×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৪ অগস্ট ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

শুরুতেই শেষ কেরিয়ার, মাত্র ৬ হাজার টাকার জন্য খুন হতে হয় উঠতি এই অভিনেত্রীকে

নিজস্ব প্রতিবেদন
২০ জুন ২০২১ ১৫:৫৮
ভেবেছিলেন পর্দায় দুর্দান্ত অভিনয় করে তারকা হবেন। তাঁকে দেখেই ঝলকে উঠবে ক্যামেরা। যেখানেই যাবেন অনুরাগীরা তাঁকে ঘিরে থাকবেন।

কিন্তু বাস্তবের মাটি যে অনেক কঠিন, অনেক দূরূহ। তাই জীবিতকালে তাঁকে ঘিরে আর ক্যামেরার ঝলক দেখা গেল না। বরং বিনোদন জগতের পিছনে দৌড়তে গিয়ে অকালেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হল তাঁকে।
Advertisement
তিনি এমন এক অভিনেত্রী যাঁকে মাত্র ৬ হাজার টাকার জন্য খুন হতে হয়েছিল। তাঁর সেই কাহিনি ৪ বছর পরও গায়ে কাঁটা দেয়। তিনি কৃতিকা চৌধুরি। হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতেই দেখা গিয়েছে তাঁকে।

১৯৯০ সালে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে জন্ম তাঁর। পড়াশোনা করেছেন উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূট ইন্টার কলেজ থেকে।
Advertisement
বরাবরই পড়াশোনায় মনোযাগী ছিলেন কৃতিকা। সে কারণে মা-বাবা ভেবেছিলেন তিনি পড়াশোনা নিয়েই থাকবেন। কিন্তু তা শেষমেশ হয়নি। কৃতিকার লক্ষ্য ছিল বলিউড।

পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তাই অভিনয় শিখতে দিল্লি চলে আসেন তিনি। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে দিল্লি থেকেই।

দিল্লিতে তাঁর পরিচয় হয় বিজয় দ্বিবেদী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। বলিউডে নামজাদা পরিচালকদের সঙ্গে ওঠাবসা রয়েছে বলে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন বিজয়।

কৃতিকা বিশ্বাস করেছিলেন বিজয়কে। তাঁর সঙ্গেই মুম্বই চলে আসেন তিনি। ক্রমে তাঁদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়ে যায় এবং মু্ম্বইয়ে দু’জনে বিয়ে করে থাকতে শুরু করেন।

তত দিনে ছোটখাটো মডেলিং করতে শুরু করেছিলেন কৃতিকা। ২০১১ সালে ‘পরিচয়’ নামে একটি হিন্দি ধারাবাহিকেও সুযোগ পান।

তার পর ২০১৩ সালে কঙ্গনা রাণাউতের ছবি ‘রাজ্জো’-তেও সুযোগ পান। এর বাইরে কয়েকটি ধারাবাহিকে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। তবে কোনওটাই তাঁর মনের মতো চরিত্র ছিল না।

যে বিজয়ের উপর ভরসা করে তিনি মু্ম্বই এসেছিলেন, কৃতিকার কেরিয়ার সেই বিজয়ের কোনও অবদান ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করেছিল।

এরই মধ্যে ২০১৬ সালে আচমকা তাঁদের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে বিজয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিজয়ের গ্রেফতারের পর তাঁর কুকীর্তি সামনে আসে স্ত্রী কৃতিকার।

তারকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই আসা নবাগতদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন বিজয়। এ রকমই এক মহিলার থেকে ২২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। সেই অপরাধেই গ্রেফতার হন বিজয়।

বিজয়ের এই কীর্তি সামনে আসার পরই তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে দেন কৃতিকা। তার পর মু্ম্বইয়ের লোখান্ডওয়ালার একটি এক কামরায় ফ্ল্যাটে একা থাকতে শুরু করেন।

২০১৭ সালে ১২ জুন ওই ফ্ল্যাট থেকেই তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্গন্ধ পেয়ে যখন পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছয় তখনও তাঁর পরিচয় জানত না পুলিশ।

এক কামরায় ওই ফ্ল্যাটের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র তখনও চালু ছিল। তাঁর ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি যাওয়ারও কোনও প্রমাণ মেলেনি।

এই ঘটনায় প্রথমেই প্রাক্তন স্বামী বিজয়কে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ। কিন্তু বিজয় এই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কৃতিকার ফ্ল্যাটে শেষ বার এঁদেরই ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। জেরায় ওই দু’জন খুনের কথা স্বীকারও করেন। কিন্তু খুনের কারণ জেনে হতচকিত হয়ে যায় পুলিশ।

অবসাদগ্রস্ত কৃতিকা ক্রমে মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে পড়েছিলেন। ওই দু’জনের কাছ থেকে তিনি মাদক কিনতেন। কৃতিকার থেকে নাকি তাঁরা ৬ হাজার টাকা পেতেন। বার বার বলা সত্ত্বেও যা কৃতিকা দিচ্ছিলেন না।

শেষে ওই ৬ হাজার টাকার জন্যই খুন হন কৃতিকা। ধারালো অস্ত্র নিয়ে কৃতিকার মাথায় বারবার আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয় তাঁর।