×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৬ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

হবু খুড়শ্বশুরদের বিপরীতে কাজ, কপূর খানদানের অভিনেত্রী-বধূর সঙ্গে নাম জড়ায় বলিউড ‘ভিলেন’-এর

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:৪৭
বলিউডের এই অভিনেত্রীর কেরিয়ার খুব একটা দীর্ঘ না। কিন্তু তা বর্ণময়। বাবা বলিউড অভিনেতা। তাঁর একটি স্টুডিয়ো ছিল। তুতো বোনও ছিলেন বলিউডের নায়িকা। তাঁদের স্টুডিয়োতে তারকার যাতায়াত লেগেই থাকত, অতএব ছবিতে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে তাঁর অসুবিধা হয়নি। বলিউডের অন্যতম ফ্যাশনিস্তাও বলা হয় এই নায়িকাকে।

এই নায়িকার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া ছিলেন এক সময়ের বিখ্যাত নায়িকা সাধনা। এদিকে জিপি সিপ্পি প্রায়ই আসতেন এই নায়িকার বাবার কাছে। মেয়েটিকে দেখেই রাজেশ খন্নার বিপরীতে পছন্দ করে ফেললেন তিনি। যদিও তাঁর প্রথম ছবি ‘দশ লাখ’ খুব একটা সাফল্য পায়নি। কিন্তু রাজেশের সঙ্গে অভিনয় দিয়েই তাঁর যাত্রা শুরু হল বলিউডে। সুপারহিট একাধিক ছবি তিনি উপহার দিলেন দর্শককে। তারপর?
Advertisement
রাজেশ খন্নার বিপরীতে যাত্রা শুরু হওয়া এই নায়িকার দুই মেয়েও নায়িকা। তাঁর স্বামীও বলিউডের একজন নায়ক। ইনি নাকি শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছায় নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিয়েছিলেন বিয়ের পরে। ১৯টি ছবি করলেও তা এখনও দর্শকরা ভোলেননি এই নায়িকার অভিনয় দক্ষতার জন্যই। চিনতে পারছেন অতীতের এই নায়িকাকে?

ববিতা শিবদাসানি নামের এই নায়িকা বিয়ের পরে হলেন ববিতা কপূর। মা ছিলেন ব্রিটিশ খ্রিস্টান, বাবা হরি শিবদাসানি ছিলেন সিন্ধি, যিনি পাকিস্তান থেকে এ দেশে এসেছিলেন। পরবর্তীতে বিয়ে হল কপূর পরিবারে। সব ধর্মের প্রতিই তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে, তাই সব উৎসবই পালন করেন, এমনই বলেন ববিতা।
Advertisement
কপূর পরিবারে সেই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ছেলে রণধীর। গ্ল্যামারাস বলিউড নায়িকা ববিতা ও রণধীরের প্রেম কাহিনি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়, কারণ কপূর খানদানে এর আগে কারও সঙ্গে কোনও নায়িকার বিয়ে হয়নি।

১৯৪৭ সালে জন্ম ববিতার। ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘রাজ’-এর কারণে তিনি হয়ে উঠলেন ফ্যাশন আইকন। চাপা কুর্তা, গোগো রোদচশমা, হুপ কানের দুল তখন স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের কাছে স্বপ্নের মতো। পরবর্তীতেত মেয়ে করিশ্মা ও করিনাও মায়ের মতোই ফ্যাশনিস্তা হয়ে উঠেছেন।

বিয়ের আগে তিনি অভিনয় করেছেন ‘এক শ্রীমান-এক শ্রীমতী’, ‘হাসিনা মান জায়েগি’ ছবিতে। বিপরীতে ছিলেন হবু খুড়শ্বশুর শশী কপূর।

হবু খুড়শ্বশুর শাম্মি কপূরের সঙ্গেও ‘তুমসে আচ্ছা কউন হ্যায়’ ছবিতে কাজ করেন তিনি। সেই ছবিও ছিল সুপারহিট। শঙ্কর-জয়কিষান থেকে লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালরাও ববিতার ছবির জন্য গান লিখতেন, কারণ সেই গান সুপারহিট হবেই এমনই ভাবতেন সঙ্গীত পরিচালকরাও।

জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর ‘অ্যারোবিক জিগস’ আজও বলিউডের ‘ট্রেন্ডসেটার’। মনোজ কুমার,ধর্মেন্দ্র, বিশ্বজিৎ, জিতেন্দ্র প্রত্যেক নায়কের বিপরীতেই তাঁর অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বজিতের বিপরীতে মনমোহন দেশাইয়ের ছবি ‘কিসমত’-এ 'আও হুজুর তুমকো' গানটির দৃশ্যায়নেও ফ্যাশনের জোয়ার এনেছিলেন ববিতা।

ববিতাকে কিন্তু রাজ কপূর বেশ পছন্দ করতেন। তবে পুত্রবধূ হিসাবে নয়, তিনি চেয়েছিলেন গ্ল্যামারাস মেয়েটি তাঁর ছেলের বিপরীতে নায়িকা হলে বেশ লাগবে।

তবে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না রাজ। রণধীর আর ববিতা কিন্তু গোপনে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, কেউ কাউকে ছেড়ে চলে যাননি।

 রক্ষণশীল পরিবারে বিয়ে করতে গিয়ে হল মুশকিল। ববিতাকে একটা বিশেষ শর্ত দেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যদিও তা কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ১৯৭১ সালে খুব সাদামাটা ভাবে বিয়ে করেন তাঁরা। শুধু পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন কয়েকজন বন্ধুও। বিয়ের পরই অভিনয় থেকে দূরে সরে এলেন ববিতা।

১৯৭৪ সালে জন্ম হল বড় মেয়ে করিশ্মা কপূরের। বড় মেয়ে হওয়ার সময় থেকেই সম্পর্কের টানাপড়েন ছিল দম্পতির। রণধীরের মদের নেশায় ববিতার সঙ্গে অশান্তি বাড়ছিল, তাঁরা একটা সময় আলাদা থাকতেও শুরু করেন। কিন্তু আবারও পরস্পর ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। ছোট মেয়ে করিনার জন্ম হয় ১৯৮০ সালে।

রণধীরের মদের নেশা বাড়তে তাকে আবারও। কেরিয়ারেও বাধা পড়ছিল। সব ছবিই ফ্লপ হতে থাকে তাঁর। দুই মেয়েকে নিয়ে একাই থাকতে শুরু করেন নায়িকা। ১৯ বছর আলাদাই ছিলেন ছিলেন দুজনে। তবে রণধীর নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা মেয়েদের উপরে চাপিয়ে দেননি কখনও।

রণধীরের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে অভিনেতা রঞ্জিতের সঙ্গেও নাকি ববিতার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। বলিউডের ভিলেনের সঙ্গে কপূর খানদানের বধূর ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশিত হয়েছিল সর্বভারতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায়।

করিশ্মা, করিনা দুই মেয়ে একটু বড় হতে সন্তানদের কারণেই আবারও পরস্পরের কাছে আসেন রণধীর। ববিতার হাত ধরেই দুই মেয়েই বলিউডে আসেন । দু’জনেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। মায়ের আশা পূরণ করেছেন সন্তানরা। কপূর পরিবারের মেয়েরা অভিনয়েও আসাও সেই প্রথম। সবমিলিয়ে কপূর খানদানে খোলা হাওয়া এনেছিলেন ববিতা, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

বিয়ের পর অভিনয়কে ছেড়ে দিয়ে পিতৃতন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন ববিতা, এমনটাই বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে মেয়েদের কেরিয়ার গড়ে বহু বছরের সেই শৃঙ্খলকেই ভাঙেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের পথে না গিয়ে বরং নিজের পায়ের তলার মাটি খুঁজে নিয়েছিলেন ব্যবসার মাধ্যমে। রণধীরের সঙ্গে আলাদা থাকার সময়, মেয়েদের বড় করার সময় নাকি কপূর খানদানের টাকাও নেননি তিনি।

তবে পরিস্থিতি পালটেছে। এখন রণধীর আর ববিতার সবচেয়ে প্রিয় তাঁদের নাতি-নাতনিরা। বিশেষ করে ছোট্ট তৈমুরের সঙ্গে দাদু রণধীরের মিলের কথাও বলেন অনেকেই। দু’জনেই ভাল আছেন সপরিবারে।