Advertisement
০৩ ডিসেম্বর ২০২২

বলিউডে নতুন বাঙালি

নাম পত্রলেখা। অভিনয় করছেন এ বার জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকের ছবিতে। তাঁর নায়কও তাই। খোঁজ পেলেন প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্ত।এর আগে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে। তবে আপাতত বিজ্ঞাপনকে ছুটি দিয়ে এ বার পত্রলেখা বলিউডে। ৩০ মে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি। নাম ‘সিটিলাইটস’। বাফতা মনোনীত ছবি ‘মেট্রো ম্যানিলা’র অফিশিয়াল রিমেক।

‘সিটিলাইটস’য়ে রাজকুমার-পত্রলেখা।

‘সিটিলাইটস’য়ে রাজকুমার-পত্রলেখা।

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০১৪ ০০:০০
Share: Save:

এর আগে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে। তবে আপাতত বিজ্ঞাপনকে ছুটি দিয়ে এ বার পত্রলেখা বলিউডে। ৩০ মে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি। নাম ‘সিটিলাইটস’। বাফতা মনোনীত ছবি ‘মেট্রো ম্যানিলা’র অফিশিয়াল রিমেক। ছবির পরিচালক ‘শাহিদ’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার জয়ী ডিরেক্টর হনসল মেহতা। সহ-অভিনেতা রাজকুমার রাও, যিনি ওই একই ছবির জন্য এ বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

Advertisement

শুনেছি আপনি বাঙালি?

হ্যাঁ, তবে শিলং-য়ে মানুষ। কসবাতে বাবার একটা বাড়িও আছে। প্রত্যেক শীতকালে শিলং থেকে তিন মাসের ছুটি কলকাতায় এসে কাটাতাম।

Advertisement

আপনাকে কী বলে ডাকব— পত্রলেখা না অন্বিতা পল? বলিউডে আপনার নাম বদল নিয়ে অনেক চর্চা হচ্ছে...

আমার আসল নাম পত্রলেখা। ডাকনাম অন্বিতা। পত্রলেখা নামটা এত বড় যে সবাই জিজ্ঞেস করত আমার কোনও ছোট নাম আছে কিনা। তখন ডাকনামটা বলেছিলাম। সে নিয়ে এত ঝামেলা!

অনেকে বলছেন আপনার বয়ফ্রেন্ড রাজকুমার রাও-এর সঙ্গে সম্পর্কটা লুকোতেই নাম বদল করেছেন...

আমাদের সম্পর্কটা ঢাকতে যাব কেন?

এ ছবির উপস্থাপক মহেশ ভট্ট নাম পাল্টানোর ঘোর বিরোধী। অভিনয় করার সময় আমি পেশাদার। সেট-য়ে আমরা আমাদের সম্পর্কটা বয়ে বেড়াই না। সিনেমায় আমরা স্বামী-স্ত্রী।

‘সিটিলাইটস’ যে ছবিটা থেকে বানানো, সেটা আপনি দেখেছেন?

না, বলা হয়েছিল না দেখতে। আমাদের কাছে হনসল স্যারের ভিশনটা প্রাধান্য পেয়েছে। শ্যুটিংয়ের আগে রাজস্থানের একটা গ্রামে গিয়ে তিন সপ্তাহ থাকতে হয়েছিল। শিলংয়ে আমি মানুষ হয়েছি একটা ওয়েস্টার্নাইজড কালচারে। গ্রামের সংস্কৃতি থেকে তা আলাদা।

আপনি অভিনয় করলেন গ্রামের এক বৌয়ের চরিত্রে যে নাকি আবার পরে মুম্বইয়ের বার-ডান্সার হয়ে যায়। সব চেয়ে কঠিন কোন জায়গাটা লেগেছে?

যখন বার-ডান্সার চরিত্রে অভিনয় করছিলাম, তখন পত্রলেখার সত্তাটাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলাম। ওই চরিত্রে অভিনয় করার সময় খুব অপমানিত বোধ করেছিলাম। পুরুষদের চোখে লাস্য। আর তাদের একটাই লক্ষ্য। চোখ দিয়ে যেন মেয়েদের নগ্ন করে দিতে চায় তারা। অভিনয় করার সময় এই চিন্তাগুলো মাথায় এলে কাজটা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। আর একটা কঠিন দৃশ্য ছিল যখন আমার মাতাল স্বামী আমাকে অযথা দোষারোপ করতে থাকে কেন আমি এমন একটা পেশায় গিয়েছি। ওই ঝগড়ার দৃশ্যটায় অভিনয় করা বেশ শক্ত ছিল।

‘শাহিদ’য়ে রাজকুমার জেলখানার দৃশ্যে নগ্ন হয়েছিলেন। অভিনেতা হিসেবে আপনি কি এ রকম কোনও দৃশ্য করতে পারবেন?

অভিনয় করা মানেই এক চরিত্রের খোলসে ঢুকে পড়া। তার জন্য যা প্রয়োজন, সেটা আমি করতে রাজি। সেখানে কোনও ইনহিবিশন নেই।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা না বয়ফ্রেন্ড রাজকুমারের কোন সত্তাটার বিপরীতে অভিনয় করাটা বেশি কঠিন?

যখন শ্যুটিং করছিলাম, তখন রাজকুমার জাতীয় পুরস্কার পাননি। তবে আমি ওর কাজ সম্পর্কে জানতাম। বয়ফ্রেন্ড ব্যাপারটা ফ্যাক্টর ছিল না।

শোনা যায় রাজকুমারকে না কি আপনি বাংলাও শিখিয়েছেন?

আরে ও তাড়াতাড়ি ভাষা শিখতে পারে। তাই মা’র সঙ্গে বাংলায় কথা বললেই ও সেটা শিখে ফেলে। ‘কাই পো চে’ করার সময় গুজরাতি শিখেছিল। ‘সিটিলাইটস’ করতে গিয়ে রাজস্থানিও শিখেছে।

‘কুইন’য়ে রাজকুমার করেছিলেন এমন এক বয়ফ্রেন্ডের চরিত্রে যে বিয়ের আগেই পিছু হটে যায়। ওই চরিত্রে ওঁকে দেখে কী মনে হয়েছিল?

এ সব কথা থাক না। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নাই বা আলোচনা করলাম এখন।

কিছু দিন আগে কলকাতার মিষ্টি অভিনয় করলেন সুভাষ ঘাইয়ের ‘কাঞ্চী’তে। ওঁর সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব, না প্রতিযোগিতার সম্পর্ক?

বিপাশার পরে বেশ কিছু বছর লেগেছে নতুন বাঙালি অভিনেত্রীদের আবার বলিউডে কাজ করতে। মিষ্টি, বিদিতা বাগ, আমি আমাদের মতো নতুন বাঙালি মেয়েরা বলিউডে ডেব্যু করছে। আমি চাইব যাতে আমরা সবাই ভাল কাজ করতে পারি। আমি বাংলা ছবিও করেছি। সোমনাথ গুপ্ত-র ‘ডাকের সাজ’। ওঁর ‘আমি আদু’ দেখেছিলাম। আমি শুনেছিলাম যে উনি এমন এক অভিনেত্রী খুঁজছেন যে এক অবাঙালি চরিত্র করতে পারবে। অডিশন টেপ পাঠিয়েছিলাম। তার পর কাস্টিং হয়। ছবিতে ঋত্বিক চক্রবর্তীও থাকলেও ওঁর সঙ্গে আমার দৃশ্য নেই। মুমতাজ আর সাহেবের সঙ্গে আমি শ্যুটিং করেছি।

বলিউডে পা ফেলে কি আর টলিউডের দিকে নজর দেবেন?

হ্যাঁ। অপর্ণা সেনের ‘গয়নার বাক্স’, ‘দ্য জাপানিজ ওয়াইফ’ দেখেছি। ওঁর অভিনীত ‘শ্বেতপাথরের থালা’ আর ‘তিতলি’ও দেখেছিলাম। আর দেখেছি সৃজিতের ‘অটোগ্রাফ’। ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারলে ভাল লাগবে।

হিন্দি আর বাংলা—দু’টো ছবিতেই তো গান-নাচ নেই। বাণিজ্যিক ছবি কি আপনার কাছে ব্রাত্য?

না, না। নাচ-গান তো আমার দারুণ লাগে। ভাল ছবি হলেই আমি রাজি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.