জনপ্রিয় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে লিখতে হবে ‘থ্যানোস’। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের পর্দায় প্রায় ১০ কোটি রেজাল্টের সঙ্গে ফুটে উঠবে অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজের সুপারভিলেনের সোনালি ধাতব দস্তানাও। তার উপরে একটা ক্লিক। আর তা হলেই পর্দা থেকে একে একে মুছে যেতে শুরু করবে সব সার্চ রেজাল্ট। খানিক পরে মোট রেজাল্টের সংখ্যাও হয়ে যাবে অর্ধেক। ঠিক যেমন করে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফি‌নিটি ওয়র’ ছবিতে এক তুড়িতে মহাবিশ্বের অর্ধেক জীবন মুছে দিয়েছিল সুপারভিলেন থ্যানোস।

বিশেষ বিশেষ দিন ডুডলের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করে গুগ্‌ল। সেই তালিকায় এ বার ঢুকে গেল ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছবির মুক্তির দিনটিও। শুক্রবার দুপুর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরেছে গুগ্‌লের এই প্রযুক্তি-জাদুর খবর। বন্যা বয়েছে শেয়ার-লাইকের। এই ছবির মুক্তি ঘিরে ভক্তদের যে প্রতিক্রিয়া, তাকে কার্যত উন্মাদনাই বলা যায়।

ছবি মুক্তির আগে ২১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল আগাম টিকিট বুকিং। প্রথম দি‌নেই ছবি দেখা নিশ্চিত করতে কেউ মাঝরাতে অ্যাপে টিকিট বুক করেছেন, তো কেউ সকাল হতেই হাঁটা লাগিয়েছেন মাল্টিপ্লেক্সের দিকে। টিকিট না পেলে হা-হুতাশ, পেলে তার ছবি-সহ উচ্ছ্বাসে ভরেছে সোশ্যাল মিডিয়া। বেশি দামেরও পরোয়া করেননি অনেকে। ফলে বুকিং শুরু হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই শহরের হলে ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই রব। প্রথম দিনই ছবিটি দেখার সুযোগ হয়নি যাঁদের, তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া, ফোন ত্যাগ করেছেন যাতে অন্যেরা গল্পের খুঁটিনাটি জানিয়ে দিতে না পারেন। ভক্তদের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করছে মাল্টিপ্লেক্সও। কোথাও এগিয়ে আনা হয়েছে সকালের শোয়ের সময়, কোথাও রাতে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত শো। সকাল ছ’টার শো-ও হাউসফু‌ল! মুম্বইয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহ তো চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা থাকছে এই ছবি দেখানোর জন্য।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এই ধরনের বড় মাপের ছবি নিয়ে অবশ্য এমন উন্মাদনা আগেও দেখা গিয়েছে। হ্যারি পটার সিরিজের শেষ ছবি হোক বা ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’, আগাম টিকিট কাটার হিড়িক লক্ষ্য করা গিয়েছে তখনও। তবে ‘এন্ডগেম’ যেন ছাপিয়ে গিয়েছে সব রেকর্ড। সিনেমা-বাণিজ্য বিশ্লেষক তরণ আদর্শ আগেই টুইট করেছিলেন, আগাম টিকিট বুকিংয়ের চাহিদা অনুযায়ী সব বক্স অফিস রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে এন্ডগেম। শনিবার তিনি টুইট করেন, প্রথম দিনেই ভারতে সিনেমাটি ব্যবসা করেছে ৬৩ কোটি টাকার! 

এত মাতামাতির কারণ কী? শুক্রবার সকালেই ছবিটি দেখে ফেলেছেন বছর সাতাশের ব্যবসায়ী অরিত্র শিকদার। তিনি বলেন, ‘‘সেই ২০০৮-এ ‘আয়রন ম্যান’ দিয়ে শুরু। সিরিজের বাকি ২১টা ছবিও একাধিক বার দেখেছি। মার্ভেল যে ভাবে ছবিগুলো তৈরি করে, সেটা কমিক ফ্যানদের কাছে বড় পাওনা। তা ছাড়া, এত দিনে চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িয়ে গিয়েছে। ‘ইনফিনিটি ওয়র’ যে ভাবে শেষ হয়েছিল, তাতে প্রিয় চরিত্রগুলোর পরিণতি কী হল, সেটা জানতেই হত। আর ছবিগুলি খুবই উপভোগ্য।’’ একই প্রসঙ্গ তুলছেন কর্পোরেট চাকুরে জিষ্ণু গুপ্তও। তিনি পছন্দ করেন সুপারহিরো ছবি বা অ্যাকশন ছবি দেখতে। এই সিরিজের সব ক’টি না দেখলেও ‘এন্ডগেম’ দেখতে যাচ্ছেন উপভোগ্য হওয়ার সব মালমশলা ছবিটির মধ্যে আছে বলেই। এর বাইরেও অবশ্য রয়েছেন আরও একদল, যাঁরা পিছিয়ে পড়তে না চেয়ে ছবিটি দেখতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যেই পড়েন স্কুলশিক্ষিকা দেবারতি ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘সবাই এত আলোচনা করছে, তাই আগের ছবিটি দেখেছিলাম। এন্ডগেমও দেখব।’’

আবেগ না বিপণন কৌশল— কোন অস্ত্রে বাজিমাৎ করছে ‘এন্ডগেম’? বিপণন বিশেষজ্ঞ রাম রায়ের সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘‘দুটোই’’!