Advertisement
E-Paper

Abhishek-Shatabdi: দিল্লিতে, তাই দু’দিন পরে আসতে বলেছি, ওকে কি একেবারে বারণ করেছি: শতাব্দী রায়

অভিষেক কি টের পেয়েছিল, ও না ফেরার দেশে যাচ্ছে? তাই শেষ বারের মতো দেখা করার জন্য অত আকুতি জানিয়েছিল?

শতাব্দী রায়

শতাব্দী রায়

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ ১৫:০৩
 অভিষেক চট্টোপাধ্যায়কে ফিরে দেখলেন  শতাব্দী রায়।

অভিষেক চট্টোপাধ্যায়কে ফিরে দেখলেন শতাব্দী রায়।

কিছুতেই চোখের জল বাঁধ মানছে না। রবিবারে ওকে শেষ বার দেখেছি। তখনও জানি না, ওটাই আমাদের শেষ দেখা। ও আমার বহু ছবির নায়ক। ও আমার খুব ভাল পড়শি। আমায় স্টার জলসার রিয়্যালিটি শো-এর জন্য বলেছিল। রাজি হইনি। তখন অভিষেক বলেছিল, একটা ভিডিয়ো করে দিতে। রাজি হয়েছিলাম। বারবার আমার বাড়িতে আসতে চেয়েছিল। বলেছিলাম, ‘‘দিল্লি চলে যাচ্ছি। এখন এসো না। দু’দিন পরে এসো।’’ এ ভাবে ও একেবারে চলে গেল! আমি কি ওকে বরাবরের মতো আসতে বারণ করেছিলাম?

কী করে কলকাতায় ফিরব? কী করে অভিষেককে শেষ দেখা দেখব? এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছি না, আমার ‘নায়ক’ নেই! খাটে শুয়ে আছে। টিভির পর্দায় দেখছি। মুখে-চোখে কী প্রশান্তি! যেন রাজার মতো ঘুমিয়ে রয়েছে। ডাকলেই হাসতে হাসতে উঠে পড়বে। দেখছি আর বলছি, চিকিৎসক ভুল বলেননি তো! হয়তো অন্য চিকিৎসক ওকে দেখে বলবেন, কিচ্ছু হয়নি! অভিষেক একদম সুস্থ।

যেমন ভাল নায়ক, তেমনি সুপুরুষ। তেমনই ভাল মানুষ। প্রতিবেশী হিসেবেও তুলনা হয় না। একই বহুতলের ১২ তলায় আমি, সাত তলায় অভিষেক। আমার বাড়িতে পরিচারিকা নেই। অভিষেককে বলেছি, এক জন পরিচারিকার ব্যবস্থা করে দেবে? সঙ্গে সঙ্গে জবাব, দেখছি। পরিচারিকা জোগাড়ও করে দিয়েছে। অভিনয় ছাড়াও ওর সঙ্গে শো করতে গিয়েছি। অভিষেকের জনপ্রিয়তা দেখার মতো! বিশেষ করে মেয়েরা ওঁর জন্য পাগল হতেন। সেই সময় টলিউডকে যে চার স্তম্ভ কাঁধে করে ধরে রেখেছিলেন, তাঁদের অন্যতম অভিষেক। কিন্তু কী অমায়িক ও! কোনও চাহিদা নেই। কোনও অহঙ্কার নেই। মুখ ফুটে কখনও, কিচ্ছু চায়ওনি। এই জন্যই হয়তো বড় পর্দায় যে ভাবে ওকে দেখা যেতে পারত, সে ভাবে দেখা গেল না। বদলে যদিও ও ছোট পর্দায় পুষিয়ে নিয়েছে। কোনও দিন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে অভিষেক পা মেলাল না। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অনুরোধ জানালেই বলত, ‘‘আমার তৃণমূল শতাব্দী। ও আছে। আবার আলাদা করে আমি কেন?’’

অভিষেক প্রচণ্ড ঠাকুর ভক্ত। সব পুজো হয় ওর বাড়িতে হয়। দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, সরস্বতী পুজো বাঁধা। সেখানে আমার সপরিবারে নিমন্ত্রণ। খুব খাওয়াতে ভালবাসত তো। তাই প্রায়ই পার্টি দিত। হুল্লোড়ে মাতত। একই ভাবে সিড়ডি সাঁইবাবার বড় ভক্ত ছিল। প্রতি বছর নিয়ম করে যেত আশ্রমে। উদ্‌যাপনে অংশ নিত। খুব রাগ হচ্ছে অভিষেকের উপরে। কেন নার্সিংহোমে গেল না চিকিৎসা করাতে? কার উপরে এত অভিমান? গেলে সঠিক চিকিৎসা হত। সুস্থ হয়ে যেত। নাকি, সেটা হওয়ার নয় বলেই হল না?

অভিষেক কি টের পেয়েছিল, ও না ফেরার দেশে যাচ্ছে? তাই শেষ বারের মতো দেখা করার জন্য অত আকুতি জানিয়েছিল? খুব আফশোস হচ্ছে। এই আফশোস রাখি কোথায়!

Shatabdi Roy abhishek chatterjee Tollywood
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy