• স্বরলিপি ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘এখন তো শুক্রবার রিলিজ হলে রবিবারই সুপারহিট লেখা হচ্ছে’

Soham Chakraborty
‘পিয়া রে’-এর লুকে সোহম।

এক দিকে অভিনয়-প্রযোজনা, অন্য দিকে রাজনীতি। দুই ময়দানেই সমান দক্ষতায় পারফর্ম করছেন সোহম চক্রবর্তী। সামনেই মুক্তি পাবে অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘পিয়া রে’। তারই প্রচারে কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের ঠান্ডা ঘরে মুখোমুখি অভিনেতা। প্রোমোশনের মাঝেই তাঁর সেকেন্ড কেরিয়ার নিয়ে নতুন ইঙ্গিত দিলেন সোহম।

ডন আর ডন টু কেমন আছে?
হা হা হা…ভাল আছে। বড় হচ্ছে, দুষ্টু হচ্ছে। তবে ছেলেদের এই নামটা কিন্তু আমার দেওয়া। ওদের ভাল নাম রয়েছে।

কী সেটা?
বড় ছেলের নাম আয়াংশ। আর দিদিমণি, অর্থাত্ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওর নাম দিয়েছেন অজস্র। ছোট ছেলের নাম অধ্যংশ।

ছেলেরা ছোট। বাড়িতে সময় দিতে পারেন?
শুটিং, রাজনীতি সামলে বাকি পুরো সময়টাই বাড়িতে দেওয়ার চেষ্টা করি।

‘পিয়া রে’-ও তো টাইট শিডিউলে শুট করেছিলেন?
এ ক্ষেত্রে অভিমন্যু, মানে আমাদের পরিচালকের কথা বলব। খুব ঠান্ডা মাথার ছেলে। কোনও চিত্কার ছিল না শুটিংয়ে। স্মুদলি ‘পিয়া রে’-র মতো একটা সিরিয়াস ছবি করে ফেলেছিলাম আমরা।

অভিমন্যুর সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন?
ওর ডিরেকশনে প্রথম কাজ। তবে ‘প্রেম আমার’, ‘বোঝে না সে বোঝে না’-তে ওর স্ক্রিপ্টে কাজ করেছি।

আরও পড়ুন, আগের সম্পর্কের সব খারাপ লাগা মুছে ফেলেছি, বলছেন শ্রাবন্তী

তা হলে তো একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলই?
অবশ্যই। ও আমার পালসটা বোঝে। আবার ও কী চাইছে সেটা আমি বুঝতে পারি। সেই জেলিংটা হয়ে গিয়েছে। আর্টিস্টকে কমর্ফট জোনে ঠেলে দেয় ও। আর আমাকে বিশ্বাস করার জন্য অভিমন্যুকে ধন্যবাদ।

আপনার চরিত্রটা কেমন?
‘পিয়া রে’ একটা রিয়ালিস্টিক গল্প বলতে পারেন। এখানে লার্জার দ্যান লাইফ কোনও চরিত্র নেই। আর এমন চরিত্র আমার প্রিয়। ‘প্রেম আমার’, ‘অমানুষ’ বা ‘বোঝে না সে বোঝে না’-তে এমন চরিত্র করেছি। এখানে আমার চরিত্রের নাম রবি। সে বন্ধুদের নিয়ে থাকে। হইহই করে। বাবার ব্যবসা দেখে। হঠাত্ই হিরোইনের সঙ্গে দেখা হয়। প্রেমে পড়ে। তার নাম রিয়া। এই ক্যারেক্টারটা শ্রাবন্তী করছে। রবি-রিয়ার রিলেশন ম্যাচিওর হয়। তার পর এমন কিছু আসে সম্পর্কের মধ্যে যে পুরোটা ঘেঁটে যায়। একটা ডার্ক শেড দেখা যায়। সেটা নিয়েই গল্প।

শ্রাবন্তীর সঙ্গে তো বেশ কয়েকটা ছবি হল আপনার? 
‘অমানুষ’, ‘ফান্দে…’, ‘শুধু তোমারই জন্য’-র পরে এটা। এর পর আসবে ‘গুগলি’, ‘বাঘ বন্দির খেলা’।

ওঁর সঙ্গেও কোঅর্ডিনেশন ভাল নিশ্চয়ই?
দেখুন, শ্রাবন্তী অসাধারণ অ্যাকট্রেস। সিনেমায় ভাল কোঅ্যাক্টর থাকার প্লাস পয়েন্ট আছে। নিজেরও সেরাটা দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন, কাস্টিং কাউচের জন্য কিছু বড় ব্যানারের ছবি চলে গিয়েছে, বিস্ফোরক সৌমিলি

এখন তো প্রচুর বাংলা ছবি হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি লাভ করছে?
সত্যি বলতে কি, সব ছবি যে প্রফিট করছে তা নয়। মার্কেট সিনারিওটা হঠাত্ই ড্রপ করেছে। সেটা কী ভাবে রিকভার করা যায় তার চেষ্টা হচ্ছে। যতই স্যাটেলাইট রাইট বা মিউজিক রাইট থাকুক, হলে গিয়ে দর্শক ছবি না দেখলে আমরা কিন্তু লাভের মুখ দেখব না।

প্রফিট করছে না বলছেন, অথচ ছবির পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে কিন্তু প্রায়ই সুপারহিট লেখা হচ্ছে।
ঠিক। আমি অভিযোগটা মেনে নিচ্ছি। পোস্টার আসছে যাচ্ছে। সুপারহিট লেখা হচ্ছে। ছোটবেলায় দেখেছি কোনও একটা সিনেমা ২৫ দিন চলার পর হিট হত। ৫০ দিন পর সুপার ডুপার হিট লেখা হত। এখন তো দেখি, শুক্রবার রিলিজ হলে রবিবারই সুপারহিট লেখা হচ্ছে। এটা সেলফ গেম। এটাতে আমি একেবারেই বিশ্বাসী নই। দর্শক যদি বলে ছবিটা ভাল। তার ওপরই নির্ভর করে কত দিন চলবে। তার পর সুপারহিট বা মেগাহিট।


‘পিয়া রে’-এর দৃশ্যে সোহম-শ্রাবন্তী।

এত ছবি রিলিজ হচ্ছে, হল পাচ্ছে কি?
এটা একটা বড় সমস্যা। সত্যিই অনেক বাংলা ছবি হল পাচ্ছে না।

এর সমাধান কী?
যদি একটু নিজেরা বসে আলোচনা করে নিই আমরা। রিলিজ ডেট কম্প্রোমাইজ করি, তা হলে বোধহয় উপায় বেরতে পারে।

প্রযোজক হিসেবে আপনি কখনও বাকিদের সঙ্গে আলোচনা করায় উদ্যোগী হয়েছেন?
দেখুন, আমাদের সরকার সদ্য ফিল্ম ডেভলেপমেন্টের একটা বডি তৈরি করেছে। আমি সেখানে ওয়ান অফ দ্য এগজিকিউটিভ মেম্বার। সরকারও এ বার এটার মধ্যে ঢুকছে। কিন্তু এটা তো একটা প্রাইভেট সেক্টর। প্রযোজকরা যদি নিজেদের স্বার্থে এটা করেন তা হলে ভাল হয়। আজ যে হাউজগুলো লড়ালড়ি করে, আমি তো তাদের একটা ছবি করেছি। আমি তো নস্যি। দেখুন, এই বিষয়টা থেকে আমি হয়তো প্রযোজক হিসেবে সরে গেলাম। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে সকলকে অনুরোধ, যদি ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে নিজেদের মধ্যে একটু কথা বলে নেন সকলে নিজেদেরই ভালর জন্য।

কিন্তু সকলেই তো ব্যবসা করতে চান।
ব্যবসা তো করতেই হবে। পুজো আছে, ইদ আছে। সেখানে কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। সেখানে একসঙ্গে এস। মানুষ অনেক অপশন পাবেন উত্সবের মরসুমে। কিন্তু বাকি সময়টা ডেট কম্প্রোমাইজ করা যেতে পারে। তবে এই করতে গিয়ে যদি প্রযোজকরা সরে যান, তা হলে আরও খারাপ হবে। ফলে একজোট না হলে ইন্ডাস্ট্রির বাঁচা মুশকিল।

আরও পড়ুন, নওয়াজের সঙ্গে যৌন দৃশ্য ভাইরাল, কী বলছেন ঈশিকা?

আপনার এই কম্প্রোমাইজের অভিজ্ঞতা আছে?
আছে তো। প্রযোজক হিসেব ‘আমার আপনজন’ ক্ল্যাশ করেছিল ‘পোস্ত’র সঙ্গে। তখন মন খারাপ হয়েছিল। তখন বুঝিনি। অনেকে বলেছিল সাত দিন বাদে রিলিজ কর। আলটিমেটলি আমি দু’সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছিলাম। দেখুন, দর্শক ছবিটা দেখবেন কি না সেটা ভাগ্য। তবে নিজেদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ঠিক রাখা উচিত।

এখন কিন্তু ওয়েব সিরিজ নিয়ে প্রচুর চর্চা হচ্ছে। আপনি দেখেন?
না! ওয়েব সিরিজ দেখি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি নেই খুব একটা। এখন ক’দিন টুইট করছি ছবির প্রোমোশনের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় না থাকার জন্য সকলে আমাকে অ্যান্টিসোশ্যাল বলে।

কিন্তু আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কমফর্টেবল নন?
আমার পোষায় না। ভাল লাগে না। নতুন আইফোন কিনে ফেসবুকে দিলাম। তাতে কী হল? সারাক্ষণ ছবি তুলতেও ভাল লাগে না। পোস্ট করতেও ভাল লাগে না।এটাই ট্রেন্ড হয়তো। আমি হয়তো ব্যাকডেটেড।

আরও পড়ুন, ‘যেখানে প্রোমোশনের সুযোগ থাকে, সেখানেই হয়তো কাস্টিং কাউচ আছে’

রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আমি পুরোপুরি মনেপ্রাণে দিদিমণিকে ভালবেসে রাজনীতি করি। আমাকে উনি একটা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমার দুর্ভাগ্য, কিছু ভোটে পিছিয়ে গিয়েছিলাম। তবে এটা তো শেখার প্রসেস। থ্যাঙ্কস টু অভিষেক। আমাকে কোনও চাপ দেয় না। শুটিংয়ের চাপটা ও বোঝে।

অভিনয় থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে কখনও আসবেন? 
ইয়েস। ফুল অন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার ইচ্ছে আছে আমার। দেখুন, দু’নৌকোয় পা দিয়ে চলা যায় না। আমি যেটা করি ডেডিকেশন নিয়েই করি। আমি তো সবে রাজনীতিতে এসেই একটা পোস্ট পেয়েছি। দায়িত্ব দিয়েছেন দিদিমণি। আমি কৃতজ্ঞ। অভিনেতা হিসেবে বাংলার প্রতিটা ঘর আমাকে চেনে। ফলে সেটা ছাড়তে পারব না। হয়তো সংখ্যা কমিয়ে দেব। বছরে হয়তো একটা ছবি করব। বাকি সময়টা রাজনীতিতে দেব।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন