Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

এ বার ফিল্মে আম-আদমি

২৬ মার্চ ২০১৪ ০০:০০
‘আঁখো দেখি’

‘আঁখো দেখি’

বাঘ যে গর্জন করে তা বুঝবেন কী ভাবে?

এমন প্রশ্ন শুনলে পাশের বাড়ির বুবাই-বিল্টুরা হেসে গড়াগড়ি যাবে। টেলিভিশনের চ্যানেল খুললেই তো কত বাঘের ছবি! সেখানেই তো বাঘের গর্জন শুনতে পাওয়া যায়।

কিন্তু এই একই প্রশ্ন রজত কপূর পরিচালিত ‘আঁখো দেখি’র বাউজিকে করে দেখুন। বুবাই-বিল্টুরা যতই টেলিভিশন দেখা বাঘের গল্প বলুক না কেন, বাউজি কিন্তু সে সব যুক্তিতে কান দেবেন না। যতক্ষণ না চিড়িয়াখানায় নিজে গিয়ে খাঁচার বাইরে দাঁড়িয়ে বাঘের গর্জন না শুনবেন, ততক্ষণ কিছুই মানতে রাজি নন তিনি।

Advertisement

শুধুই কি বাঘের গর্জন?

দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম যে ডা. মনমোহন সিংহ, সেটা বললেও বাউজি নির্লিপ্ত ভাবে বলে বসেন “হবে হয়তো!’’

তাঁর যুক্তি: ‘নিজের চোখে তো তিনি এ সব দেখেননি!’ তাই হবে হয়তো।

অদ্ভুত চরিত্র এই বাউজি। দিল্লির এক নিম্নবিত্ত পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য তিনি। ‘আঁখো দেখি’ ছবির নায়ক। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে কঙ্গনা রানাওত অভিনীত ‘কুইন’ ছবির রানি চরিত্রটি ছিল ফিল্মি আলোচনার শিরোনামে। বাউজি যে রানিকে সিংহাসনচ্যুত করেছেন, এমনটা দাবি করা যায় না। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রানির পাশে নজরকাড়া এক আসনে অভিষেক হয়েছে এই বাউজির।


‘ফড়িং’



র তাই প্রশ্ন উঠছে যে এই বাউজির হাত ধরেই কি আরও এক বার বলিউডে ফিরে আসছে আম-আদমিকে নিয়ে সিনেমা? রাজনীতির মঞ্চে আম- আদমির দাপট থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু সিনেমার ক্ষেত্রে তারাই আজ মুখ্য ভূমিকায়। তারাই ছবির নায়ক। তবে অক্ষয়কুমার অভিনীত ‘স্পেশাল ছাব্বিশ’ অথবা জিৎ-আবির অভিনীত ‘দ্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার’-এর ঘরানায় সে ছবি পড়ে না। সেখানে না আছে গ্ল্যামারের ছোঁয়া, না তথাকথিত ভাষায় তারকা-খচিত কাস্টের সমারোহ। যেখানে পুঁজি বলতে অভিনয়ের ধার। আর মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত জীবনের সংকট এবং স্বপ্ন ধরতে পারা একটা চিত্রনাট্য।

টেস্ট ম্যাচ বনাম টি-টোয়েন্টি

ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার ছাত্র সঞ্জয় মিশ্র। অভিনয় করেছেন ‘আঁখো দেখি’-র বাউজির চরিত্রে। পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত সঞ্জয় মূলধারার বলিউড ছবিতেই ভাঁড় অথবা ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে এসেছেন। আর এই সঞ্জয়কে মাথায় রেখেই রজত লিখেছিলেন ‘আঁখো দেখি’-র চিত্রনাট্য। “রজতকে কুর্নিশ জানাই আমাকে নিয়ে এ রকম একটা চিত্রনাট্য লেখার জন্য। আজকাল দেখি লোকে এসে আমাকে ঢিপ করে প্রণাম করতে চাইছে! আমি তো হতভম্ব! এত দিন সিনেমা করছি। কিন্তু এই রকম প্রতিক্রিয়া পাইনি,” বলছেন সঞ্জয়।

অনেকে তো আজকাল তাঁকে বাউজি বলেই ডাকতে শুরু করেছেন। “মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির সঙ্গে আমার কোনও সংঘাত নেই। সামনে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘ভূতনাথ রিটার্নস’ আর সলমন খানের ‘কিক’ করছি। তবে ওই সিনেমাগুলোকে আমি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বলি। আর ‘আঁখো দেখি’ হল টেস্ট ম্যাচ। ঠিক করেছি বছরে একটা অন্তত টেস্ট ম্যাচ খেলবই,” সঞ্জয় জানাচ্ছেন।

ওই একই ছবিতে সঞ্জয়ের স্ত্রী-র ভূমিকায় রয়েছেন সীমা পাহোয়া। এক সময় ‘হামলোগ’ সিরিয়ালে বারকির চরিত্রে অভিনয় করে সাঙ্ঘাতিক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই সীমা। তার পর নাসিরুদ্দিন শাহ্-র সঙ্গে মোটলে গ্রুপ-য়ে থিয়েটার করেন। মাঝে ‘সর্দারি বেগম’, ‘ফেরারি কি সওয়ারি’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তবে ‘আঁখো দেখি’র পরে যে সাড়া পেয়েছেন তা একেবারে আলাদা।

“কমার্শিয়াল ছবির মাধ্যমে মানুষ রিলিফ খোঁজে। আর এই ছবি সেটা তাদের দিয়েছে। প্রেক্ষাপটে বাস্তবের ছোঁয়া। আর চরিত্ররা ততোধিক বাস্তব। দেহরাদূনে একটা কাজে এসেছি আমি। রাস্তায় কত লোকের সঙ্গে দেখা হল যাঁরা বলছেন যে আমার অভিনয় নাকি তাঁদের মা-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মনে হয় এই ধরনের আরও চিত্রনাট্য লেখা উচিত,” বলছেন সীমা।

বলিউড করে দেখাচ্ছে

সঞ্জয় আর সীমার মতে এই ধরনের টেস্ট ম্যাচ খেলা বেশ কিছু বছর ধরে শুরু করে দিয়েছে বলিউড। রজত মনে করিয়ে দিচ্ছেন দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খোসলা কা ঘোসলা’। বলছেন, “দিবাকর যখন ওটা ডিরেক্ট করেছিল, তখন বোমান ইরানি এত জনপ্রিয় ছিল না। ‘ওয়ে লাকি লাকি ওয়ে’ ছবিটিও মধ্যবিত্ত সমাজের পটভূমিতে বানানো। অনুরাগ কাশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এর কথাও ভাবুন। দ্বিতীয় অংশটা অসাধারণ লেগেছিল আমার!”

সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনর’-য়ের প্রেক্ষাপট ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এর থেকে আলাদা। কিন্তু সেখানেও নায়ক ছিল চিত্রনাট্য। নীরজ পাণ্ডের ‘আ ওয়েডনেসডে’ এবং রাজকুমার গুপ্তার ‘আমির’য়ের প্রেক্ষাপটে ধরা পড়েছে সাধারণ মানুষের দিনলিপি। সাম্প্রতিক কালে আনন্দ গাঁধী তো মিশরের এক পরিচালিকাকে অভিনেত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তাঁর ‘শিপ অব থিসিয়াস’-য়ের জন্য। সেখানে ধরা পড়ে এমন এক ভারতের চেহারা, যা হিন্দি সিনেমার পর্দায় এর আগে এ ভাবে দেখা যায়নি। অজয় বহেল-এর ‘বি.এ.পাস’ ছবির নায়ক এবং তার সেই লাস্যময়ী ‘আন্টি’ গল্পে উঠে এসেছিল মধ্যবিত্ত সমাজ থেকেই। যদিও ইরফান এবং নওয়াজউদ্দিন, দু’জনেই জনপ্রিয়, এটা বলা যেতেই পারে তাঁদের অভিনীত ‘দ্য লাঞ্চবক্স’য়ের প্রেক্ষাপট সাদামাঠা জীবনধারাকে কেন্দ্র করেই। হয়তো ‘দো বিঘা জমিন’, ‘পার’, ‘মির্চ মসালা’ বা ‘পথের পাঁচালী’ তৈরি হচ্ছে না। কিন্তু আবারও মাটির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে হিন্দি ছবিতে। ঠিক যে ভাবে তা পাওয়া গিয়েছিল টিউবওয়েল বিতরণ কাণ্ড নিয়ে তৈরি ব্ল্যাক কমেডি ‘পিপলি লাইভ’য়ে। ছবিটি তো গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। “তা অবশ্য অনেকটাই হয়েছিল কারণ সে ছবির প্রযোজক ছিলেন আমির খান,” বলছেন রজত।

‘শিপ অব থিসিয়াস’

‘অপুর পাঁচালি’তে অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

টিকে থাকা সহজ নয়

দশ বছর ধরে কনটেন্ট নির্ভর ছবি পরিচালনা করে যাচ্ছেন রজত। বলছেন যে প্রত্যেক বার একটা ছবি বানাতে গেলে নতুন করে স্ট্র্যাটেজি ভাবতে হয়, যাতে প্রযোজক টাকা বিনিয়োগ করতে রাজি হন। অর্ধেক সময় প্রযোজকের মুখে শুনতে হয় “স্ক্রিপ্টটা ভাল। কিন্তু সেখানে কি কোথাও একটা গুন্ডা বা ‘ভেজা ফ্রাই’-য়ের মতো কোনও এলিমেন্ট ঢোকাতে পারেন আপনি?” আসলে ‘ভেজা ফ্রাই’-য়ের সাফল্যের পর থেকে দেখেছি প্রযোজকদের একটা ধারণা হয়েছে যে এই ধরনের চিত্রনাট্যে টাকা বিনিয়োগ করলে ৫ শতাংশ চান্স থাকে ছবিটা হিট হয়ে যাওয়ার। ওই লাভের আশা নিয়েই তাঁরা বিনিয়োগ করেন। আগে তো সরকারের পুঁজিতে ছবি করা যেত। “এখন এই ধরনের ছবি বানানোটাই একটা স্ট্রাগল। তবে মাল্টিপ্লেক্স আসাতে এগুলো রিলিজ করাতে একটু সুবিধে হয়েছে। ‘আঁখো দেখি’ একটা ট্রেন্ড শুরু করবে কি না জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, ভাল গল্প বলে আমরা টিকে থাকবই,” বলছেন রজত।

বাংলা কি পিছিয়ে পড়ছে?

শুধু হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে নয়, টলিউডেরও উচিত এই পথেই এগোনো। এমনটাই মনে করছেন পরিচালক অঞ্জন দত্ত। বলছেন একটা সময় ছিল, যখন বাংলা সিনেমায় সাধারণ মানুষের কথা থাকত। হিন্দি ছবির অনেক আগেই বাংলা ছবিই তো এ সব করে দেখিয়েছিল। মৃণাল সেন, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের পরেও বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, নব্যেন্দু ভট্টাচার্য, গৌতম ঘোষ, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী তাঁদের ছবিতে সাধারণ মানুষের কথা বলতেন। কিন্তু বাংলা ছবির চেহারাটা পাল্টাতে শুরু করল ৯০-য়ের গোড়ার দিক থেকে। “ঋতুপর্ণ ওর ছবিতে দেখাতে শুরু করল উচ্চমধ্যবিত্ত বাঙালিদের। আর অনিরুদ্ধ (রায়চৌধুরী) আর আমি ফোকাস করলাম গ্লোবাল বাঙালি আর অল্পবয়সি জেনারেশনের দর্শকের দিকে,” বলছেন অঞ্জন।

তার ফলে শেষ পাঁচ বছরে বাংলা ছবির ধারণাটা আবার পাল্টেছে। ছবিতে চাকচিক্য এসেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়বস্তুর দৈন্যতা পরিষ্কার ধরা পড়েছে। “শুধুমাত্র উচ্চবিত্তদের ব্যক্তিগত সঙ্কটের গল্প। সে ছবিতে শুধু সাউথ সিটির হাইরাইজে বসে লোকে কফি আর ওয়াইন খায়। সব কিছুই আরোপিত। মেকি। সেখানে আসল বস্তি নেই, লোকাল ট্রেন নেই। আমাদের সিনেমায় অন্য রিয়েলিটিটা কোথায়? অসম, এমনকী নর্থ-ইস্ট-এর ছবিতেও সেটা দেখতে পাচ্ছি। টলিউডে টুকরো টুকরো কিছু চেষ্টা হয়েছে। যেমন ‘ফড়িং’ আর ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’,” বলছেন অঞ্জন।

সমস্যা কোথায়?

‘ফড়িং’-য়ের পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী বলছেন মূল গণ্ডগোলটা হচ্ছে যখন দশ দিনের মধ্যে চিত্রনাট্য লিখে ছবি বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। বলছেন, টলিউডে স্টার সিস্টেম দু’ভাবে কাজ করে। এক ধরনের ছবি আছে যেগুলো তারকাদের জোরে ‘রেস্ট অব বেঙ্গল’য়ে চলে। আর আছে অন্য একটা ঘরানার ছবি যেখানে কিছু মাঝারি মানের তারকাদের নিয়ে অনসম্বল কাস্ট-এর ছবি করা হয়। “এ ভাবে কাস্টিং করে টেলিভিশনে সে ছবিগুলোর বিক্রয়যোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু সারভাইভ করতে হলে আউট অব দ্য বক্স ভাবতেই হবে,” বলছেন ইন্দ্রনীল। প্রশ্ন করছেন যে আর কত দিন ঋতুপর্ণ ঘোষকে অনুসরণ করে বাঙালি পরিচালকরা উচ্চমধ্যবিত্তদের বসার ঘরের গল্প বলে যাবেন? “সে সিনেমার চরিত্ররা হয় সফ্টওয়্যার কোম্পানি না হয় বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করে। আর তাদের গল্পগুলো হল মিডল ক্লাস আর আপার মিডল ক্লাস মানুষদের আশা-আকাঙ্খাকে কেন্দ্র করে। আমাদের অবশ্য অভ্যেসই হল যে-জিনিস বলিউড করে, তা চার-পাঁচ বছর পর আমরা এখানে নকল করি। এক সময় তামিল-তেলুগু ছবির রিমেক করত বলিউড। আমরাও তা করতে শুরু করলাম। এখন বলিউডে স্ক্রিপ্টকে প্রাধান্য দিয়েই ছবি হচ্ছে। হয়তো নকল করতে গিয়ে অচিরেই সে ট্রেন্ডও আমাদের এখানে চলে আসবে,” বলছেন ইন্দ্রনীল।



হাল ছেড়ো না বন্ধু

৬০-৭০’য়ের দশকে সত্যজিৎ রায় আর মৃণাল সেনের বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘আকালের সন্ধানে’ আর ‘পদাতিক’য়ের অভিনেতা বলছেন, “এটা বলব না যে এই ধরনের ছবি এখানে একেবারেই দেখতে পাচ্ছি না। তবে বলব শতাংশের হিসেবে সংখ্যাটা কম। আমার তো মনে হয় সেটা অন্য ইন্ডাস্ট্রিতেও যে খুব বেশি, তা নয়। দর্শকেরও একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে এখানে। ‘আঁখো দেখি’র মতো ছবি যদি লোকে হলে গিয়ে না দেখে, তা হলে কী করে চলবে?”

টলিউড সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কালে এখানে তথাকথিত ‘অল্টারনেটিভ মেনস্ট্রিম’ ছবি তৈরি শুরু হয়েছে। “যেহেতু আমরা হিরো-হিরোইন, নাচ-গানের বিকল্প তৈরি করতে পেরেছি, আমরা মনে করছি সেটাই একমাত্র বিকল্প। আমার মনে হয় এটারও একটা বিকল্প তৈরি হবে। ৬০-৭০য়ে যে ধরনের ছবি আমরা দেখেছি, তা তৈরি হত একটা রাজনৈতিক আর সামাজিক চেতনা থেকে। ‘আঁখো দেখি’ ছবিটাও সেই চেতনা থেকেই বানানো। হয়তো টলিউডে সেই কনসার্নটা এখন নেই,” বলছেন তিনি।

তবে পরিবর্তনের আশা রাখছেন তিনি। বলছেন একটা স্পার্ক-য়ের প্রয়োজন। তা হলেই হয়তো চিত্রনাট্যগুলো একটু অন্য রকম ভাবে লেখা হবে। অঞ্জন দত্তও উদ্যোগ নিয়েছিলেন দশ জন পরিচালককে দিয়ে আলাদা আলাদা শর্ট ফিল্ম তৈরি করে একটা আস্ত ফিচার ফিল্ম বানানোর। “যেখানে বেনিয়াপুকুর থেকে তালতলা কলকাতার বিভিন্ন সব পাড়ার গল্প থাকবে। তবে এখনও দশ জন সমমনস্ক পরিচালকের খোঁজ পাইনি। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ সব করলে তবেই তো বাংলা এগোবে,” বলছেন অঞ্জন।

অভিনেতা চাই, শুধু তারকা নয়

এই ধরনের ছবি আরও তৈরি হলে তা অভিনেতাদের পক্ষে মঙ্গলের। এমন সব নায়ক-নায়িকা আছেন, যাঁদের পুঁজি শুধু অভিনয়ক্ষমতা। সব ইন্ডাস্ট্রিতেই আজকাল একটা নতুন চল শুরু হয়েছে ছবির ভাল ওপেনিংয়ের জন্য স্টারদের দিয়ে ওয়ার্কশপ করিয়ে ডি-গ্লাম চরিত্রে অভিনয় করানোর। এর ফলে ভাল অভিনেতাদের সুযোগ আরও কমে আসে। কিন্তু ‘পিপলি লাইভ’য়ে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি বা ‘জলি এলএলবি’তে সৌরভ শুক্ল-র মতো অভিনেতাদের জায়গা দিয়েছে। তাতে ছবির মান বেড়েছে। “এটা করলে শুধু অভিনেতা নয়, দর্শকের পক্ষেও মঙ্গল। সময় এসেছে যাতে ‘মার্কেট’ও এই বিষয়ে সচেতন হয়,” বলছেন সৌরভ।

টলিউড আস্তে আস্তে ভাল অভিনেতাদের জায়গা করে দিচ্ছে। ‘ফড়িং’ প্রসঙ্গে ছবির দুই শিশুশিল্পী আকাশ অধিকারী আর সৌরভ বসাক-এর নাম বারবার উঠে এসেছে। সৌরভের বাবা ট্যাক্সি চালান। কোনও দিন অভিনয় করেনি। আকাশের বাবা মারা গিয়েছেন। তাঁর একটা গ্যারেজ ছিল। প্রথম ছবি করেই আকাশ-সৌরভ প্রশংসা পেয়েছে। “আমার পরের ছবির নাম ‘পিঙ্কির সঙ্গে এক রাত্তির’। ছবিতে পিঙ্কি বসিরহাটের মেয়ে। তার বাবা ওয়ান শটার বন্দুক তৈরি করে। কোনও তারকাকে পিঙ্কির রোলে নেব না আমি। ছবির মূল দু’টো চরিত্রে (এক প্রোমোটার ও তার ড্রাইভার) থাকছেন দুই পরিচিত মুখ। তবে ছ’বছর আগে যখন তাঁদের মাথায় রেখে স্ক্রিপ্টটা লিখেছিলাম, তখন তাঁরা কেউ-ই এত জনপ্রিয় ছিলেন না। কাস্টিংয়ের সময় স্ক্রিপ্টই আমার ডিকটেটর,” বলছেন ইন্দ্রনীল।

‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ পরিচালনার পরে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য লিখতে শুরু করেছেন ‘ভাই ভাই গুরুভাই’য়ের চিত্রনাট্য। ছবিটি বানাবেন অল্প বাজেটে। এবং কাস্টিং হবে স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। “কলকাতার দুই গ্যাং-য়ের লড়াই নিয়ে এই কমেডি। ছবিতে তারকা থাকতেই হবে, এমন কোনও মানে নেই। যাঁরা অভিনয়টা জানেন, তাঁদের নিয়ে ছবি করতে চাই,” বলছেন প্রদীপ্ত।

সামনেই মুক্তি পাবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অপুর পাঁচালি’। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পার্নো মিত্র থাকলেও সে ছবির নায়ক অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়ের জগতে অপরিচিত মুখ। সম্পর্কে কৌশিকের শ্বশুরমশাই। “যে কোনও স্টারকেই আমি ওই চরিত্রে নিতে পারতাম। কিন্তু সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় (সত্যজিৎ রায়ের অপু-র ভূমিকায় যিনি অভিনয় করেছেন)-এর চরিত্রে ওকে দারুণ মানিয়েছে,” বলছেন কৌশিক।

তাঁর পরের ফিল্মের নাম ‘ছোটদের ছবি’। সেখানে নায়ক দুই বামন।



নাম দুলাল সরকার আর উমা রায়।

দক্ষ মেক-আপ আর্টিস্টের সাহায্যে তিনিও তারকাদের নিয়েই এই ছবি পরিচালনা করতে পারতেন। অমিতাভ বচ্চনকে তো সে ভাবেই ছোট ‘অরো’ সাজিয়ে বাল্কি পরিচালনা করেছিলেন ‘পা’। কোনও তারকা অভিনয় করলে ছবির প্রচারেও কাজে লাগে। কিন্তু কৌশিক তা করেননি। বলছেন, “না, ‘আপ্পু রাজা’র পথে হাঁটিনি। আমার এই নায়ক-নায়িকারা শু্যটিংয়ের সময় একবারও নিজেদের চুল ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে যাবে না। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য থাকবে।” আরও বলছেন, যে ভাবে সিনেমা তৈরি হচ্ছে সেখানে চিত্রনাট্যই বেছে নেবে অভিনেতাদের। শুধুমাত্র সেই তারকারাই টিকে থাকবেন যাঁরা অভিনয় করতে পারেন।

তবে আপাতত এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে বাউজির ভাষায় বলতে হয়, ‘হবে হয়তো’।

আরও পড়ুন

Advertisement