নবপরিণীতা শ্বেতা নিজেও এক জন মডেল এবং অভিনেত্রী। তিনি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ফাল্গুনী পাঠকের মিউজিক ভিডিয়োয়। ছোট পর্দায় ‘বাবুল কি দুয়াএঁ লেতি জা’, ‘শগুন’, ‘দেখো মগর প্যায়ার সে’-এর মতো সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় পছন্দ করেছিলেন দর্শকরা।

পরবর্তী সময়ে আদিত্যর সঙ্গে ‘শাপিত’ ছাড়াও শ্বেতা অভিনয় করেছেন বেশ কিছু দক্ষিণী ছবিতে। তুরস্কের ছবি ‘মিরাজ’ এবং সুইৎজারল্যান্ডের ছবি ‘তন্দুরি লভ’-এও ছিলেন তিনি।