×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

ছবির খলনায়িকাই হবু জীবনসঙ্গিনী, অতিমারিতে পিছিয়ে গিয়েছে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর জয়ের বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন
২০ অক্টোবর ২০২০ ১২:০২
কেরিয়ার শুরু করেছিলেন হলিউডে। সেখান থেকে পা রাখেন বলিউডে। সুদর্শন এই অভিনেতা অভিনয়েও দক্ষ। কিন্তু সেই তুলনায় বেশ পিছিয়ে প্রচারদৌড়ে। কারণ তাঁর জনসংযোগ দুর্বল। নিজের ছবির খলনায়িকাকেই বশ করেছেন নিজের ব্যক্তিত্বে। তিনি-ই আজ তাঁর বান্ধবী। অভিনেতার নাম, আলি ফজল।

আলির জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর, লখনউ শহরে। শৈশবেই বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁর বাবা মায়ের। আলির ছোটবেলা কেটেছে তাঁর দাদু দিদার কাছে। পড়াশোনা দূন স্কুল এবং লখনউয়ের লা মার্টিনিয়ের কলেজে। পরে তিনি মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন। বিষয় ছিল অর্থনীতি।
Advertisement
স্কুলের অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছিলেন শেক্সপিয়রের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকে। অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন। পান পুরস্কারও। এর পর থেকেই অভিনয়ের ইচ্ছে বাড়তে থাকে মনে। পরে মুম্বইয়ে কলেজে পড়ার সময় হাতেখড়ি থিয়েটারে।

থিয়েটারজীবনেই শুরু ছবিতে অভিনয়ও। ২০০৮ সালে তিনি অভিনয় করেন ইন্দো মার্কিন ছবি ‘দ্য আদার এন্ড অব লাইফ’-এ। তবে এই ছবি ব্যর্থ হয়। অনুচ্চারিত থেকে যায় আলির পারফরম্যান্সও।
Advertisement
থিয়েটার করতে করতেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় বিখ্যাত পরিচালক সৈয়দ মির্জার সঙ্গে। তিনি আলিকে সুযোগ দেন ‘এক ঠো চান্স’ ছবিতে। ছবিতে অমৃতা অরোরা, সৌরভ শুক্লর মতো তারকার সঙ্গে তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। ছবিটি বিদেশে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ভারতে ছবিটি মুক্তিই পায়নি।

হতাশ আলি আবার ফিরে যান থিয়েটারে। এ বার তিনি সুযোগ পান রাজকুমার হিরানির ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ। ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন জয় লোবোর চরিত্রে। যিনি ড্রোন বানিয়েছিলেন। কিন্তু কেরিয়ারের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন।

ছবিতে তাঁর ভূমিকা ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ তাঁর আত্মহত্যা ঘিরেই আবর্তিত হয় ছবির গল্প। যেখানে মূল বার্তা ছিল জীবনে চাপের মুখে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনও বিষয়েই সফল হওয়া যায় না।

পরে আলি জানিয়েছিলেন ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ কাজ করা নিয়ে তিনি খুবই নার্ভাস ছিলেন। অডিশনে হাজির ছিলেন আমির খান স্বয়ং। ১০ দিন ওয়ার্কশপের পরে শুরু হয়েছিল শ্যুটিং।

শাহরুখ খান প্রযোজিত ছবি ‘অলওয়েজ কভি কভি’-তে অভিনয়ের জন্য আলি ১৫ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছিলেন। তবে আলি ফজল সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা পান ‘ফুকরে’ ছবিতে। সেখানে তাঁর ‘জাফর’ চরিত্রটি প্রথমে ছিল অন্তর্মুখী। তার পর বন্ধুদের সাহচর্যে তিনিও নিজেকে মেলে ধরেন।

‘ফুকরে’ ছবিতে অভিনয়ের সময়েই আলির আলাপ হয় রিচা চড্ডার সঙ্গে। এই ছবিতে রিচা ছিলেন গ্যাংস্টার ‘ভোলি পঞ্জাবন’-এর চরিত্রে। পরে তাঁদের আলাপ ঘনিষ্ঠ হয়ে রূপান্তরিত হয় প্রেমে।

অল্প সময়ের মধ্যেই বলিউডে নিজের জায়গা করে নিচ্ছিলেন আলি। ‘ববি জাসুস’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালনের সঙ্গে। ছবিটি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও প্রশংসিত হয়েছিল আলির কাজ।

কাজের সুযোগও ক্রমাগতই আসতে থাকে আলির কাছে। ‘খামোশিয়াঁ’, ‘হ্যাপি ভাগ যায়েগী’, ‘লভ অ্যাফেয়ার’, ‘ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আব্দুল’, ‘ফুকরে রিটার্নস’ এবং ‘হ্যাপি ফির ভাগ যায়েগী’ ছবিতে। তবে কেরিয়ারে প্রথম থেকেই তিনি ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক।

হিন্দির পাশাপাশি ইংরেজি ছবিতেও সমান স্বচ্ছন্দ আলি। ‘ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আব্দুল’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হন বিশ্বে দরবারেও। জুডি ডেঞ্চের মতো দাপুটে অভিনেত্রীর পাশে একেবারে সমানে সমানে ছিলেন আলি। এই ছবির রেড কার্পেটে রিচা ছিলেন তাঁর বাহুলগ্না। এই অনুষ্ঠানেই তাঁরা নিজেদের সম্পর্ককে সিলমোহর দেন।

ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’ এবং ‘ব্যান্ড বাজা বরাত’-এও উল্লেখযোগ্য মুখ আলি ফজল। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে নানারকম কাজের পরেও কোথাও যেন একটু হলেও পিছিয়ে আছেন আলি। বলিউডের বাণিজ্যিক মূলস্রোতে এখনও সেভাবে উচ্চারিত হয় না তাঁর নাম।

এ বছরই মুক্তি পেয়েছে ‘ডেথ অন দ্য নাইল’-এর ট্রেলার। আগাথা ক্রিস্টি সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র এরকুল পোয়েরোর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই ছবিটি। সেই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন আলি। পোয়েরোর চরিত্রে কেনেথ ব্রানা তো আছেনই, তার সঙ্গে ছবিতে গ্যাল গ্যাডট, রাসেল ব্র্যান্ড, এমা ম্যাকে-রা রয়েছেন।

তাঁর অনুরাগীদের মত, অভিনয় ভাল করলেও আলির জনসংযোগ দুর্বল। পাবলিসিটি স্টান্সেরও পক্ষপাতী নন তিনি। বলিউডের চেনা ছকের বাইরে তিনি জীবনের অন্য শর্তগুলিকেও গুরুত্ব দেন।

এ বছর এপ্রিলে আলি ফয়জল এবং রিচা চড্ডার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অতিমারির কারণে পিছিয়ে গিয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান।

আলির কোনও নিজস্ব পি আর টিম নেই। তিনি নিজেই নিজের ভিডিয়ো তৈরি করে পোস্ট করেন। দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়েও পড়েছে তাঁর ভিডিয়োগুলি।

কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে যোগ না দিয়ে আলি ফজল জীবনকে সাজিয়েছেন নিজের পছন্দ অপছন্দের ভিত্তিতেই।