×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

‘বাহুবলী’-র মতো ব্লকব্লাস্টারেও ছিল এতগুলো ভুল! আগে খেয়াল করেছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ২৭ জুন ২০১৯ ১২:১৫
মাহিষ্মতি রাজ্য, যুদ্ধ, প্রেম, গোপন শত্রুতা, প্রেমের জন্য সিংহাসন ছেড়ে দেওয়া, প্রজা ও রাজার সম্পর্ক— কী নেই এই ছবিতে। চোখ ধাঁধানো পোশাক, আর্ট ডিজাইন ও গ্রাফিক্সে বলিউডকে নতুন করে ‘ব্লকবাস্টার’-এর সংজ্ঞা শিখিয়েছিল এই ছবি। ‘বাহুবলী দ্য বিগিনিং’ ও তার সিকোয়েল ‘বাহুবলী দ্য কনক্লিউশন’। সমান হিট সিকোয়েলটিও।

কিন্তু এই দুই ছবিতেও এত ভুল! এস এস রাজামৌলির কি চোখ এড়িয়ে গেল? আপনিও কি ছবি দু’টি দেখার সময় খেয়াল করেছেন এই সব বড় ভুল! নাকি অভিনয়, টানটান গল্প ও যুদ্ধের উত্তেজনায় ধরতেই পারেননি এ সব ত্রুটি?
Advertisement
হাতির তাণ্ডব চালানোর দৃশ্যটির কথা ভাবুন। পিছনেই হাতি মারমুখী হয়ে আছে, সকলে ছুটোছুটি করছেন প্রাণভয়ে। এমন দৃশ্যে অবলীলায় এক জন হাসছেন! পরিচালক বা সম্পাদকের চোখ এড়ালেও তা খেয়াল করেছেন অনেকেই।

এই তাণ্ডবের সময় একটি শিশু মাথায় আঘাত পায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখাও যায়। কিন্তু তাণ্ডব শেষ হলে পরের দৃশ্যেই দেখা যায় তার মাথায় কোনও আঘাতের চিহ্ন নে, উল্টে সেও হাসি মুখে ফুল ছুড়ছে।
Advertisement
বাহুবলীর শুরুর দৃশ্যে কিছু অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। রাজমাতা যখন শিশু বাহুবলীকে নিয়ে নদী পেরোচ্ছিলন তখন একবার লং শটে নদীটিকে দেখান পরিচালক। নদীতে তখন যা জল দেখানো হয়, তা হেঁটেই পেরিয়ে আসা যায়। কিন্তু নদীর ভিতরেই পিছলে গিয়ে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার পর দেখা যায় জল হঠাৎই খুব বেড়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এমনটা কী করে হয়?

একটি দৃশ্যে দেখা যায় প্রতীকী দানবের দিকে বিশাল একটি লোহার দণ্ডে আগুন লাগিয়ে ছুড়ছেন বাহুবলী। অথচ পরের দৃশ্যেই দানবের পেটে গিয়ে যখন সেই অগ্নিশলাকা বিঁধছে, তার দৈর্ঘ্য কমে এতটুকু হয়ে যায়! এও এক কন্টিনিউয়েশনের ভুল।

একটি দৃশ্যে দেখা যায়, বাহুবলীর বাঁ হাত ফাঁকা, ডান হাতে একটি তরোয়াল। কিন্তু যখনই ক্যামেরার মুভমেন্ট বদলানো হল, অমনি তার ডান হাতে কুঠার কী ভাবে চলে এল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এমন ভুল কিন্তু এই ছবির আরও কয়েকটি দৃশ্যে রয়েছে।

দেবসেনার মারামারির দৃশ্যে ভুলবশত এক জন ডামিকে স্পষ্টতই চিনিয়ে ফেলছেন পরিচালক। দেবসেনার পোশাক পরা সেই ডামির হাত ও পা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তিনি তো দেবসেনা নন, এমনকি কোনও মহিলাও নন। তিনি এক জন পুরুষ!

ষাঁড়দের দৌড়ে যাওয়ার দৃশ্যে লং শটে দেখা যাচ্ছে সব ক’টা ষাঁড় দুধসাদা। এ দিকে পরের দৃশ্যে ক্যামেরা জুম করলে দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে একটি ষাঁড় কালচে হয়ে গিয়েছে।

একটি দৃশ্যে দেখা যায় বল্লালদেবের বাবা উত্তেজিত হয়ে টেবিলের সব গ্লাস ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু পরের দৃশ্যে সব কাচের গ্লাসগুলি অক্ষত অবস্থায় টেবিলের উপরেই দেখা যায়। এ কী ভাবে সম্ভব?

বাহুবলীর দড়ি বেয়ে ঘরের ভিতরে আসার একটি দৃশ্য ছবিতে দেখানো হয়। কিন্তু তার পরেই যখন ঘর থেকে বেরনোর প্রয়োজন পড়ে, তখন সেই দড়ি উধাও হয়ে যায় এবং দেখা যায় ঘর থেকে লাফিয়ে নীচে নামছেন বাহুবলী। এও কন্টিনিউয়েশনের ভুল বলেই দাবি সিনেমাপ্রেমীদের।

এক দৃশ্যে বল্লালদেব ও তার বাবার পিছনে একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু পরের দৃশ্যেই দেখা যায় মহিলার বদলে এক জন পুরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন সেখানে।

বাহুবলী ও দেবসেনা যখন যৌথ ভাবে তিরের লড়াই করে শত্রু দমন করছেন, তখন তাঁদের তূণে মোটেও সব মিলিয়ে গোটা দশ-বারোর বেশি তির ছিল না। তাঁদের তূণও ‘অক্ষয়তূণ’ নয়। তা হলে শয়ে শয়ে শত্রু দমনের পরেও তূণে একই পরিমাণ তির অবশিষ্ট থাকে কী করে! কেবল কন্টিনিউয়েশনই নয়, এ ভুল বেখেয়ালেরও। যুদ্ধে এমন অযৌক্তিক বিষয় বারবারই ঘটেছে।

বাহুবলীর কাঁধে পা দিয়ে ওঠার সময় দেবসেনা যে নৌকোতে ওঠেন পরের দৃশ্যেই সেই মাঝারি মাপের সাদামাটা নৌকোটি বিরাট ময়ূরপঙ্খীতে পাল্টে যায়। সিন টু সিন শুট করার সময় এই ডিটেলিংগুলোয় নজর দিতেই পারতেন পরিচালক।

একটি দৃশ্যে রথের চাকায় ধাক্কা লেগে বাহুবলীর ঢাল বেঁকে যায়। পর মুহূর্তেই কন্টিনিউয়েশন দৃশ্যে সেই ঢাল আবার মজবুত ও অক্ষত দেখা যায়।

বিয়ের প্রস্তাব দিতে শিবগামী বল্লালদেবের তরোয়ালটি কুন্তল সাম্রাজ্যে পাঠান। তাঁর কথা মতো, মন্ত্রী তরোয়াল দিয়ে দেবসেনাকে প্রস্তাব গ্রহণ করতে বলেন। ভুল বোঝাবুঝির শুরু হয়। কাটাপ্পা এবং অমরেন্দ্র ভেবে বসেন, বাহুবলীর জন্যই বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তা কেন ভাববেন? বাহুবলীর তরোয়াল তো তাঁর কাছেই ছিল এবং কাটাপ্পা তা দেখেনও। তা হলে এই সংশয় তৈরি হল কেন?