‘হয় প্রেমিকাকে ছাড়ো, নয় সিনেমা’! ৩৪ বছর আগে কেন সইফকে ছবি থেকে বাদ দেন পরিচালক? প্রকাশ্যে ‘গোপন তথ্য’
বলি পরিচালকের দাবি, সইফ আলি খান অপেশাদারের মতো আচরণ করতেন। নিজের কাজকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না তিনি। এমনকি, সেটে মদ খেয়ে এসে নাকি শুয়েও পড়তেন সইফ।
বড়পর্দায় খুব একটা দেখা যায় না। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মাঝেমধ্যে উপস্থিত হন। সেখানেও থাকে দীর্ঘ বিরতি। পটৌডী রাজপরিবারের সন্তান এবং বলি অভিনেতা সইফ আলি খানের কেরিয়ারের গোড়াতেই হয়েছিল পতন। ৩৪ বছর পর আবার সেই কাদা ছোড়াছুড়ির নেপথ্যে থাকা ‘গোপন তথ্য’ প্রকাশ্যে আনলেন বলি পরিচালক।
১৯৯১ সাল। বড়পর্দায় তখনও কেরিয়ার শুরু করেননি সইফ। বলিপাড়া সূত্রে খবর, সইফের এক আত্মীয় তাঁকে বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। ব্রিটেনে পড়াশোনা শেষ করে বিজ্ঞাপনের কাজে মুম্বই যান সইফ। কোনও কারণে শুটিং না হলেও সইফ স্থির করে ফেলেন যে তিনি অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়বেন।
রাহুল রাওয়াইল পরিচালিত ‘বেখুদি’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান সইফ। কাজলের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। কয়েকটি দৃশ্যের শুটিংও শেষ করে ফেলেন সইফ। সেই সেটেই সইফের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় অমৃতা সিংহের। আশির দশক থেকে কেরিয়ার গড়ে তত দিনে অমৃতা বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী।
কানাঘুষো শোনা যায়, রাহুলের প্রিয় বান্ধবী ছিলেন অমৃতা। সেই সূত্রে তাঁকে শুটিং দেখার জন্য ‘বেখুদি’র সেটে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল। প্রথম দেখায় ১২ বছরের বড় অভিনেত্রীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সইফ। অমৃতাকে ডেটে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
অমৃতার বাড়ির ফোন নম্বর জোগাড় করে ফেলেছিলেন সইফ। শুভ কাজে দেরি না করে অমৃতাকে ফোন করে সরাসরি ডেটে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিনেতা। নৈশভোজের জন্য বাইরে কোথাও যেতে চান বলেও জানিয়েছিলেন সইফ। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবে রাজি হননি নায়িকা।
আরও পড়ুন:
অমৃতা যে বাড়ির বাইরে নৈশভোজ সারতে পছন্দ করেন না তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সইফকে। বাইরে না গেলেও সইফকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। অমৃতার সেই প্রস্তাব ফেরাতে পারেননি সইফ।
এক সাক্ষাৎকারে অমৃতা জানিয়েছিলেন, ডেট করতে গিয়ে সইফ টানা দু’দিন নায়িকার বাড়িতেই ছিলেন। দু’জনের কেউ নাকি চার দেওয়ালের বাইরে বেরোননি। দু’দিন পর শুটিংয়ের কাজ চলে আসায় অমৃতার বাড়ি থেকে খানিকটা বাধ্য হয়ে বেরিয়েছিলেন সইফ।
ইন্ডাস্ট্রিতে কেরিয়ার শুরুর আগেই অমৃতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন সইফ। তার প্রভাব পড়েছিল সইফের পেশাজীবনেও। সইফ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, রাহুল নাকি তাঁকে অদ্ভুত শর্ত দিয়েছিলেন। ‘বেখুদি’ ছবির শুটিং কয়েক দিন হওয়ার পর সইফকে নাকি রাহুল বলেছিলেন, ‘‘সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসো। না হলে সিনেমা ছেড়ে দাও।’’
অমৃতার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন বলে সইফকে ‘বেখুদি’ ছবি থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন রাহুল। সইফের বিরুদ্ধে ছবিনির্মাতাদের অভিযোগ, সইফ নাকি ‘পেশাদার’ ছিলেন না। প্রয়োজনে ফোন করলেও পাওয়া যেত না অভিনেতাকে।
আরও পড়ুন:
বলিপাড়া সূত্রে খবর, সইফ নিজের শখ পূরণের জন্য ‘বেখুদি’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। ছবির শুটিং নাকি কানাডায় হওয়ার কথা ছিল। সইফ কানাডা ঘুরতে চেয়েছিলেন বলেই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। এই কথা পরিচালকের কানে আসায় সইফকে ছবি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।
সইফের পরিবর্তে ‘বেখুদি’ ছবিতে কাজলের বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যায় কমল সাদানাকে। কেরিয়ারের প্রথম ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন সইফ। রাহুল ভেবেছিলেন, অমৃতার প্রেমে পড়ার পর সইফ অভিনয়ে মন দিতে পারছেন না। সে কারণে তাঁকে বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু ছবিমুক্তির ৩৪ বছর সত্য প্রকাশ্যে আনলেন পরিচালক রাহুল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাহুল জানান, সইফ সেই সময় অপেশাদারের মতো আচরণ করতেন। নিজের কাজকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না তিনি। এমনকি, সেটে মদ খেয়ে এসে নাকি শুয়েও পড়তেন সইফ। এই ধরনের কথা মাঝেমধ্যেই শুনতে পেতেন রাহুল।
রাহুল বলেন, ‘‘আমি কাজের জায়গায় কোনও রকম অবহেলা সহ্য করি না। সইফ প্রেম করছিল বলে ওকে ছবি থেকে সরাইনি। এগুলো ভুল কথা। ওর অপেশাদারিত্বের জন্য কাজ হারাতে হয়েছিল। সইফ খুব দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল। সেটে কখনওই সময়ে পৌঁছোত না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে ও নিজেকে পরিবর্তন করেছে, তা দেখে আমার ভাল লাগে।’’
১৯৯১ সালে অমৃতা যখন কেরিয়ারের সাফল্যের চূড়ায়, সেই সময় সইফকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু সইফ অভিনেতা হিসাবে তখনও সফল হতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে ‘পরম্পরা’ ছবিতে অভিনয় করে সইফ তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন।
সইফের প্রথম ছবি মুক্তির দু’বছর পর ১৯৯৫ সালে সইফ এবং অমৃতার কন্যা সারা আলি খানের জন্ম হয়। সইফ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁর উপার্জন কম হওয়ার কারণে দিনের পর দিন তাঁকে কড়া কথা শোনাতেন অমৃতা। ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক বিষিয়ে যেতে থাকে।
২০০১ সালে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন সইফ। একই বছর সইফ এবং অমৃতার পুত্রসন্তান ইব্রাহিম আলি খানের জন্ম হয়। কিন্তু অমৃতার সঙ্গে সইফের সংসারে আরও ফাটল ধরতে থাকে।
১৩ বছরের বিবাহিত জীবন শেষ করে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন সইফ এবং অমৃতা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, পাঁচ কোটি টাকার চুক্তিতে অমৃতার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল সইফের। বিচ্ছেদের পর আড়াই কোটি টাকা অমৃতার হাতে দিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার চুক্তি হয়।
যত দিন না পর্যন্ত সারা এবং ইব্রাহিম নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন, তত দিন সইফকে প্রতি মাসে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে যেতে হবে বলে চুক্তি হয় অমৃতার সঙ্গে। অমৃতা তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন।
২০১২ সালে বলি অভিনেত্রী করিনা কপূরের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন সইফ। বর্তমানে স্ত্রী, দুই পুত্র এবং কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত অভিনেতা। সারা এবং ইব্রাহিমের সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। কিন্তু বিচ্ছেদের পর অমৃতার সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্ক আর সহজ হয়নি।