Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

নেই কোনও তিক্ততা, ফারহানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বলি নায়কের ভাইয়ের সঙ্গে ডেট করছেন অধুনা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২২ এপ্রিল ২০২০ ১১:০৭
মেয়ের হেয়ারকাটের ব্যাপারে খুব সচেতন আর খুঁতখুতে ছিলেন মা। নিয়মিত নিয়ে যেতেন সালোঁতে। ছোট্ট মেয়ে সেখানে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখত সালোঁকর্মীদের হাতের নিপুণ কাঁচি-চালনা। সে দিনের সেই বালিকা পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত হেয়ার স্টাইলিস্ট হয়।  বিনোদন থেকে ফ্যাশনের দুনিয়া, সবাই একডাকে তাঁকে চেনে অধুনা আখতার নামে।

তাঁর জন্মগত নাম অধুনা ভবানী। ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্ম ১৯৬৭ সালের ৩০ মার্চ। অধুনার বাবা আশিস ভবানী ছিলেন প্রবাসী বাঙালি চিকিৎসক। তাঁর মা অ্যান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি এক জন কাউন্সেলর।
Advertisement
অধুনার পড়াশোনা ইংল্যান্ডের রেইনফোর্ড হাই স্কুল থেকে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি জয়ী হন অনূর্ধ্ব ২১ জাতীয় হেয়ারস্টাইলিং চ্যাম্পিয়নশিপে। এর পর সেই পথেই গড়ে তোলেন নিজের কেরিয়ার।

ভাই ওশ ভবানী ছিলেন তাঁর প্রথম ব্যবসার শরিক। দু’জনে মিলে তাঁদের প্রথম সাঁলো ১৯৯৮-এ শুরু করেন মুম্বইয়ে। নাম দেন ‘জুস’। পরে তাঁদের সংস্থার নাম পাল্টে যায়। নতুন নাম হয় ‘বি ব্লান্ট’। এখন হেয়ার স্টাইলিংয়ের ক্ষেত্রে এই নামটি আছে প্রথম সারিতে।
Advertisement
অধুনার বিয়ে এবং বলিউডে প্রবেশ প্রায় হাত ধরাধরি করে। তিন বছর সম্পর্কের পরে ২০০০ সালে তিনি বিয়ে করেন পরিচালক-অভিনেতা ফারহান আখতারকে। পরের বছরই মুক্তি পায় ফারহানের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘দিল চাহতা হ্যায়’। তিনি ছিলেন এই ছবির প্রযোজক-পরিচালক-গল্পকার।

বক্স অফিসে চূড়ান্ত সফল এই সিনেমা অনেক দিক দিয়েই পথ দেখিয়েছিল বলিউডকে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল নায়ক নায়িকাদের সাজসজ্জা, বিশেষত হেয়ারস্টাইল। অধুনা ছিলেন ছবির হেয়ার স্টাইলিস্ট। তিন নায়ক, আমির খান, সইফ আলি খান এবং অক্ষয় খন্নার জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন তিন রকম হেয়ারস্টাইল।

ছেলেদের হেয়ারস্টাইল নিয়েও যে এত রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করা যায়, দেখিয়ে দিয়েছিল ‘দিল চাহতা হ্যায়’। খুব জনপ্রিয় হয় ওই তিন রকমের হেয়ারস্টাইল। এই সিনেমা অধুনাকে তাঁর কেরিয়ার মজবুত করতে অনেকটাই সাহায্য করে।

বলিউড ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এর পর অধুনা নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেন। ২০০৪ সালে ফারহানের ‘লক্ষ্য’ ছবিতেও অধুনা কাজ করেছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে। এই ছবিতে তাঁর করা প্রীতি জিন্টার হেয়ারসস্টাইল নজর কেড়েছিল দর্শকদের।

প্রীতির জন্য দু’রকম হেয়ারস্টাইল তৈরি করেছিলেন অধুনা। একটা ছোট, অন্যটা লম্বা। সিনেমার শুটিং হয়েছিল লাদাখে। সেখানে চরম শীতল আবহাওয়ায় পরচুলা ঠিক রাখাই ছিল চ্যালেঞ্জ। পরে এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন, প্রীতি ও অধুনা, দু’জনেই।

অধুনার থেকে বয়সে সাত বছরের ছোট ফারহান। কেরিয়ারের পাশাপাশি দুই মেয়ে শাক্য আর আকিরাকে নিয়ে একটি নিটোল সংসারেও নিজেদের ভারসাম্য বজায় রাখতেন তাঁরা। বলিউডের সুখি দম্পতির আদর্শ উদাহরণ ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই সংসার ভেঙে গেল ২০১৬ সালে। বিয়ের ১৬ বছর পরে ডিভোর্স করলেন ফারহান ও অধুনা।

তার আগে অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, দু’জনের মধ্যে দীর্ঘ হচ্ছে ফাটল। প্রথমে শ্রদ্ধা কপূরের সঙ্গে ফারহানের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু শ্রদ্ধা কপূরের বাবা শক্তি কপূরের আপত্তিতে সেই সম্পর্ক নাকি স্থায়ী হয়নি।

ফারহান এখন অন্তরঙ্গ শিবানী দান্ডেকরের সঙ্গে। গায়িকা-সঞ্চালিকা-অভিনেত্রী শিবানীর সঙ্গে ফারহানের আলাপ রক অন টু-এর সেটে। শোনা যাচ্ছে, এ বছরের শেষে তাঁরা বিয়ে করতে চলেছেন।

তবে বিচ্ছেদের পরেও ফারহানের সঙ্গে অধুনার সম্পর্ক তিক্ত হয়নি। তাঁরা এখনও ভাল বন্ধু।

কাজের বাইরে অবসরে অধুনা ভালবাসেন বই পড়তে আর ঘোড়ায় চড়তে।

অধুনা এখন ডেট করছেন অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার ভাই নিকোলোর সঙ্গে। তবে বিয়ে করবেন কিনা, সে কথা জানা যায়নি।
(ছবি: ফেসবুক)