Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

‘আমার স্বামীকে ডেট করবে আবার আমার কাছেই সাহায্য চাইবে!’

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:২০
কঙ্গনা রানাউত। বি-টাউনের ‘কুইন’। নায়িকা জীবনের প্রথম অধ্যায়ে নাবালিকা কঙ্গনার সঙ্গে ২১ বছরের বড় আদিত্য পাঞ্চোলির সম্পর্ক নিয়ে বলিপাড়ায় গুঞ্জন আজও বহাল। বলিউডে নিজের পরিচিত পাওয়ার আশায় আদিত্যকে আঁকড়ে ধরা কঙ্গনা, পরবর্তীকালে আদিত্য-র বিরুদ্ধেই এনেছিলেন ধর্ষণের অভিযোগ।

বলেছিলেন, এক রাতে আদিত্য নাকি মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর। পাল্টা আক্রমণ এসেছিল আদিত্যর তরফেও। পাশে পেয়েছিলেন স্ত্রী জারিনাকে। কী হয়েছিল?
Advertisement
ফিরে যাওয়া যাক বেশ কয়েক বছর আগে। বলিউডে নিজের পরিচিত লাভের আশায় হিমাচল প্রদেশের পাহাড় ঘেরা গ্রামের পাহাড়ি মেয়ে কঙ্গনা রানাউত চলে এসেছিলেন মায়া নগরীতে। তখন তাঁর বয়স ১৬/১৭।

কঙ্গনার কথায় এমন অনেক রাত কেটেছে রাতে খাবারটুকু জোটেনি তাঁর। জোটেনি শোবার জায়গাও। আর সেই সুযোগের ‘ফায়দাই’ নাকি নিয়েছিলেন বলিউডের বেশ কিছু বড় নামধারীরা।

কী করবেন, কোথায় থাকবেন, কী ভাবে পরিচিতি বানাবেন তা নিয়ে কঙ্গনা যখন একেবারে নাজেহাল ঠিক তখনই কঙ্গনার পরিচয় হয় অভিনেতা-প্রযোজক আদিত্য পাঞ্চোলীর সঙ্গে।
Advertisement
অচিরেই কঙ্গনার সঙ্গে সখ্য বাড়তে থাকে আদিত্যর। দু’জনের মধ্যে বয়সের ফারাক ২১ বছর। কিন্তু তা সত্ত্বেও ‘এক নবাগতার সঙ্গে আদিত্যর প্রেম’-এর হেডলাইনে ভরে উঠতে পেজ-থ্রি।

শোনা যায়, আদিত্যই কঙ্গনাকে পরিচয় করিয়ে দেন বলিউডের নামী পরিচালকদের সঙ্গে। স্ত্রী জারিনার সঙ্গেও সম্পর্কে ফাটল ধরে। আদিত্য কঙ্গনাকে একসঙ্গে দেখা যেতে থাকে পার্টি, রেস্তরাঁতে।

এর মধ্যেই কঙ্গনার ভাগ্য সদয় হয়। ‘গ্যাংস্টার’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। প্রশংসা কুড়োন। পুরস্কারও পান। সেখানেও সঙ্গে ছিলেন আদিত্য। কিন্তু এর কিছু দিনের মধ্যেই খবর আসতে থাকে কঙ্গনা এবং আদিত্যর সম্পর্কে নাকি ছেদ পড়েছে। নিন্দুকেরা বলতে থাকেন ‘সম্পর্ক’ আদৌ ছিল তো?

কালের নিয়মে চাপা পড়ে যায় কঙ্গনা-আদিত্যর সম্পর্কের কথা। কিন্তু ২০১৬ নাগাদ সব হিসেব ওলট পালট হয়ে যায়। এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা সরাসরি অভিযোগ করে দাবি করেন, তাঁকে নাবালিকা অবস্থায় নিয়মিত ধর্ষণ করতেন আদিত্য। শুধু তাই নয়, শারীরিক ভাবেও নাকি নিগ্রহ করতেন পাঞ্চোলি।

এক বার নাকি কঙ্গনাকে এমন মেরেছিলেন যে মাথা ফেটে রক্ত বেরতে শুরু করে। কঙ্গনা বলেন, “এমন জোরে ধাক্কা মারল মেঝেতে পড়ে গেলাম। মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরতে লাগল। আমার বয়স তখন মেরেকেটে ১৭। আমি ছেড়ে দিইনি। নিজের হাওয়াই চটি দিয়ে মেরেছিলাম। তার মাথা থেকেও রক্ত বেরতে শুরু করে। সে দিন থেকেই বুঝলাম আমি জন্ম থেকেই ‘ফাইটার’।”

কঙ্গনা আরও দাবি করেন, গোটা ঘটনার কথা বার বার আদিত্যর স্ত্রী জারিনাকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। কঙ্গনার কথায়, “বার বার বলতাম আমাকে বাঁচান। আমি তো আপনার মেয়ের থেকেও ছোট। কিন্তু সাহায্য পাইনি। বাড়িতে বলতে পারতাম না। জানি বললে বাবা-মা বলবে মুম্বই ছেড়ে দিতে। তাই দিনের পর দিন মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছি।”

কঙ্গনার দিদি রঙ্গোলী চান্ডেল অভিযোগ করেন, জারিনা নাকি মুখ বন্ধ করার জন্য কঙ্গনাকে দামি উপহার দিতেন। এমনকি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর মতো নামজাদা পরিচালকের সঙ্গেও দেখা করিয়ে দিয়েছিলেন কঙ্গনার। স্বামীর ‘কুকর্ম’-র কথা যাতে ফাঁস না হয়, সে জন্য কঙ্গনা প্রতি দিন কঙ্গনাকে ভাল ভাল খাবারও পাঠাতেন বলে দাবি করেন রঙ্গোলী।

যদিও জারিনা বলেন, “এ সব মিথ্যে। সাড়ে চার বছর ধরে আমার স্বামীকে ডেট করেছে ও। তার পরেও তাকে মেয়ে হিসেবে কী ভাবে ভাবতে পারি আমি। আমার মেয়ের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করছে। মানেটা কী?” জারিনা আরও যোগ করেন, “আমারই স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে থেকে আবার আমার কাছেই সাহায্যের জন্য আসবে? এমনটা হয় কখনও? কথা বলবেই যখন বুঝে শুনে বলুক।”

এখানেই শেষ নয়। ২০১৯ সালে আদিত্যর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এফআইআর করেন। যদিও আদিত্যও ছাড়েননি। তিনি কঙ্গনা এবং তাঁর দিদির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। আদিত্য বলেন, “কঙ্গনা পাগল হয়ে গিয়েছে। ও কী বলছে নিজেই জানে না। ওর কথায় সবাই খারাপ। শুধু ও একাই ভাল।”

স্বামীর পাশে দাঁড়ান জারিনাও। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে বলে তুমি হঠাৎ করে এক জনকে এত বছর পরে ধর্ষণে অভিযুক্ত করতে পার না। আমি জানি কী হয়েছে। আদিত্য কোনও ভুল করেনি।”

আদিত্য-কঙ্গনা সম্পর্ক এখন অতীত। কিন্তু কঙ্গনার জীবনে বিতর্ক আজও একই ভাবে বহাল। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে শিবসেনার সংঘাতে উত্তাল দেশ। কঙ্গনার পক্ষে বিপক্ষে ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া, বলিউড। তাতে অবশ্য তাঁর খুব একটা হেলদোল নেই। বলিউডের ‘কুইন’ নিজে যা ভাল বোঝেন, সেটাই করে থাকেন বরাবর।