উদ্ধার হল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ। সোমবার দুপুরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার যে ক্যামেরায় রাহুলদের ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল, সেটি তদন্তের জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুর আগের কয়েকটি মুহূর্ত ধরা আছে সেই ক্যামেরাতেই, এমনই ধারণা অনেকের। ওই ধারাবাহিকের শুটিং করতেই দিঘা গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্য অভিনেতা, কলাকুশলীরা। রবিবার সেখানেই সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। তার পর থেকে ঘটনাটি ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। রবিবার ঘটনাস্থলে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। শুটিংয়ের ক্যামেরার ফুটেজ ভাল ভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আশ্বাস তদন্তকারীদের।
স্থানীয় সূত্রের আগেই খবর ছিল, জলে নেমে শুটিং চলছিল। যদিও শুটিংয়ে উপস্থিত নানা জনের আলাদা মতামত ছিল। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, শুটিং চলাকালীন নায়িকা শ্বেতা মিশ্রের হাত ধরে জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাহুল। শ্বেতা ও রাহুল হাত ধরে সমুদ্রের দিকে হাঁটবেন, এমনই ছিল দৃশ্যটি। দু’জনকেই নাকি বেশি গভীরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু হাওয়া বেশি থাকায় তাঁরা পরিচালক ও অন্য কলাকুশলীদের কথা শুনতে পাননি।
ভিডিয়ো ফুটেজ উদ্ধারের পরে জানা যাচ্ছে, জলে অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পরে প্রথমে পড়ে যান শ্বেতা। তখন তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন রাহুল। বড় ঢেউ আসায় নাকি পড়ে যান অভিনেতা। তখন কলাকুশলীদের একজন শ্বেতাকে ধরতে এগিয়ে যান। শ্বেতাকে তখনই উদ্ধার করতে পারলেও রাহুল তলিয়ে যান। তার পর তাঁকে উদ্ধার করতে জলে নামে স্পিড বোট। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুট চলায় নাকি সেই দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, রবিবার হাঁটুর নীচ অবধি জলে রাহুল ও শ্বেতা ছিলেন। শট চলছিল। ড্রোন শটও নেওয়া হচ্ছিল। রাহুল তখন শ্বেতার হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন সমুদ্রের দিকে। তাঁরা চিৎকার করে বারণ করেন। কেউ কেউ বলেন, ‘যেয়ো না, যেয়ো না।’ জায়গাটি ঝুঁকিবহুল। তবু তাঁরা এগোতে থাকেন।
পরিচালক আরও জানিয়েছেন, ইউনিটে যাঁরা সাঁতার জানেন, তেমন ১০-১২ জনও এগিয়েও যেতে থাকেন রাহুল আর শ্বেতার দিকে।
আরও পড়ুন:
শ্বেতার পরনে ছিল শাড়ি। শাড়ির জন্য অভিনেত্রী টাল সামলাতে পারেননি বলে জানান পরিচালক। পরিচালকের আরও দাবি, তত ক্ষণে ওঁদের কাছে অনেকেই পৌঁছে যান। তবে জল টেনে নেওয়ায় ওঁরাও বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখন লাইফ বোটও এগিয়ে যেতে থাকে। বোটে করে ওঁদের নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেছিলেন রাহুল। শ্বেতার হাত ধরেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। রাহুলকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসার পরেও জ্ঞান ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পরিচালকের দাবি, রাহুলই হাত ধরে নাকি শ্বেতাকে নিয়ে অনেকটা এগিয়ে যান। অত গভীরে যাওয়া নাকি তাঁদের দৃশ্যের মধ্যে ছিল না।