সংলাপহীন প্রথম পূর্ণাঙ্গ ছবি 'বিল্বমঙ্গল'। সেই ছবির একশ বছরের সময় বাংলা সিনেমার ঐতিহ্যকে ফিরে দেখছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। তাঁর নতুন ছবির নাম 'মায়াকুমারী'।

‘‘তবে আমি বাংলা সিনেমার ইতিহাস নিয়ে ছবি করছি না। আমার ছবির মায়াকুমারী আর কাননকুমার চল্লিশ দশকের নায়ক নায়িকা।’’ বললেন অরিন্দম শীল। কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভালের প্রাক্কালে 'মায়াকুমারী'-র পোস্টার প্রকাশিত হল।

মায়াকুমারীর চরিত্রে দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। আর কাননকুমার আবীর চট্টোপাধ্যায়কে। সে যুগের ডাকসাইটে নায়িকা মায়াকুমারীর সঙ্গে পরিচালক— নায়ক কাননকুমারের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। অথচ মায়াকুমারী তখন শীতল ভট্টাচার্যের স্ত্রী। জটিলতা শুধু সেখান থেকেই নয়। সমসাময়িক এক ছবির দৃশ্যে চুম্বন আর খোলা পিঠের জন্য প্রিমিয়ারে নায়িকাকে থুতু ছিটিয়েছিল বাংলা ছবির দর্শক। কথিত আছে সেখান থেকেই তাঁর ছবির জগত থেকে চলে যাওয়া। সত্যি কী তাই?

আরও পড়ুন- অমৃতার কাছেই শিখেছি কী ভাবে কোনও কাজকে গুরুত্ব দিতে হয়: সইফ

 

আরও পড়ুন-গোলাপি ওয়ান পিসে কেমন নাচলেন শুভশ্রী? দেখে নিন সেই ভিডিয়ো

 

‘‘হয়তো নাহ। কেরিয়ারের মধ্য গগনে কেন স্বামী শীতল ভট্টাচার্যের সঙ্গে সব ছেড়ে চলে গেলেন মায়াকুমারী? এই ছবি সেই রহস্য খুঁজবে আজকের এক পরিচালক সৌমিত্র মল্লিকের চোখ দিয়ে যে কাননকুমারের নাতি আহিরের সঙ্গে ছবি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ তাঁর একাদশতম ছবির গল্পের মোড়ক খুলছেন অরিন্দম শীল। আবীর এই ছবিতে কাননকুমার এবং তার নাতি আহিরের চরিত্র করছেন।

'মায়াকুমারী' আসলে একটা মিউউজিক্যাল। ছবিতে ১২টা গান থাকছে। বিক্রম ঘোষের পরিচালনায় গান গাইবেন উজ্জয়িনী, মধুবন্তী, মনোময়।

‘‘ছবিটা মিউজিকাল হলেও তার মধ্যে থ্রিলার এলিমেন্ট আছে’’, যোগ করলেন অরিন্দম। তাঁর গল্পে চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন শুভেন্দু দাস মুন্সী। এই ছবি পিরিয়ড ফিল্মের অংশ তাই মেক আপের জায়গাটা মাথায় রেখে সোমনাথ কুন্ডুকে মেকআপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনেকদিন পর নিজের মনের মতো করে ছবি করছেন অরিন্দম। শীতল ভট্টাচার্যের চরিত্রে আছেন রজতাভ দত্ত। ‘‘রজতাভর মতো অভিনেতা সে ভাবে কোনও চরিত্র পায় না। সেই কথা মাথায় রেখেই এই নির্বাচন’’, জানালেন অরিন্দম শীল। ছবির শুটিং শুরু হবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। অভিষেক রায়ের পোশাক পরিকল্পনায় এই ছবিতে কাজ করবেন অরুণিমা ঘোষ, ইন্দ্রাশিষ রায়, সৌরভ দাস, অনিন্দিতা বোস,অম্বরীশ ভট্টাচার্য, জয়দীপ কুন্ডু, পালক রশিদ রায়।