পদ্মশ্রী সম্মান আনতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখান থেকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিতে পুরীতে। তাঁর জীবনের ‘জীবন্ত ঈশ্বর’ বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পুরী থেকে ফিরে এখন বাবার কাছেই দিনতিনেক ধরে ‘ছুটি’ কাটাচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
ছেলের সম্মানপ্রাপ্তি কতটা গর্বিত করল বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎকে? আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল তাঁর সঙ্গে। কণ্ঠস্বরে গর্ব স্পষ্ট। অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক বললেন, “ছেলে আমার দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল! একা আমার নয়, চট্টোপাধ্যায় পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে বুম্বা। ছোটবেলায় যেমন স্কুলে ভাল রেজ়াল্ট করলে খুব আনন্দ হত, সে রকমই মনে হচ্ছে।” তাই একা বিশ্বজিৎ নন, তাঁর স্ত্রী ইরা, মেয়ে সম্ভাবীও খুব খুশি। সে কথা জানিয়ে বিশ্বজিৎ হাসতে হাসতে যোগ করলেন, “ইরা এত খুশি যে, ছেলেকে কোথায় বসাবে সেটাই বুঝে পাচ্ছিল না। সম্ভাবী তো দাদা ঘরে পা রাখতেই আনন্দের চোটে প্রায় কোলে উঠে পড়েছিল! তার পর বারেবারে দাদার মেডেলগুলো দেখছে।”
সন্তান ভাল কিছু করলে মা-বাবা পুরস্কার দেন। বিশেষ করে সেই সন্তান যদি দূরে থাকেন, তা হলে তাঁর আপ্যায়ন ‘বিশেষ’ হয়ে ওঠে। প্রসেনজিতের জন্য তাঁর খ্যাতনামী বাবা কি বিশেষ কিছু আয়োজন করলেন? বিশ্বজিৎ সাফ বলেছেন, “বুম্বার জন্য বিশেষ কী করব! ও তো টক দই আর শসা খেয়ে থাকে! অন্য বার গ্রিন টি খায়। এ বার এসে ইরাকে বলেছে, ‘আন্টি, চা নয়, কফি খাব’। আর নানা রকমের ড্রাই ফ্রুটস।” তবে বাবার স্বাস্থ্যের দিকে কড়া নজর ছেলের। বোনকে বলেছেন, “বাপি রোগা হয়ে গিয়েছে। ভালমন্দ খাওয়া বাবাকে। যা খেতে চায়, খেতে দিস। এত রোগা হয়ে যাওয়া ভাল নয়।”
আরও পড়ুন:
পুরস্কার নেওয়ার সময়ে কী ঘটেছিল, সেই গল্পও বাবাকে শুনিয়েছেন ছেলে। “বুম্বা বলল, ‘পুরস্কার নিতে উঠছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি আদর করে ডেকে বললেন ‘সোনা মুন্ডা’! পঞ্জাবি ভাষায় এর অর্থ, ‘ভাল ছেলে’। তার পরেই করমর্দনের জন্য হাত চেপে ধরলেন’”, বলতে বলতে হেসে ফেললেন বিশ্বজিৎ। তাঁর কথায়, “বুম্বা বলল, ‘ওঁর গায়ে কী জোর! অত শক্তি আমারও নেই। যেন ‘লৌহপুরুষ’!” ছেলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদধন্য, এ কথা শুনে কোন বাবা না খুশি হবেন? তিনি ছেলেকে পাল্টা বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদী খাঁটি মানুষ। মাটির কাছাকাছি থেকে বড় হয়েছেন। প্রচণ্ড সংযত জীবন। এমন মানুষ সব দিক থেকেই শক্তিশালী হন।”
যদিও নামেই বিশ্রাম। মুম্বইয়েও প্রসেনজিৎ ব্যস্ত তাঁর পেশাজীবন নিয়ে। বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কথা বলছেন, দেখা করছেন। এ বছর উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী। ৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ কী করা যায়, কাজের ফাঁকে বাবার সঙ্গে সেই আলোচনা করছেন তিনি। বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, রবিবার সম্ভবত কলকাতায় ফিরবেন প্রসেনজিৎ।