Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied

বিনোদন

অমিতাভকে অস্বস্তিকর প্রশ্ন থেকে বাবাকে বাড়িছাড়া করা, বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন পূজা বেদী

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ এপ্রিল ২০২০ ১৭:০৭
১৯৯১ সালে বলিউডে প্রবেশ তাঁর। ফিল্মের নাম ছিল ‘বিষকন্যা’। ফিল্মে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন পূজা বেদী। কিন্তু তাঁর ফিল্মি কেরিয়ার খুব বেশি দূর এগোয়নি।

এর পর ২০১১ সাল পর্যন্ত ফিল্ম করেছেন ঠিকই, কিন্তু সংখ্যাটা খুবই কম। আর তার চেয়েও বড় হল, ‘বিষকন্যা’-র পর আর কোনও ফিল্মেই মুখ্য ভূমিকায় সুযোগ পাননি তিনি। হাতে গোনা যে কটা ফিল্মে সুযোগ পেয়েছিলেন, সবই ছিল সাপোর্টিং চরিত্রে।
Advertisement
ফিল্মি কেরিয়ারে তেমন সাফল্য না পেলেও পূজা বেদী কিন্তু প্রথম থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গাটা ধরে রেখেছেন। তাঁকে নিয়ে চর্চায় মশগুল থেকেছে বলিউড।

কখনও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে, কখনও অমিতাভ বচ্চনকে অপ্রীতিকর প্রশ্ন করা নিয়ে, তো কখনও সলমন খানের সঙ্গে সঙ্ঘাতে গিয়ে বারবারই শিরোনামে থেকে গিয়েছেন তিনি।
Advertisement
পূজা বেদী বলি অভিনেতা কবীর বেদীর মেয়ে। তাঁর মা প্রতিমা বেদী ছিলেন এক জন ক্ল্যাসিকাল নৃত্যুশিল্পী। বাবা-মা দু’জনেই ভীষণ খোলামেলা ছিলেন। সে কারণে পূজা বেদীর বেড়ে ওঠা অনেকটা আলাদা।

পূজা বেদী প্রথম থেকেই ফিল্মে আসতে চেয়েছিলেন। তবে তাতে তাঁর মায়ের খুব একটা মত ছিল না। বাবার সাহায্যে ফিল্মে ডেবিউ করেন পূজা। কেরিয়ার শুরুর পর বারবারই শিরোনামে এসেছেন সম্পর্কের কারণে।

কখনও আদিত্য পাঞ্চোলি, কখনও কোরিয়োগ্রাফার হানিফ হিলাল... বিভিন্ন সময় অনেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। পূজা নিজেও খুব একটা অস্বীকার করেননি এ সব সম্পর্কের কথা।

পূজার জীবনে সবচেয়ে শকিং ছিল তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু। তাঁর ভাই সিদ্ধার্থ আত্মঘাতী হন বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময়। তিনি স্কিত্‌জোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন মাত্র ২২ বছর বয়সে।

এর পর পূজার মা প্রতিমা বেদীও সংসার ত্যাগ করেন। সব ছেড়ে তিনি আধ্যাত্মিকতায় যুক্ত হয়ে যান। হিমালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে কেটেছিল তাঁর শেষ জীবন। মানস সরোবরে যাওয়ার সময় এক দুর্ঘটনায় তাঁরও মৃত্যু হয়।

পর পর জীবনে দুটো আঘাত পান পূজা বেদী। প্রথমে ভাই ও পরে মায়ের মৃত্যুতে অনেকটাই একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

কবীর বেদীর জীবনে কিন্তু খুব একটা প্রভাব ফেলেনি এই ঘটনাগুলো। কবীর বেদী নিজের বর্ণময় জীবন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।

১৯৭৪ সালেই প্রতিমা বেদীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন কবীর বেদী। তার পর একাধিক মহিলার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। একাধিক বিয়েও করেন। মার্কিন মডেল সুজান হাম্পফ্রেকে ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন।

২০০১ সালে লন্ডনে কবীরের সঙ্গে আলাপ নিক্কি মুলগাওকরের। বয়সে ২০ বছরের ছোট, রেডিয়ো ও টেলিভিশনের সঞ্চালিকা নিক্কি-কে ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন কবীর। ১৩ বছর পরে ২০০৫ সালে ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য।

তৃতীয় ডিভোর্সের পরে ১১ বছর বিয়ে করেননি কবীর। ২০১৬ সালে, নিজের সত্তরতম জন্মদিনের ঠিক দু’দিন আগে তিনি বিয়ে করেন পরভিন দুসাঞ্জকে। কবীরের থেকে পরভিন বয়সে ২৬ বছরের ছোট। কবীর-প্রতিমার মেয়ে পূজার থেকে তিনি বয়সে তিন বছরের ছোট।

বাবার এই সম্পর্ক একেবারেই মেনে নিতে পারেননি পূজা বেদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সেটা খুব স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তার উপর জানা যায়, জুহুর যে ফ্ল্যাটে কবীর দেবী থাকতেন, সেটা নাকি পূজার মা প্রতিমা বেদীর নামে ছিল।

পূজা বেদী বরাবরই খোলামেলা মনের। কিন্তু বাবার এই চতুর্থ বিয়ে নিয়ে পূজা এতটাই মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন যে, বাবাকে সেই ফ্ল্যাট থেকেও বার করে দেন। এই নিয়ে খুব বিতর্ক হয়েছিল। বিতর্কের জেরে বাবার চতুর্থ বিয়ে এবং সত্ মাকে নিয়ে পোস্ট পরে মুছেও দিয়েছিলেম পূজা।

তেমন এক বার এক শো-য়ে অমিতাভ বচ্চনকে অপ্রীতিকর প্রশ্ন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। অমিতাভ বচ্চনের মাথার চুলের রং সে সময় ছিল কালো অথচ তাঁর দাড়ি-গোঁফে পাক ধরে গিয়েছিল। পূজা বেদী আচমকাই এটা কী ভাবে সম্ভব, তিনি কোনও হেয়ার ডাই ব্যবহার করেন কি না জিজ্ঞাসা করে বসেন।

এই প্রশ্নের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না বিগ বি। পরে বিগ বি শো-মালিককে ফোন করে ওই অনুষ্ঠানের সম্প্রচার নাকি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।