সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানও উন্নত হচ্ছে, তার এক উদাহরণ রোবোটিক সার্জারি। এখন বেশিরভাগ মানুষই হাঁটুর সমস্যায় জর্জরিত, যেখানে আবার স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা করার জন্য অনেক সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। বর্তমান সময়ে হাঁটু প্রতিস্থাপনের জন্য রোবোটিক সার্জারির গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই রোবোটিক সার্জারি নিয়ে কথা বললেন মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার কনসালটেন্ট অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, এমবিবিএস, এমসিএইচ (অর্থো), এফআরসিএস (ইউকে), চিকিৎসক রাজীব বসু এবং কনসালটেন্ট - অর্থোপেডিক্স, এমবিবিএস, ডিএনবি (অর্থোপেডিক্স), রোবোটিক সার্জারি এবং স্পোর্ট মেডিসিনে ফেলোশিপ, বিক্রান্ত সিংহ রায়।
বিশদে জানতে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
রোবোটিক সার্জারি নিয়ে কথা বললেন মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার চিকিৎসক রাজীব বসু এবং চিকিৎসক বিক্রান্ত সিংহ রায়।
চিকিৎসক রাজীব বসু বলেন, “আমাদের মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ায় এই হাঁটু প্রতিস্থাপনের জন্য যে মেশিনটি আছে তার নাম হল জ়িমার বায়োমেট রোজ়া।”
এই যন্ত্রটি কী ভাবে কাজ করে সেই বিষয়ে চিকিৎসক বিক্রান্ত সিংহ রায় জানান, “এই রোবটটি সার্জন চালায়। রোবটটি নিজে থেকে কাজ করতে পারে না। আমরা এটিকে কিছু তথ্য দিই এবং সেটির উপর ভিত্তি করে এই রোজ়াটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।”
রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অনেকেই ভাবেন হয়তো রোবটই অস্ত্রোপচার করবে, সেই ক্ষেত্রে রোগীর অথবা রোগীর পরিবারের চিন্তা থাকে রোবট যদি কোনও ভুল করে হাঁটু প্রতিস্থাপন সঠিক ভাবে হবে তো! এই বিষয়ে চিকিৎসক বসু জানান, “সার্জন সবসময়েই থাকেন এবং তিনিই রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।”
এর সুবিধা হল যে তথ্যগুলি দেওয়া হয়, সেইগুলি এই রোবটের মধ্যে যে ক্যামেরা রয়েছে তা গ্রহণ করে এবং যন্ত্রের মধ্যে থাকা স্ক্রিনে সেই তথ্যগুলি আসে। তা দেখে সার্জনরা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং এর ফলে সার্জনরা অস্ত্রোপচার কী ভাবে করবেন তার সঠিক পরিকল্পনা করতে পারেন। অস্ত্রোপচারের সময় কতটা কাটা হবে, কী ভাবে কাটা হবে তার নির্ভুলতা এই যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত করা যায়।
হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক রোগীরই যে একই রকমের সমস্যা থাকবে তা নয়। চিকিৎসক বিক্রান্ত বলেন, “এই রোবটের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেক রোগীর জন্য তাদের প্রয়োজন মতো আলাদা করে পরিকল্পনা করতে পারি।”
এই রোবোটিক সার্জারি নিশ্চিত করে হাঁটু প্রতিস্থাপন যাতে নির্ভুল ভাবে হতে পারে। তার ফলে রক্তপাত কম হয় এবং হাসপাতালেও বেশিদিন থাকতে হয় না। শুধু তাই নয়, এই রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরত যেতে পারেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘মণিপাল হাসপাতাল’-এর সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।